বসন্তকাল, শনিবার, ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,২২শে রজব, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১১:০৭
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

টিকিটে লেখা সময়ে ট্রেন ছাড়ে না

admin

মাহামুদ হাসান তাহের, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

রাজশাহী স্টেশন থেকে ‘সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে। সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে রবিবার পর্যন্ত চলাচলকারী এই ট্রেনটি দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করা যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ট্রেনটি ছাড়ার ঠিক সময়টি লেখা থাকছে না টিকিটে। ফলে অনেক যাত্রী ট্রেন মিস করছেন। এতে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। পাশাপাশি আর্থিক লোকসান তো হচ্ছেই। যাত্রীরা বলেন, ট্রেনটি ছাড়ার সময় ৬টা ৪০ মিনিট হলেও টিকিটে লেখা থাকছে ৬টা ৫০ মিনিট। টিকিটে লেখা সময় অনুসরণ করতে গিয়ে ট্রেন মিস করছেন অনেক যাত্রী। টিকিটের সময় ও ট্রেন ছাড়ার সময়ের গরমিলে বুধবার সকালেও অন্তত ১০ থেকে ১৫জন যাত্রী ট্রেনটি মিস করেন। এ সময় তারা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হট্টগোল শুরু করেন। পরে যাত্রীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা নিয়ে তাদের স্টেশন থেকে বিদায় করেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে এসব যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ কিংবা বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোরও ব্যবস্থা করা হয়নি। বুধবার সকালের ট্রেন মিস করা যাত্রীদের একজন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের (নাশিব) খুলনা মহানগরের সভাপতি ইফতেখায়ের আলী বাবু। তিনি জানান, টিকিটের সময় মেপে তিনি স্টেশনে যান। স্টেশনে পৌঁছামাত্র তিনি দেখেন, প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাচ্ছে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস। পেছন পেছন কিছুটা ছুটেও তিনি ট্রেনটি ধরতে পারেননি। রাজশাহী মহানগরীর বেলদারপাড়া এলাকার এই বাসিন্দা জানান, ব্যবসায়িক কাজে তিনি খুলনায় থাকেন। তিনি খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্যও। বুধবার ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটির নির্বাচনও ছিল। ট্রেনটিতে তিনি যশোর গিয়ে সেখানকার কাজ শেষ করে খুলনা যেতেন। এরপর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতেন। কিন্তু সময়ের বিড়ম্বনায় তার খুলনা যাওয়ায় হয়নি।

ইফতেখায়ের আলী বাবুর টিকিটে দেখা যায়, রাজশাহী থেকে যশোর যাওয়ার জন্য তিনি গত রবিবার টিকিটটি কিনেছেন। তার টিকিট নম্বর- আরজেএইচ ০২৬৯৪৬৫৭। যাত্রার সময় লেখা আছে বুধবার ৬টা ৫০ মিনিট। কিন্তু ১০ মিনিট আগে স্টেশনে গিয়েও ট্রেনটি ধরতে পারেননি এই ব্যবসায়ী। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে স্টেশন থেকে তাকে বিদায় করে।

ট্রেন মিস করা যাত্রীদের আরেকজন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মহিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ রায় (৫০)। তিনি জানান, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তারা তিনজন চুয়াডাঙার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বন্দর হয়ে ভারতে যেতেন। কিন্তু স্টেশনে গিয়ে দেখেন তাদের ট্রেন ছেড়ে চলে গেছে। এ কারণে তাদের ভারতেও যাওয়া হয়নি।

বিকাশ রায় বলেন, ‘মুমুর্ষ স্ত্রী, সবকিছু রেডি করেও চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যেতে পারলাম না। এই দুর্ভোগ আর কষ্টের কথা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমি আশা করবো, টিকিটের সঙ্গে সময়ের গরমিলে যাদের দায়িত্বে অবহেলা আছে, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। তা না হলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’

রাজশাহী-খুলনা রুটে চলাচলকারী ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ছাড়তো। মার্চের প্রথম দিন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার সময় ১০ মিনিট এগিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত টিকিটে আগের সময়ই উল্লেখ থেকেছে।

যাত্রীরা বলছেন, ট্রেনের যাত্রীরা সাধারণত কিছু সময় আগেই স্টেশনে উপস্থিত হন। এ জন্য ট্রেন তেমন একটা মিস হয় না। আবার কেউ মিস করলেও ভাবেন নিজেরই ভুল। এ জন্য এতোদিন বিষয়টি ধরা পড়েনি। তবে বুধবার একসঙ্গে অনেক যাত্রী ট্রেন মিস করায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরপর স্টেশনে শুরু হয় হট্টগোল।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাতে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক শফিকুল ইসলাম টোকনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘মার্চের ১ তারিখ থেকে ট্রেনটির সময়সূচি ১০ মিনিট এগিয়ে নেয়া হয়েছে। আমি সে মোতাবেক ট্রেন পরিচালনা করি। টিকিটে কোনো সময় দেয়া আছে তা বলতে পারবো না। এটা কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।’

এ ব্যাপারে কথা বলতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট বেলাল উদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। আর বন্ধ পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল আলমের মুঠোফোন। তাই এ ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২৭/৪/২০১৭/১৭০/

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।