হেমন্তকাল, বৃহস্পতিবার, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১০:০৪
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

হাওড়াঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের সুযোগ নিচ্ছে অসাধু চাল ব্যবসায়িরা….

admin

মনির জামান, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

দেশের হাওড়াঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যায় বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে একটি সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে অতি মুনাফার অসাধু চাল ব্যবসায়িরা। ওই অজুহাতে ইতিমধ্যে চালের দাম আরেক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। বর্তমানে বাজারে চালের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ পর্যাপ্ত। তারপরও বন্যার কথা বলে চালের সরবরাহ বিঘি্নত হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে চলেছে তারা। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে রাজধানীতে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা। তার আগে মৌসুম শেষের অজুহাত দেখিয়ে গত মাসেও ব্যবসায়িরা এক দফা দাম বাড়িয়েছিল। ফলে এক মাসের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি গড়ে কমবেশি পাঁচ টাকা। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাজারে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৭ শতাংশ বেড়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ৫ থেকে ২৪ শতাংশ বেশি। বর্তমানে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪১ থেকে ৪৩ টাকায় এবং মাঝারি চাল ৪২ থেকে ৪৮ টাকা ও সরু চাল ৫০ থেকে ৫৬ টাকায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি সেদ্ধ চাল ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ওই তুলনায় দেশের বাজারে ১১ টাকা বেশি দামে সেদ্ধ মোটা চাল বিক্রি হয়। বর্তমানে দেশে বছরে চালের চাহিদা ৩ কোটি টনের ওপরে। হাওরে সব মিলিয়ে বোরো থেকে চাল আসে কমবেশি ৬ লাখ টন। ৩ কোটি টনের মধ্যে ৬ লাখ টন তেমন বড় অঙ্ক নয়। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়িরা কোনো অজুহাত পেলেই বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে অবৈধভাবে মুনাফা তুলে নিচ্ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে ওই অসাধু ব্যবসায়িরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যার প্রভাবে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। সূত্র জানায়, মৌসুমের শেষ সময় হলেও ব্যবসায়িদের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ চালের মজুদ রয়েছে। সরবরাহেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ ব্যবসায়ীরা সে ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছে। ফলে এখন চালের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তারপরও অসাধু ব্যবসায়িদের দাবি, হাওরে বন্যায় ধান সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সে কারণে নতুন চাল আসতে দেরি হচ্ছে। ফলে চালের দাম বাড়াতে হচ্ছে। অথচ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মিলগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বোরো ধান আসছে। আর মিলগুলোতে ধান থেকে চাল উৎপাদন হচ্ছে। চালের অতিরিক্ত দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে মিল মালিক, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়িরা একে অন্যকে দুষছেন। মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুমের শেষভাগে মিলের সব চাল আড়তে দেয়া হয়েছে। আড়তদাররা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখন মিলে নতুন ধান আসছে, চাল উৎপাদন করে সরবরাহ করা হবে। তাছাড়া সারাদেশে বৃষ্টির কারণে চাতালগুলোও নিয়মিতভাবে ধান প্রক্রিয়াজাত করতে পারেনি। হাওর অঞ্চলে অনেক চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। ধানের দাম বেড়ে যাওয়া ও বন্যার কারণে সরবরাহ বিঘি্নত হওয়ায় দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়িদের মতে, বন্যার কারণে বোরো ধানের চাল সময়মতো বাজারে আসতে পারেনি। মিল মালিকদের কাছে যে চাল রয়েছে তা মজুদ রাখা হয়েছে। বাজারে কম ছাড়া হচ্ছে। ওই কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। তা ছাড়া খুচরা ব্যবসায়িরাও বেশি বাড়িয়ে বিক্রি করছে। আর খুচরা ব্যবসায়িদের মতে চালের পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে মিল মালিকদের দাবি তারা চালের দাম বাড়াননি। এখন ৯৯ শতাংশ মিলই খালি। সব চাল আড়তে। বন্যার কারণে উৎপাদন বিঘি্নত হওয়ায় আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়িরা বাড়তি দামে চাল বিক্রি করছে। হাওরে বন্যার কারণে এক মাস পর মিলে ধান আসছে। ওই ধান আগে পেলে দাম বাড়তো না। তারপরও বাজারে চালের ঘাটতি নেই। তবে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার ৩৪ টাকা কেজিতে চাল ও ৯৬০ টাকা মণ ধান কিনবে। তাতে বাজারে নতুন ধান হাজার টাকার বেশি দামে কেনাবেচা হচ্ছে। ওই ধানের চাল বাজারে এলে ৩৯ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হবে। তবে আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়িরা বলছেন, হাওরে বন্যার কারণে মিল থেকে নতুন চাল আসছে না। ওই কারণে বাজারে চালের দাম বেড়েছে। তাছাড়া সরকার যে দামে চাল কেনাকাটা করে তার চেয়ে বাজারে দাম বেশি থাকে। এবার সরকার ৩৪ টাকা কেজি চাল কেনার ঘোষণা দিয়েছে। গতবছর চাল কিনেছে ২৮ টাকায়। সরকারের বেশি দামে কেনার কারণে বাজারেও বেড়েছে। আর এখন মিল মালিকরা চাল ধরে রেখেছেন। ওই কারণেও চালের দাম বাড়ছে। আড়তগুলোতে চাল মজুদের ব্যবস্থা নেই। মিলগুলোতে চালের মজুদ রয়েছে। আর অল্প কিছু মিল থেকে নতুন চাল আসতে শুরু করেছে। সম্পূর্ণ নতুন চাল আসতে ৭ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে। তাছাড়া বন্যার কারণে হাওরের ৬ লাখ টন চাল বাজারে আসেনি। এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ধান উঠেছে। নতুন ধানের ওই চাল এলে বাজার স্বাভাবিক হবে। আর মিল মালিকরা কারসাজি না করলে বাজারে তেমন প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়িরা বলছেন, বন্যার কারণ দেখিয়ে আড়তদাররা বেশি দামে চাল বিক্রি করছে। ওই কারণে খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। তাছাড়া সরকার ৩৪ টাকা কেজিতে চাল কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর আড়ত থেকে বেশি দামে চাল আনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ভোক্তা সংগঠন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান জানান, বন্যার কারণে মাত্র একটি অঞ্চলের বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। সারাদেশে ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং ব্যবসায়িরা কোনো সঙ্কটের খবর পেলেই ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিচ্ছে। আর চাল সরবরাহে কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানা করা উচিত। হাওর অঞ্চলে যে পরিমাণ চাল উৎপাদন কম হবে ওই পরিমাণ চাল হরাস করা শুল্কে আমদানির সুযোগ দেয়া হলে ব্যবসায়িরা আর অজুহাত তুলতে পারবে না।

৩০/৪/২০১৭/১০/

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।