গ্রীষ্মকাল, বুধবার, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,৩০শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ৭:৫১
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

খুলনাঞ্চলে দেশী মাছের বাজারে আগুন…

admin

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

উপকুলীয়ঞ্চল খ্যাত সুন্দরবনের মোহনায় অবস্থিত বৃহত্তর খুলনাঞ্চলে মাছের বাজারে আগুন। কাড়ি কাড়ি টাকা হলে শহর বন্দরে মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু গ্রামেগঞ্জে তাও নেই। পল্লীতে এখন আর পুকুর ভরা মাছ নেই। মাছে ভাতে বাঙালি এ প্রবাদটি এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসচেতনতা, অবাধে লবণ পানি তুলে বাগদা চিংড়ি চাষ, ফসলের খেতে ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের যথেচ্ছা ব্যবহার এবং মিঠাপানির অভাবে মৎস্য খনি খ্যাত খুলনাঞ্চলে ৫৫ প্রজাতির মিঠাপানির দেশীয় মাছের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। সুস্বাদু দেশীয় মাছ এখন আর তেমন মিলছে না। বাজারে যদি বিদেশি ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ না থাকতো তাহলে আমিষের চাহিদা মিটানো সম্ভবপর ছিল না। শহর বন্দর গ্রামে গঞ্জে সর্বত্রই দেশীয় মাছের চরম সঙ্কট। যা পাওয়া যায় তার অগি্নমূল্য। বিগত দিনে সরকারের উদাসীনতা, মৎস্য অধিদফতরের বাস্তবসম্মত সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণের অভাব এবং যে সকল প্রকল্প ও কর্মকা- হাতে নেয়া হয়েছিল তার যথাযথ বাস্তবায়ন না করায় এ সেক্টরটি শিকেয় উঠেছে। অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যাবশ্যকীয় সম্ভবানাময় এ খাতটি এখন চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মৎস্য অধিদফতর এবং কয়েকটি এনজিও এসব বিষয়ে কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে তাও যৎ সামান্য ।

তাছাড়া যে সকল প্রচলিত আইন ও ধারা রয়েছে তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। জনসচেতনতা তৈরিতে দায়িত্বশীলরা এগিয়ে আসছে না।

মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে কয়েক দশক পূর্বেও এ অঞ্চলে আড়াইশ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল। কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতি এখন চোখে পড়ে না। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমের সময় নদী-খাল-বিল থেকে কারেন্ট জালের মাধ্যমে ব্যাপকহারে ডিমওয়ালা মাছ ধরার কারণে দেশীয় মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কালের গর্ভে মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দুই দশক পূর্বেও খুলনার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা ও ফুলতলা এবং খুলনা সনি্নকটস্থ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় আড়াইশ’ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। যার মধ্যে শোল, টাকি, কৈ, গজাল, টেংরা, চিতল, শিং, খয়রা, বাটা, পাইশ্যা, কালিবাউশ, বাইল্যা, কাজলি, সরপুঁটি, পাবদা, খৈলশা, ডগরি, জাবা, ভোলা, বাগাড়, বাশপাতা, ভাঙ্গান, কাইন, খলা, দেশি পুঁটি, গোদা চিংড়িসহ ৫৫ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। এ সকল মাছ স্বাদে ও পুষ্টি গুণে ছিল ভরপুর। এ অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জের কয়েকশ হাওড় বাঁওড়, বিল, খাল নদী থেকে এসকল মাছ সংগ্রহ করতো জেলে সমপ্রদায়। সারা বছর তারা মৎস্য শিকার করে নিজ পরিবারের চাহিদা পূরণসহ জীবিকা নির্বাহ করত। শুষ্ক মৌসুমে খাল বিল হাওড়ের পানি কমে গেলে চলত মাছ ধরার উৎসব। দেশের দূর-দূরান্তের বাজারসমূহে খুলনা থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু এখন খুলনাঞ্চলে চট্টগ্রাম কঙ্বাজার থেকে মাছ এনে চাহিদা পূরণ করা হয়। সামুদ্রিক মাছ আসছে দেদারছে। বিকল্প হিসাবে শুঁটকি মাছেরও প্রচুর ব্যবহার হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুমের পূর্বে এপ্রিল মাস থেকে খালে বিল নদীতে মাছ ডিম্ব নিঃসরণ শুরু করে। কারেন্ট জালের ব্যাপকতায় খাল, বিল নদীতে এ মাছের রেনু ধরা পড়ে মাছের প্রজনন প্রচ-ভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জালে ধরা পড়ে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার রেণু মাছ। পরিবেশ ও মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে খুলনাঞ্চলে মৎস্য প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হচ্ছে, অপরিকল্পিততভাবে জলাধারে বাঁধ দেয়ায় ভরা বর্ষা মৌসুমে ডিম ছাড়ার মা মাছ আসতে বাধা পায়। মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা তদুপরি খাল, বিল, হাওড়, বাঁওড়গুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসার কারণে মাছের বংশ বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন কারণে পানি দূষণ জলাশয়ের গভীররা হরাস, ছোট মাছ ধরার জন্য কারেন্ট জালের ব্যবহারের কারণেও মাছে প্রজাতি ধ্বংস হচ্ছে। মারাত্মক পানি দূষণের কারণে আজ খুলনার ময়ূর নদী মাছের বংশ বৃদ্ধি ও জীবন ধারণের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য বাঁধ দিয়ে লোনা পানির আধার নির্মাণের কারণে অনেক প্রজাতির মিঠাপানির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ফসলের খেতে মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাছে বিলুপ্তি ঘটছে।

খুলনার কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানিয়েছেন, এক সময় জেলার তেরখাদা উপজেলার চিত্রা নদীতে ২ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। ভৈরবে পাওয়া যেত ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের বোয়াল ও আইড় মাছ। এমন কোনো মাছ ছিল না যা এ অঞ্চলের বিল ডাকাতিয়া অথবা নলামারা, বাইশোর বিলে পাওয়া যেত না। নলামারা বিলে ১২ কেজি ওজনের কালিবাউশ মাছ তারা জাল দিয়ে ধরেছেন পর্যন্ত। বাইলা, ডগরা, কাজলি, ভাঙ্গান, ভোলা প্রভৃতি মাছ তারা খাওয়ার অযোগ্য মনে করে ধরার পর ফেলে দিতেন। এখন এগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে মনে হবে কল্প কাহিনী। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে মৎস্যজীবী তথা সর্বসাধারণকে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য অধিদফতরের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ ও মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমেই সম্ভব।

১১/৪/২০১৭/২৪০/তৌ/আ/

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।