গ্রীষ্মকাল, বুধবার, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,৩০শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১:৫২
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

৩০৪ কোটি টাকায় নির্মাণ হচ্ছে চট্রালা নদী…

admin

ডেস্ক রিপোর্ট , বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

চট্রগ্রাম বন্দরনগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১৪ বছরে ব্যয় হয়েছে ৩০৪ কোটি টাকা। তার পরও প্রতি বর্ষায় পানিতে ডুবে যায় নগর। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে জলাবদ্ধতা দূর করার প্রতিশ্রুতি মেলে। তবে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি নগরবাসীর। জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পও নেননি কোনো মেয়র। রুটিনওয়ার্ক করে সময় পার করেছেন তারা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের দুই বছর পার হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনিও কোনো নতুন প্রকল্প নেননি। জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৪ সালে পাস হওয়া খাল খনন প্রকল্পও আলোর মুখ দেখেনি। এ বছর খনন কাজ শুষ্ক মৌসুমের পরিবর্তে বৃষ্টির মৌসুমে শুরু করায় জলাবদ্ধতা নগরবাসীর কাছে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে নগরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম চাক্তাই ও মহেশখালসহ ১৭টি খাল।

মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, ‘একসঙ্গে তিনটি সংস্থার উন্নয়নযজ্ঞ চলছে নগরে। বৃষ্টি হলেই নির্মাণ সামগ্রীসহ খুঁড়ে রাখা মাটি নালা ও খালে পড়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া বহদ্দারহাটের একটি নালা বন্ধ করে দিয়ে ফ্লাইভারের পিলার নির্মাণ করেছে সিডিএ। সিটি করপোরেশনকে অবহিত করারও প্রয়োজনবোধ করেনি তারা। এসব কারণে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছি। স্থায়ীভাবে নিরসনে ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তা পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী তার সর্বশেষ মেয়াদে ২০০৩-০৪ থেকে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ব্যয় করেছেন ৬৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। মনজুর আলম ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত ব্যয় করেছেন ২০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ২০১৫-১৬ অর্থবছরে খরচ করেছেন ২১ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৯টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিবছর এ খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও কোনো সুফল পায়নি নগরবাসী।

এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, ‘রুটিনওয়ার্ক দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে না। এর জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি বৃহৎ প্রকল্প। তা না হলে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হবে কিন্তু কোনো সুফল মিলবে না।’

বর্ষায় খাল-নালা খননে বেড়েছে জলাবদ্ধতা:  সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরের খাল ও নালা-নর্দমা থেকে মাটি উত্তোলনের জন্য ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৯টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিটি করপোরেশন। এসব প্রকল্পের মধ্যে ৩৯টি প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ৫০টি প্রকল্পের দরপত্র ই-জিপিতে (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোর দরপত্র কার্যক্রম শেষ হতে আরও দুই সপ্তাহ পার হবে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন খাল থেকে প্রায় ১২শ’ ট্রাক আবর্জনা ও মাটি অপসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা থেকে দুই হাজার ২৭৪ শ্রমিক মাটি উত্তোলনের কাজ করেছেন। গতকাল শনিবারও খাল ও নালা থেকে মাটি উত্তোলন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর থেকে খাল ও নালার মাটি অপসারণ কাজ শুরু হয়েছে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরের একাংশের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চাক্তাই খাল। এ খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও নয়টি খাল। এগুলো হচ্ছে- ডোম খাল, চশমা খাল, হিজড়া খাল, চট্টেশ্বরী খাল, মির্জা খাল, সাব এরিয়া খাল, দেব পাহাড় খাল, আয়েশা খাতুন লেন খাল ও মনু মিয়া খাল। প্রবল বর্ষণে এসব খাল থেকে আসা পানি পুরোপুরি নিষ্কাশন করতে পারে না চাক্তাই খাল। তখনই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা ।

সরেজমিন দেখা গেছে, চাক্তাই খালের বেশিরভাগই পলিথিন ও বর্জ্যে ভরে গেছে। সংযুক্ত নালাগুলোর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে দোকানপাট। খালটির উভয় পাশে রয়েছে বহুতল ভবন, বস্তি ও সেমিপাকাসহ শত শত ঘরবাড়ি। এসব ভবনের গৃহস্থালি বর্জ্য ও বাসার পরিত্যক্ত সব জিনিস ফেলা হয় খালে। এটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। নগরবাসীর অসচেতনতার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মার্চ থেকে খালটির আবর্জনা অপসারণ শুরু করলেও এখনও মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া আবর্জনায় চাক্তাই সংযোগ খালও ভরাট হয়ে আছে। খননের অভাবে ভরাট হয়ে আছে রাজাখালী খাল। এ খালের মধ্যম চাক্তাই থেকে রাজাখালী পর্যন্ত অংশে সিটি করপোরেশন কখনই খনন কাজ করেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে মহেশখাল। মির্জাখাল, বির্জাখাল, বামুনশাহী খালও আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে।

আলোর মুখ দেখেনি নতুন খাল:  জলাবদ্ধতা নিরসনে বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন হয় ২০১৪ সালের জুন মাসে। ৩২৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের জুন মাসে। কিন্তু এখনও খালটির জমি অধিগ্রহণও শুরু করতে পারেনি সিটি করপোরেশন।

এ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ ব্যয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হচ্ছে। কবরস্থান ও মসজিদ থাকায় অ্যালাইনমেন্টেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংশোধিত প্রকল্প পাস হলে কাজ শুরু হয়ে যাবে।

২৩/৪/২০১৭/১৪০/ম/জা/

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।