বসন্তকাল, শনিবার, ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,২৮শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি, সন্ধ্যা ৭:৫১
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় পুড়ছে ভূট্টা, ক্ষোভ কৃষকের…

admin

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

চিরিরবন্দরে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় কলাবাগান, ভূট্টা, ফলজ-বনজসহ ধানক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেছেন। এ ঘটনাটি উপজেলার ঘন্টাঘরবাজারের পূর্বপাশে সাতনালা ইউনিয়নের জোত সাতনালা গ্রামের শিববাড়িতে ঘটেছে।

সরেজমিনে আশপাশের ফসলের জমিতে কৃষকেরা কেউ ধান কাটছেন, কেউ ধান, ভুট্টা ও কলাবাগান নিয়ে আক্ষেপ করছেন। গত ৪ মে বিকেলে এসএনডি ব্রিক্স নামে একটি ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশ এলাকা ছেয়ে যায়। কৃষকেরা প্রথমদিকে বুঝতে পারেননি যে, এ ধোঁয়ার কারণেই তাদের ফসলের এত ক্ষতি হবে। কয়েকদিন পর কৃষকরা ইটভাটার ধোঁয়ায় ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে তা বুঝতে পারেন। এ ইটভাটার আশপাশের ধান, কলা, ভূট্টা, ফলেরগাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে থাকে।

কৃষক তমিজউদ্দিন (৪২) জানান, তার আড়াই বিঘা জমিতে ১ হাজার ২০০টি কলাগাছ ছিল। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় তার কলাবাগানের সব গাছ শুকিয়ে মরে যেতে বসেছে।

কৃষক জিয়ারুল ইসলাম (৩০) জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আমার ১ বিঘা জমির উঠতি বোরোধান, ৩ বিঘা জমির ভূট্টাক্ষেত ও ২০০ কলাগাছ নষ্ট হয়েছে।

কৃষক খোকা মোহাম্মদ বলেন, জমি চাষাবাদ করেই আমাদের সংসার চলে। ধান বিক্রি করেই দায়দেনা পরিশোধ করি। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়ায় আমার আড়াই বিঘা জমির ধান ক্ষতি হয়েছে। উঠতি ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। অনেক কৃষক জানান, আমাদের এলাকার আম, নারিকেল গাছের ক্ষতি হয়েছে। আমগুলো গাছ থেকে ঝড়ে পড়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও মফিজউদ্দিনের (৬০) দেড় বিঘা জমির ৯০০ কলাগাছ, রেয়াজুল ইসলামের (৩৫) ৭০০-৮০০ কলাগাছ, কেরামত আলীর (৫৫) ২ বিঘা জমির ১ হাজার ৫০০ কলাগাছ, জিকরুল হকের ২০০, ভুলু মিয়ার ২০০, আকতার মাষ্টারের সাড়ে ৩ বিঘা জমির ধানসহ অনেক কৃষকের ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তারা আরো জানান, কলাগাছের বয়স ৯ মাস হয়েছে। অনেক কলাগাছে মোচা বের হয়েছে। আর ৩ মাস পরেই কলাগুলো বিক্রি করা যেত। এতে বিভিন্ন বাগানের ১০ হাজার কলা ক্ষতি হয়েছে। চাষাবাদকৃত ফসলের এমন ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকরা বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা পুড়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতিপূরণ দাবি করে জনবসতি এলাকায় ইটভাটা বন্ধের দাবি জানান।

সাতনালা ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের জমির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

এসএনডি ব্রিকসের মালিক সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ অধিদফতর আমাকে ভাটার জন্য লাইসেন্স দিয়েছে। যদি আমার ভাটার ধোঁয়ায় কৃষকের ক্ষতি হয়, তাহলে আমি তাদের ক্ষতিপূরণ দেব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, প্রকৃত ক্ষতি নিরুপন করা যায়নি। ইটভাটার কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ভাটাবন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা যাতে ক্ষতিপূরণ পায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম রব্বানী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১৫/৫/২০১৭/০-১৯০-৭/মা/হা/তা/

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।