গ্রীষ্মকাল, মঙ্গলবার, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৩:৩৬
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

ইলেকট্রনিক হুন্ডিতে ঝুঁকছে প্রবাসীরা,ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকার…

admin

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

অর্থ ও সময় বাঁচাতে ইলেকট্রনিক হুন্ডিতে ঝুঁকছে প্রবাসীরা। যার ফলে বাংলাদেশে বৈধভাবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কমে গেছে। গত ১০ মাসে রেমিটেন্স কমেছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। যার প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা কম পাঠানো ও প্রবাসী কর্মীদের আয় কমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ইনফরমাল ইকোনমি ক্রমেই বড় হয়ে যাবে। ফলে অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ ঠিকঠাক থাকবে না। তা অর্থনীতির জন্য শেষ বিচারে ক্ষতির কারণই হবে। যা দেশের জন্যই সত্যি উদ্বেগজনক। কারণ অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ফরমাল চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়া দরকার। এতে সরকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানান, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে (জুলাই-এপ্রিল) ব্যাংকিং চ্যানেলে ৮১ হাজার ১শ ৮ কোটি টাকা রেমিটেন্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ হাজার ৭শ ৩৫ টাকা কম। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রেমিটেন্স আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রবাসীরা ১ হাজার ৩শ ৬১ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। যা ২০১৫ সালের তুলনায় ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ কম।

এর আগে ২০১৩ সালেও প্রবাসীরা তার আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন। গত কয়েক বছর ধরে বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ধসের ধারা স্পষ্ট।

রেমিটেন্স প্রবাহে কেন ধস নামছে? ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা কম পাঠানো নেপথ্য অনুসন্ধানে নেমে বেশ কয়েকজন প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেলো ‘ইলেকট্রনিক হুন্ডি’র কথা।

দেশে মোবাইল ব্যাংকিং অর্থ স্থানান্তরে বিপ্লবকে পুঁজি করে সুবিধা নিচ্ছে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। বিদেশে থাকা এজেন্ট ও দেশের মোবাইল ব্যাংকিংকে কাজে লাগিয়ে দেশের গ্রাহকদের সহজে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে তারা। আর একেই বলা হচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক হুন্ডি’।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হতে পারে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে আগ্রহ কমে যাওয়া। প্রবাসী কর্মীরা ‘বিকাশ’, হুন্ডিসহ নানা উপায়ে দেশে টাকা পাঠাতে আগের চেয়ে বেশি উৎসাহবোধ করছেন। কারণ ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কম।

এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে সে টাকা পেতে ১-২ দিন সময় লেগে যায়। টাকা তুলতে আবার ব্যাংক পর্যন্ত যেতে হয়। আর ইলেকট্রনিক হুন্ডির মধ্য দিয়ে টাকা পাঠালে তা পাওয়া যায় ২-৪ মিনিটে। খরচের হিসাব করলে দেখা যায় দেশে বিকাশের লেনদেনের খরচের সমান। তাই প্রবাসীরা এখন এই ইলেকট্রনিক হুন্ডিতে আকৃষ্ট হচ্ছে।

সিঙ্গাপুর অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠাতে তাদের কমপক্ষে ৫ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। তাছাড়া যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মিলে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠাতে খরচ হয় ১৮ সিঙ্গাপুরী ডলারের কাছাকাছি।

তারা জানান, এ হিসাবে সিঙ্গাপুর থেকে কেউ যদি বাংলাদেশে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে চায় তাহলে ব্যাংকের মাধ্যমে তার খরচ হয় সব মিলিয়ে ১৮ সিঙ্গাপুরী ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮০ টাকা। অন্যদিকে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে হলে খরচ হবে মাত্র ৬শ টাকা। খরচ ও সময় বাঁচানোর জন্যই প্রবাসীরা বিকাশের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। সিঙ্গাপুরে এখন ‘বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পাঠান দ্রুত’ লেখা ব্যানার প্রায় সব জায়গায়ই দেখতে পাওয়া যায় বলেও জানান তারা।

এদিকে জনশক্তি রফতানি বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়াও রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ। সৌদি আরবে কাজ করতে নতুন যাওয়া শ্রমিকরা এখন সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৮শ রিয়াল আয় করতে পারেন, যা আগের তুলনায় অনেক কম। আবার নতুন নিয়মে অফিসিয়ালি যে বেতনে কাজ করতে যান, তার চেয়ে বেশি টাকা পাঠাতে পারেন না কর্মীরা। ফলে নির্ধারিত কাজের বাইরে ‘অড জব’ করে তারা যে টাকা আয় করেন তা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে পারেন না।

তিনি বলেন, ফরমাল বা ব্যাংকিং সেক্টরে ডলারের রেট কম হওয়া ছাড়াও টাকাটা বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের হাতে পৌঁছানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। সে সুযোগ বিকাশ বা অন্য কোনো ইনফরমাল সিস্টেমে পাওয়া যায়। আবার ইরাক ও লিবিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক থাকলেও সেখান থেকে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা নেই।

এই জনশক্তি রফতানি বিশ্লেষকের মতে, কাতারসহ আরও কয়েকটি দেশে গিয়ে শ্রমিকরা প্রতিশ্রুত বেতন পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছেন তারা কোনোভাবেই বাংলাদেশে মূদ্রামানে ১০-১৫ হাজার টাকার বেশি বেতন পান না মাসে। ঐসব দেশে প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে, যারা বাংলাদেশি শ্রমিকদের ঠকায়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)’র অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, আমরা দেখেছি গত ১ বছরে টাকার সাথে ডলারের বিনিময় হারে ব্যাংকিং এবং ইনফরমাল সেক্টরে ব্যাপক পার্থক্য ছিল। প্রতি ডলারে ইনফরমাল সেক্টরে ৭-৮ টাকা বেশি পাওয়া গেছে। এই ব্যাপক তফাতের কারণে আন-অফিসিয়াল চ্যানেলে অনেক রেমিটেন্স বাংলাদেশে এসেছে বলে বলা হয়ে থাকে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স আসা কমেছে। এটা উদ্বেগজনক। কারণ অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ফরমাল চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়া দরকার। এতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ব্যক্তির কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে বিনিয়োগ করায় যেহেতু নানা বিধিনিষেধ আছে, তাই শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অনেক বিনিয়োগকারী বিদেশেই তহবিল সংগ্রহ করছে। তারা সেখানেই প্রবাসীদের আয় নিয়ে নিচ্ছেন। হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পরিশোধ করছেন।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে যাতে প্রবাসীরা টাকা পাঠান- সেজন্য সরকারকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। ডলারের বিনিময়হার গ্রহণযোগ্য করতে হবে। আর বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর দিকে মনযোগী হতে হবে। সংখ্যার চেয়ে দক্ষ শ্রমিকের ওপর জোর দিতে হবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ১ কোটি প্রবাসী বছরে পাঠান ১৫ বিলিয়ন ডলার। আর ফিলিপাইনের ৩৫ লাখ প্রবাসী বছরে পাঠান ২৫ বিলিয়ন ডলার। এখানেই দক্ষ শ্রমিকের গুরুত্ব স্পষ্ট।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে তারা নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা দেশের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির হাতে তুলে দিচ্ছেন। এ তথ্যটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও অগোচর নয়।

তবে ইলেকট্রনিক হুন্ডি বন্ধে নিজেদের অপারগতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা বিদেশে কোনো ব্যাংকে মোবাইল ব্যাংকিং করার অনুমতি দিইনি তাই তা বন্ধ করার ক্ষমতাও আমাদের নেই। এটা ঐ দেশের সরকার যদি মনে করে তাদের জন্য ক্ষতিকর তখনই বন্ধ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঐ সূত্রটি বলেছে, ‘হুন্ডির’ মাধ্যমে টাকা পাঠালে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি টাকা পান ঠিকই কিন্তু সেটা দেশের উপকারে আসে না। রেমিটেন্সের ওপরও এটা প্রভাব ফেলে মারাত্মক। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। তাছাড়া হুন্ডির টাকার কোনো হিসাব থাকে না, এ কারণে এ টাকা জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসী কর্মকা-ে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেমিনারে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে, অবৈধভাবে টাকা পাঠানোর মানেই হলো দেশে কোনো মানুষের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া বা খারাপ কাজে উৎসাহিত করা।

অ-হা-১২-০৬-১৭-০০-২০-

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।