ডেস্ক রিপোর্ট , বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

শীতের বিদায়ের পর গরম পড়তে শুরু করেছে। দেখতে দেখতে আমাদের মাথায় উপর সূর্য চড়ে বসেছে। ঘাম ঝরা শুরু হয়ে গেছে। গরমে এখনই প্রাণ ওষ্ঠাগত

হওয়ার সময় এখনও হয়তো আসে নি। এতো সবে শুরু। সামনে অনেক গুলো দিন সহ্য করতে হবে গরমের অত্যাচার। এদিকে আবহাওয়াবিদরা ধারনা করছেন এবার নাকি সর্বকালের সেরা গরম পড়বে। এ সময় সুস্থ থাকতে খাবারের প্রতি সর্তকতা আনা প্রয়োজন। তীব্র গরমে ঘামের কারণে শরীর পানিশূন্য হয়ে বিভিন্ন ধরনরে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে আমরা পানি শূন্যতাসহ গরমের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে সুস্থ থাকতে পারি। চলুন যেনে নেওয়া যাক সেই উপকারী খাবার গুলো সম্পর্কে-

শশাঃ

শশা ভিটামিন এবং মিনারেলস পরিপূর্ণ একটি সবজি। এর ৯৬ শতাংশ পানি। শসা ভিটামিন-কে, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ফলিক এসিড, পটাশিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজের উত্তম উৎস। শসা কেবল শরীরকে ঠাণ্ডাই রাখে না, সতেজ অনুভূতিও দেয়, দেহের পানিশূন্যতা দূর করে, দেহের ভেতর-বাইরের তাপ শোষক, বিষাক্ততা দূর করে, প্রাত্যহিক ভিটামিনের শূন্যতা পূরণ করে, ত্বকবান্ধব খনিজের সরবরাহকারী, হজম ও ওজনহ্রাসে সহায়ক, চোখের জ্যোতি বাড়ায়, ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, মুখ পরিষ্কার রাখে, চুল ও নখ সতেজ করে, গেঁটেবাত থেকে মুক্তি, মাথাধরা থেকে নিষ্কৃতি এবং কিডনি সুস্থ রাখে। সর্বশেষে অপ্রয়োজনীয় মেদ কমাতে সাহায্য করে।

ডাবের পানিঃ

ডাবের পানিরমধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে কাজ করে। আয়রনও রয়েছে ডাবের পানিতে যথেষ্ট পরিমাণে। রক্ত তৈরি করার জন্য আয়রন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত তৈরি হলে প্রতিটি অঙ্গ হবে বেশি শক্তিশালী, ফলে কর্মশক্তিও বাড়বে। দেহে আয়রনের পরিমাণ ঠিক থাকলে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও মসৃণ। ডাব খেলে কিডনি রোগ হবার সম্ভাবনা কম৷ আবার কিডনি রোগ হলে ডাবের পানি সম্পূর্ণ নিষেধ৷ ডায়াবেটিসের রোগীরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে ডাবের পানি খাবেন। কিডনিতে পাথর হয়েছে বা ডায়ালিসিস চলছে, এ ধরনের রোগীরা এই ফল খাবেন না। কারণ, এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম, যা কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। ডাবের পানি বদহজম , গ্যাসট্রিক , আলসার , কোলাইটিস , ডিসেন্ট্রি এবং পাইলসের সমস্যায় দূরীকরণে সাহায্য করে। ডাবের পানি খাবার হজমে বিশেষভাবে সহায়ক। এতে করে বদহজমের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা নিয়মিত ডাবের পানি পান করার অভ্যাসে সহজেই দূর করা সম্ভব।

দইঃ

প্রবোটাইটিকস খাদ্য হিসেবে দই চমৎকার। গরমে এই খাবার তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়। তাই এটিও রাখতে পারেন আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়। বাঙালির খাদ্যতালিকায় দই থাকে না প্রতিদিন। অথচ দই পুষ্টির আধার! দই সম্পর্কে রয়েছে বেশ কিছু ভুল ধারণাঃ দই খেলে অ্যাসিড হয়, মাংস খাওয়ার পর খাওয়া উচিত নয়, ঠাণ্ডা লাগে বা গলা নষ্ট হয়। অথচ দই নিজেই অন্য খাদ্যের পরিপাক করতে সাহায্য করে অ্যাসিড নষ্ট করে। অর্থাৎ দই খেলে অ্যাসিড হয় না। মাংস খাওয়ার পর দই খেলে উপকার বেশি, কারণ দই আমিষ হজমে সহায়ক। দই খেলে ঠাণ্ডা লাগে না বা গলা নষ্ট হয় না। নিয়মিত টক দই খেলে শরীরে টক্সিন জমে।অন্ত্রনালী পরিষ্কার রেখে শরীরকে সুস্থ রাখে ও বুড়িয়ে যাওয়া বা অকাল বার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করে। যাদের ডায়াবেটিস ,হার্টের অসুখ আছে তারা নিয়মিত টক দই খান। দেখবেন ডায়াবেটিস ,হার্টের অসুখ নিয়ন্তওনে আসবে। মেদ কমাতে সাহায্য করে।

পুদিনা পাতাঃ
পুদিনার মধ্যে রয়েছে শরীর ঠাণ্ডা করার উপাদান। এটি শরীরকে সতেজকরে। হঠাৎ সানস্ট্রোক করলে পুদিনার শরবত খেলে অনেক উপকার পাবেন। গরমে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও ফুসকুরি সমস্যায় কয়েকটি পুদিনার পাতা চটকে গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে ভালো কাজ হয়। মুখের দুর্গন্ধ দুর করতে পুদিনা পাতা পানির সাথে মিশিয়ে কুলি করুন। হজম শক্তি বাড়ায়, মুখের অরুচি ও গ্যাসের সমস্যা দুর করে, কর্মক্ষমতা বৃদ্বি করে ও শরীর ঠান্ডা রাখে। পুদিনা ত্বকের যে কোনো সংক্রমণকে ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। পুদিনা পাতার রস উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত পুদিনা পাতার রস খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। যাদের বুক ধড়ফড় করে তারা পুদিনাপাতা খেলে উপকার হবে। পুদিনা মেয়েদের রক্তশূন্যতা পূরণ করে। মায়ের বুকে দুধ বাড়ে।

লেবু পানিঃ
খুব গরমে এক গ্লাস লেবুপানি আপনাকে প্রশান্তি দেবে। এটা স্বাস্থ্যকর, পাশাপাশি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতেও কাজ করবে। লেবু রোগ প্রতিরোধ করে, ত্বক পরিষ্কার করে, মনকে প্রফুল্ল করে, তরতাজা নিঃশ্বাসে দেয়, শরীরে তরলের পরিমাণ ঠিক রাখে ওজন কমাতে সহায়ক, পরিপাক প্রক্রিয়াকে কার্যকর করে আর লিভারকে রাখে সতেজ। গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় কার্যকর। প্রতিদিন অর্ধ-কাপ লেবুর রস তিনমাস সেবনে কিডনি পাথর ক্ষয় করে এবং কিডনির ডায়ালাইসিস ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। এর মধ্যে ডি-লিমনিন (d-limonene) নামে একটি এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা কমলার মধ্যেও পাওয়া যায় এবং লেবু এবং কমলার খোসার মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ঘনীভূত অবস্থায় থাকে। ডি-লিমনিন লিভারের এনজাইমকে সক্রিয় করে, যা দূষণ মুক্তকরন প্রক্রিয়ার ১ম এবং ২য় ধাপের অংশ। এটি লিভারে জমা হওয়া বিষাক্ত যৌগ গুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে এবং সেগুলিকে ককম ক্ষতিকর রূপে রুপান্তরিত করে।

তরমুজঃ

তরমুজ এমন একটি খাবার, এটি কেবল গরমে পাওয়া যায়। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। এর মধ্যে রয়েছে পানীয় উপাদান। তরমুজ বাড়ায় মস্তিষ্কের ক্ষমতা, তরমুজ কমায় ক্যানসারের ঝুঁকি, তরমুজকে ভিটামিন ‘এ’র খনি বলতে পারেন। ভিটামিন ‘এ’ হলো চোখ ভালো রাখার জন্য দারুণ এক খাদ্য উপাদান। মাংসপেশির ব্যথা কমায় তরমুজ, তরমুজে ওজন হ্রাস হয়। তরমুজে রয়েছে লাইসোপেন, যা আপনাকে বাঁচাবে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে। ফলে সানবার্ন কিংবা চামড়ার ক্যানসার থাকবে নিরাপদ দূরত্বে।

হালকা খাবার খানঃ
গরমে হালকা খাবার খাবেন। গরমকালে ঝালযুক্ত খাবার পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া বাড়ায়। তাই এ সময়টায় হালকা খাবার খাওয়াই ভালো। এ সময় সবুজ সবজি বেশি খান। এতে রয়েছে আঁশ। এটি শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

৩/৫/২০১৭/৮০/