গ্রীষ্মকাল, শুক্রবার, ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,২৫শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১২:৪৯
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

“গায়ে হলুদ”ও বাঙালির অনুষ্ঠান নিয়ে বিরাট প্রশ্ন…

admin

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

আজকাল বাঙালি মুসলিম বিয়েতে ” গায়ে হলুদ” ও বাঙালি আচার অনুষ্ঠান নিয়ে বিরাট প্রশ্ন উদ্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে “নব্য ধার্মিক ” যারা তারা গায়ে হলুদ ও বাঙালি আচার অনুষ্ঠান বন্ধ করে তাদের “ধর্মীয়” চেতনা ও অনুভুতি রক্ষায় উঠে পড়ে লেগেছে । ধর্মের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে “চরিত্র”.যেমন বিভিন্ন রসায়নিক বস্তুর ধর্ম বিভিন্ন প্রকার। আমি মনে করি “ধর্ম” সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যপার আর “জাতি” সমষ্টিগত ব্যপার। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করাটা ঔদ্ধত্য। ৭১’মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি রক্ষা। কিন্তু আজ আমরা আমাদের মুক্তিজুদ্ধের চিন্তা ও চেতনাকে হারাতে বসেছি এই নব্য ধার্মিকদের ভয়ে কিম্বা মগজ ধোলাইয়ের কারণে। পাকিস্তানিরা তখন বলত “ইসলাম খাতরে মে হ্যায় ইসকো বাচানেকে লিয়ে বাঙালি মারো”। এখন নব্য ধার্মিকরা বলে ইসলাম ঝুকির মুখে বাঙলি ও তার শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস কর ।
যদিও আমি ধর্মীয় আলোচনায় যাচ্ছিলাম না । কিন্তু ভেতর আগুন জ্বলে যখন ভাবি সাড়ে সাত কোটি বাঙালি যুদ্ধ করেছে শুধু রাজাকাররা ছাড়া। ৩০ লক্ষ শহীদ আর ৩ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময় আমাদের বাংলাদেশ ,বাঙালি জাতি ,বাঙালির শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি। আজ এক শহীদ পরিবারের ছেলের বিয়েতে বাঙালি আচার অনুষ্ঠান ও গায়ে হলুদ নিয়ে বিরাট প্রশ্ন উদ্ভব হচ্ছে।এর চাইতে দুঃখের আর কি আছে ? সারা পৃথিবীতে বহু মুসলিম আছে তারা কিন্তু তাদের সংস্কৃতি পালন করে ,এমন কি “আরব দেশ” যাকে ইসলাম ধর্মের সুতিকা ঘর বলা হয় তারাও তাদের শিল্প সংস্কৃতি পালন করে। সেখানে তাদের ধর্মের সাথে সংস্কৃতির কোনো সংঘর্ষ নেই। এটা আমাদের উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলাদশে এই ধর্মের সাথে সংস্কৃতির সংঘর্ষ “নব্য ধার্মিকদের” কারণে প্রকট আকার ধারণ করছে।এই সামান্য লেখনীর মাধ্যমে যদি বাঙালি মন-মননের

ও চেতনা জেগে উঠে, এই আমার প্রয়াস।

সংস্কৃতি হচ্ছে জীবনের দর্পণ। সংস্কৃতি ও কৃষ্টি একটি জাতির শেকড়। আমরা বাঙালি হিসেবে গর্বিত বোধ করি।বাংলা ভাষা বাংলাদেশ নিয়েও আমাদের গর্বের শেষ নেই। আমরা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি বিশ্ব ভাষা দিবস হিসেবে এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে পেয়েছি আর রক্ষা করেছি হাজার বছরের বাংলা সাহিত্য ,সংস্কৃতি ,কৃষ্টি ও আমাদের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যের ধারক বাহক বাঙালি।বাঙালির প্রাণের আবেগ ও ভালোবাসায় নবজাগরণ সৃষ্টি হয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য গ্রামীণ মেলা, পুতুলনাচ,যাত্রাপালা, জারি সারি, ভাটিয়ালি গান, দাঁড়িয়াবাঁধা, গোল্লাছুট, কানামাছি, হাডুডু, লাঠিখেলা । তেমনি গায়ে হলুদ বাঙালি জাতির বহু প্রচলিত একটি উত্সব। বাঙালির এই প্রাচীন ঐতিয্য ও সংস্কৃতি সঙ্গে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই অথবা পরিপন্থী নয় ।

১৬/৫/২০১৭/০-১৮০-১৭/আ/হৃ/

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।