গ্রীষ্মকাল, বুধবার, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,৩০শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১১:৩৫
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

অনিরাপদ ও রাস্তা বলতে কিছুই নেই পুরান ঢাকায়…

admin

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

নীমতলীতে ঢুকতেই দোতলা পোড়া বাড়িটি আজও সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ২০১০ সালের ৩রা জুনের ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। পুড়ে যাওয়া দেয়ালগুলো মনে করিয়ে দেয়, সেদিন নিহত হওয়া ১২৪ জনেরও বেশি মানুষের কথা। নীমতলীর রাসায়নিক পণ্যের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর আজও পুরোপুরি নিরাপদ বলা যাচ্ছে না নীমতলীসহ পুরান ঢাকার বেশিরভাগ এলাকা। অনেক এলাকায় এখনও রয়েছে দাহ্য জাতীয় পদার্থের কারখানা ও ব্যবহার। অন্যদিকে ঘনবসতি আর সরু রাস্তা যে কোন দুর্যোগে উদ্ধার কাজের সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করে ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন বলছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে কেমিক্যাল গোডাউনের বিরুদ্ধে।

জীবন থেমে থাকে না, তাই সময়ের বহমান যাত্রায় গত সাত বছরে অনেক পুড়ে যাওয়া ভবন নিজেদের চেষ্টায় মেরামত করে নিয়েছেন নীমতলীবাসী। কিন্তু স্বজন হারানোর যে ক্ষত, তা কখনই মলিন হবার নয়। এখন সেসব স্মৃতির বহিঃপ্রকাশ হয় কখনও নীরবতায়, আবার কখনও শব্দে-ক্ষোভে ফেটে পড়েন নীমতলীবাসী।

সেদিন আগুন নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো সরু গলিতে আগুন নির্বাপণের কাজ করতে গিয়ে। সে সমস্যা আজও দৃশ্যমান। শুধু নীমতলী নয়, ঘনবসতি আর ৬৫ শতাংশেরও বেশি সরু রাস্তার কারণে পুরাণ ঢাকার বেশিরভাগ এলাকা ও বসবাসকারী মানুষরা রয়েছে ঝুঁকিতে।

এদিকে নিমতলী ট্র্যাজেডির মতো আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের জন্য ৪০০ অবৈধ গুদামের তালিকা করেছিল ফায়ার সার্ভিস। তালিকা ধরে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়নি আজও।

ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক কারখানা পুরোপুরি না সরানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নীমতলী, নবাবকাটরা, আগামসী লেনসহ পুরান ঢাকার অনেক বাসিন্দাই। এ ছাড়া ২০১১ সালের এপ্রিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদামগুলো কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, পুরান ঢাকার ৮০ শতাংশ বাড়ির নিচতলায় বিভিন্ন বিপজ্জনক দাহ্য রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম রয়েছে। এতে ঐ এলাকার জনজীবন আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়ির নিচে রাসায়নিক দ্রব্যের ছোট-বড় দোকান অথবা প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। গত কয়েক বছরে ঐ এলাকায় ছোট-বড় কমপেক্ষ ১৫টি অগি্নকা-ের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের (অপারেশন) পরিচালক মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, পুরাতন ঢাকায় তো রাস্তা বলতে কিছুই নেই। এখানকার ৭৬ শতাংশ রাস্তা সরু। যেভাবে আমরা যুদ্ধ করে যাচ্ছি, যদি ভূমিকম্পের মতো একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা হয় তাহলে এটা খুবই কঠিন হয়ে যাবে।

পুরান ঢাকার অলিগলিতে এখনও দেখা যায় দাহ্য জাতীয় জিনিসপত্রের দোকানপাট আর কারখানা। এসব কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। ব্যবসায়ীদের দাবি, এ অগি্ন ঝুঁকিপূর্ণ নয় কিন্তু যে সমস্ত প্রতিনিধি আমাদের অভিযানের সঙ্গে থাকেন তারা বলেন যে, এটা ঝুঁকিপূর্ণ।

পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর জানান, রাসায়নিক পদার্থ আমদানির অনুমতি দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। আর কারখানা পরিচালনার অনুমতি ডিএসসিসির। কারখানা অপসারণের জন্য কোনো পরামর্শ কিংবা লিখিত অভিযোগ নেই পরিবেশ অধিদফতরের কাছে। তাই আমাদের পক্ষে অভিযান চালানো সম্ভব নয়। পরিবেশবিদ ইকবাল হাবিব জানান, ঘটনার পর সরকারিভাবে রাসায়নিক কারখানাগুলো কেরানীগঞ্জে সরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত ও ডিএসসিসির উদাসিনতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।

নীমতলী ট্র্যাজেডিতে স্ত্রী, ভাতিজা, চাচাতো ভাই, ফুপুসহ ১৩ স্বজন হারানো সুলতান মিয়া বলেন, স্ত্রী হারিয়ে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, যা ঠাট্টা ছাড়া কিছুই না।

তৌহিদ আজিজ-০৪-০৬-১৭-০০-১০

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।