গ্রীষ্মকাল, মঙ্গলবার, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৪:১৬
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

১০টি ব্যাবহার কখনোই বাচ্চাদের সাথে করবেন না…

admin

নূরজাহান নীরা, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

বাচ্চা লালন পালন নিঃসন্দেহে একটি বড় দায়িত্ব ও কঠিন কাজ। বাবা মায়ের বাচ্চাদের সাথে ব্যবহার ,আচার-আচরণ, বাসার পরিবেশ, বাবা মায়ের মধ্যকার সম্পর্ক ইত্যাদি অনেক প্রভাব ফেলে। আমরা অনেক সময় অন্যের রাগ বাচ্চাদের উপর ঝেড়ে ফেলি। অল্পতেই বিরক্ত হয়ে বাচ্চাদের বকাবকি করি। কিন্তু বুঝতে হবে সে মাত্র একটা বাচ্চা! যে ৯০% কাজই করছে না বুঝে। এসময় বাচ্চাদের সাথে প্রচুর ধৈর্য ধারণ করতে হয়। আমরা ফিজিক্যাল এ্যাবিউজের ব্যাপারে বলি কারণ তা দেখা যায়।কিন্তু আমাদের কারণে বাচ্চারা যে মেন্টাল এ্যাবিউজ হয় তা দেখা যায়না বলে আমরা সে ব্যাপারে সচেতন থাকিনা।বলে বাচ্চাটি দিনের পর দিন সাফার করতে থাকে। আসুল তাহলে জেনে নেই ১০ ধরনের বাচ্চাদের সাথে ব্যবহার যা করা একেবাই উচিৎ না এবং যা বাচ্চাদের মেন্টাল এ্যাবিউজের বড় কারণ।

বাচ্চাদের সাথে যে ১০টি ব্যবহার কখনোই করবেন না 

চিৎকার চেঁচামেচি করাঃ

বাচ্চাদের সাথে চিৎকার করে কথা বলা মোটেও উচিৎ না। বাচ্চারা এই সময় তার আশেপাশের পরিবেশ থেকে সবকিছু শিখতে থাকে ও নিজের মধ্যে তা ধারন করে নেয়। একটি ৩ বছরের বাচ্চা অনেক কাজ করে যেন মনেহয় সে সব বুঝে।কিন্তু সে মাত্র ৩ বছর বয়সের! ওরা না বুঝেই অনেক কথা বলে বা কাজ করে। ওরা ভুল করলে তা যে কেন ভুল নিজেও জানেনা। আপনি যখন তাদের সাথে চিৎকার করবেন,বকবেন ওরা ভাববে পছন্দ না হলেই চিৎকার করা যায় এবং এরপর কিছু পছন্দ না হলেই চিৎকার করবে,আপনার সাথে তর্ক করবে না বুঝেই।

বাচ্চাদের দোষ ধরাঃ

কিছু বাবা মা আছেন যারা সব সময় বাচ্চারা একটু ভুল করলেই তা নিয়ে বকবেন। এটা একেবারেই ঠিক না।বাচ্চারা ভুল করবেই।কিন্তু বাচ্চারা যখন সঠিক কাজটা করতে হবে তখন বেশি বেশি প্রশংসা করতে হবে এবং ভুল কিছু করলে ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়ে বলতে হবে।না বকে সঠিক কাজকে বেশি প্রশংসা করলে বাচ্চারা সেটা করতেই আগ্রহ পাবে বেশি। আর যদি সে ৫ বার ঠিক করে ১ বার ভুল করে তবে সেই ভুলকে অবশ্যই ক্ষমা করা যায়।এক্ষেত্রে বকা মোটেও সল্যুশন না।

বাচ্চার প্রতিটা ডিসিশন নিজে নেওয়াঃ

বাচ্চারা ছোট হলেও ওদের নিজেদের পছন্দ অপছন্দ তৈরি হয়ে যায় ৩ বছর থেকেই। সব ব্যাপারে বাচ্চাদের ডিসিশন নিজে নিবেন না বা বাচ্চাদের প্রতিটা কাজ নিজে করে দিবেন না। ওদেরও ডিসিশন নেওয়ার সুযোগ করে দিন। যেমন ২ টা পোশাক দিয়ে এর মধ্যে কোনটা পরবে জানতে চাইতে পারেন। ২ টা পোশাক আপনিই ঠিক করলেন,কিন্তু এই ২ টার মাঝে একটা নিজে ঠিক করার সুযোগ পেয়ে ওরা ভাববে ওদের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। বাচ্চার সব কাজ নিজে করে, সব ব্যাপারে নিজে ডিসিশন নিয়ে তাকে মেশিনে রূপান্তর করবেন না।তাকে চিন্তা করার, ডিসিশন নেওয়ার সুযোগ করে দিন।

বাচ্চাকে থ্রেট দিবেন নাঃ

বাচ্চাকে দিয়ে কাজ আদায় করার জন্য অনেকেই বাচ্চাকে থ্রেট দিয়ে থাকে যা অবাস্তব বা যেসব কাজ নিজে করবেনা।যেমিন তাড়াতাড়ি খাও নয়তো তোমাকে কালো বিড়ালের কাছে দিয়ে দিবো বা যদি কথা না শোব তোমাকে অনেক মারবো ইত্যাদি।এসব থ্রেট দিলে বাচ্চারা প্রথমে ভয় পেলেও পরে বুঝে যায় এসব মিথ্যা কথা।তখন তারা নিজেরাও কাজ দায়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয় বা বাবা মাকে তারা যা ভয় পায় তা দিয়ে থ্রেট দিতে চেষ্টা করে।তাছাড়া বাচ্চাদের ভালোবেসে বুঝালেই কাজ হউ তখন অযথা থ্রেট দিয়ে নিজে বাচ্চার কাছে খারাপ বানানো মোটেও উচিৎ না।

বাচ্চাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করাঃ

অনেকেই ভাবে ছোট বাচ্চা কি বুঝে? কিন্তু বাচ্চা ছোট হলেও ওদের আত্মসম্মানবোধ থাকে। বাচ্চার কোন ভুল নিয়ে বা লজ্জা পায় এমন কোন কথা নিয়্র মোটেও কারও সামনে হাসাহাসি করা উচিৎ না।এমনকি বাচ্চাকেও এসব বলে হাসাহাসি করা উচিৎ না।এতে বাচ্চারা মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অভিশাপ দেওয়াঃ

বাচ্চাকে তার ভুলের জন্য অভিশাপ দেওয়া খুবই ভয়ংকর কাজ।সব সময় অভিশাপ দিলে বাচ্চারা বিশ্বাস করা শুরু করতে থাকে যে তারা আসলে এসবেরই যোগ্য।তারা নিজেরাও অভিশাপ দেওয়া শিখখে এবং বাইরের মানুষকে, এমনকি বাবা মাকেও অভিশাপ দিতে থাকে।তাছাড়া বাবা মায়ের দুয়া বেশি কবুল হয়।আল্লাহ না করুক আমরা এমন কোন অভিশাপ রাগের মাথায় দিয়ে দিলাম যা সত্য হওয়ার পর নিজেরাই কষ্ট পেলাম।

তুলনা করাঃ

প্রতিটা বাচ্চা আলাদা। একই মায়ের পেটেরও একেক সন্তান একেক রকম হয়। তাই অন্য বাচ্চা কে কি করতে পারে আর আপনার সন্তান কি করতে পারলোনা তা নিয়ে তুলনা করা যুক্তিহীন। সবার সব কাজ করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা থাকেনা।তাই অন্যদের সাথে তুলনা না করে নিজের সন্তানকে বুঝার চেষ্টা করেন ও তার যোগ্যতা অনুযায়ী তাকে কাজ করতে দেন।

সব ব্যাপারে উপদেশ দেওয়াঃ

একটা ছোট বাচ্চা কোন কাজে বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেনা।২ বছরের একটা বাচ্চা সর্বোচ্চ ৬ মিনিট একটা ব্যাপারে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে এবং ৪/৫ বছরের বাচ্চা সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট।তাই তাদের একটা বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উপদেশ দিয়ে লাভ নাই বরং তারা ঐ ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যাবে।

অবিশ্বাস করাঃ

২/৩ বছরের বাচ্চারা যখন মিথ্যা বলে তারা বুঝেই না মিথ্যা কি।নিজেদের কোন বকা বা রাগারাগি থেকে বাঁচাতেই একটা অজুহাত দাড়া করিয়ে দেয়।আপনি যদি নিজের সন্তানকে বিশ্বাস না করেন তাহলে তারাও অবিশ্বাস করা শিখবে এবং যেহেতু সত্য বললে বিশ্বাস করেন না তাই মিথ্যাই বেশি বলবে।সবচেয়ে ভয়ংকর হলো আপনি বিশ্বাস করবেন না এই ভয়ে সে হয়তো তার সাথে হওয়া ফিজিক্যাল এ্যাবিউজের কথা গোপন করে রাখবে।

নাশকতাঃ

কিছু বাবা মা আছে যারা সন্তান পালনের ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করে। বাচ্চাদের অতিরিক্ত মারে, বা এমন শাস্তি দেয় যা ভয়ংকর। আমি মনেকরি বাচ্চা পালনের আগে এসব বাবা মা এর মানসিক চিকিৎসা হওয়াটা খুব জরুরী। একটা বাচ্চা কোন ভাবেই এমন শারীরিক নির্যাতনের জন্য যোগ্য না।শুধু বাচ্চা না কেওই এমন নির্যাতনের শিকার হওয়ার যোগ্য না।এভাবে মারলে বাচ্চারা মানসিক ভাবে আঘাত পায় এবং মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যায়।তারা নিজেরা কোন কাজ করতে,ডিসিশন নিতে, লাইফে এগিয়ে যেতে ভয় পায়।

৩/৫/২০১৭/৬০/

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।