বসন্তকাল, মঙ্গলবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১২:৩৫
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

ন্যায় বিচারকরা যখন অন্যায় করে আবার মামলাও করে…

admin

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, ‘সামান্য ঘটনাকে অসামান্য বানানো কী একজন বিচারকের জন্য মোটেও জরুরি ছিল না। কথা কাটাকাটির মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই মামলা দিতে হবে? অথচ একটা অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য সামান্য একটু পথ করে দেয়ার মতো উদারতা দেখাতে পারলে এতো কথা কাটাকাটি আর মামলার কোনোই প্রয়োজন হতো না’।

 

ঘটনাটি গত শুক্রবারের। ঘটনাস্থল মানিকগঞ্জ। অভিযোগ উঠেছে, মানিকগঞ্জের এক জ্যেষ্ঠ সহকারী জজের বাড়ি বদলের জন্য রাখা ট্রাক এক শিশুর হাসপাতালে যাওয়ার পথ আটকানোর প্রতিবাদ করায় শিশুটির মামাসহ দুজনের বিরুদ্ধে ওই বিচারক মামলা করিয়েছেন। উল্লেখ্য, শিশুটির মামা হলেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা সামিউল আলিম রনি এবং অন্যজন হলেন ঘটনার প্রতিবাদকারী মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার অডিট বিভাগের জ্যেষ্ঠ অডিটর মুজিবুর রহমান। আর মামলার বাদী বিচারক নন, আদালতের এক কর্মচারী।

 

জানা গেছে, বাসা বদলের সময় রাস্তা আটকে রাখায় শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে ট্রাক সরাতে বলার পর বিচারকের লোকজন উল্টো তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। তবে শুক্রবারের ওই ঘটনার বিষয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় সেদিন তিনি পুলিশের আশ্রয় নিয়েছিলেন।

 

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ শহরের রিজার্ভ ট্যাংকি এলাকায় থাকতেন বিচারক মাহবুবুর রহমান। শুক্রবার তিনি ওই বাসা বদল করছিলেন। আর ওই এলাকার পুকুর পাশের একটি ভবনের নিচতলায় থাকেন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর মতিলাল ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রেজাউল হক মামুন। তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে হাসপাতালে নেয়ার সময়ই ঘটে ওই ঘটনা।

 

শিশুটির মা দীনা আক্তার বলেন, শুক্রবার সারাদিন তার মেয়ে ২০/২১ বার বমি করার পর রাতে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিতে মোটর সাইকেলে বেরিয়েছিলেন তারা।

 

তার ভাষায়, ‘একটি ট্রাক বের হওয়ার রাস্তা আটকে ছিল। ট্রাকটি মানিকগঞ্জ আদালতের সহকারী জজ মাহবুবুর রহমান ভাড়া বাসা বদলের মালামাল বহনের জন্য রেখেছিলেন। জজ সাহেবের লোকজন সাফ জানিয়ে দিলেন, যতক্ষণ কাজ শেষ না হবে ততক্ষণ ট্রাক সরানো যাবে না।’ শিশুটির বাবা রেজাউল দাবি করেন, বিষয়টি বিচারক মাহবুবুর রহমানকে জানানো হলেও তিনি কোনো কোনো ব্যবস্থা নেননি।

 

এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দীনা আক্তার তার ছোট ভাই, যুবলীগ নেতা রনিকে খবর দেন। তখন রনি ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবুল বাশারসহ কয়েকজন এসে মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে ট্রাক সরানো নিয়ে আবারও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

 

এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় কর্মরত জ্যেষ্ঠ অডিটর মজিবুর রহমান বলেন, ‘অসুস্থ শিশুটির মায়ের কান্না শুনে আমি বাসা থেকে নেমেছিলাম। কী হয়েছে জানতে চাইলে সহকারী জজের এক কর্মচারী অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, তখন আমি প্রতিবাদ করেছিলাম।’

 

সেই কর্মচারীই রবিবার তার ও রনির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে মজিবুর জানান।

 

তিনি বলেন, ‘দেড় মাস পর চাকরি থেকে অবসর নেব। আমি অসুস্থ বয়স্ক মানুষ, স্ট্রোকের রোগী। ক্ষমতার দাপট কি জিনিস তা বোঝাতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হল।’

 

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, দুজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে আদালতের এক কর্মচারী মামলা করেছেন। ঘটনার সময় বিচারক মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলেও এজাহারে বলা হয়েছে। তিনি এটাও বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই সব করতে হয়েছে। এখানে এছাড়া করার কিছুই ছিল না।’

 

মামলার পর এই বিষয়ে কথা বলতে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

তবে শুক্রবার ঘটনার পর তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমার বাসার সামনে এসে কয়েক যুবক আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এজন্য তাৎক্ষণিক থানায় ফোন করে পুলিশের সহায়তা চেয়েছি। পুলিশ এগিয়ে না আসলে আমাকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করা হত।’

 

ওই রাতে পুলিশ এসে রনিকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। রাতভর রাখার পর সকালে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল।

 

মামলার আসামি মজিবুর বলেন, ‘সহকারী জজ মাহবুবুর রহমান ওই শিশুটিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল। শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেছেন। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন।’

 

শিশুটির মা দীনা আক্তার বলেন, ‘মাহবুবুর রহমান সাহেব আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, আমার মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন এমন অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ সেই অভিযোগ আমলে নেয়নি।’

 

রনি বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরা অন্যায়ের শিকার হতে চলেছি। যারা ন্যায় বিচার করবেন বলে আশা করি, তারাই এখন অন্যায় করছেন।’

 

এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বলেন, ‘ভিকটিম যদি মনে করে তার সঙ্গে অন্যায় কিছু হয়েছে, তাহলে তিনি জেলা জজ সাহেবকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে পারেন। তখন ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যাবে।’

১২-০৬-১৭-০০-২০০-আ-হৃ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।