হেমন্তকাল, বৃহস্পতিবার, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১০:৫৩
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

শেষ রক্ষা হলো না কিংবদন্তি সুরকার লাকী আখান্দার….

admin

মাহামুদ হাসান তাহের, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

গেলো সপ্তাহেই বাসায় ফিরেছিলেন কিংবদন্তি সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা লাকী আখান্দ। টানা আড়াই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আরমানিটোলার নিজ বাসায় ফিরেছেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় তিনি নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহে রাজেউন)।

মৃত্যুর আগে তিনি নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করছিলেন, চারপাশের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। এমনকী সবাইকে চিনতেও পারছিলেন তিনি। কিন্তু শেষতক আর শেষ রক্ষা হলো না তার। গত ৫ ফেব্রুয়ারি লাকী আখান্দের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিএসএমএমইউর সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ারে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে অধ্যাপক নেজামুদ্দিন আহমেদের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গুণী এই সংগীতজ্ঞ অনেক দিন ধরেই মরণব্যাধী ক্যানসারের সাথে লড়াই করছিলেন। কয়েক ধাপে ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ দেশে ফেরেন তিনি। সেখানে কেমোথেরাপি নেয়ার পর শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছিল তার। একই বছরের জুনে আবারও থেরাপির জন্য ব্যাংকক যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে পরে আর ব্যাংকক যাওয়া হয়ে উঠেনি তার। তার চলে যাওয়ায় পুরো সঙ্গীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। লাকী আখান্দ আমাদের সবার প্রিয় একজন শিল্পী। ষাটের দশকের বাংলা গান বিশেষ করে আধুনিক গান এবং ব্যান্ডের গানে লাকী আখান্দ ও হ্যাপী আখান্দ অনবদ্য দুটি নাম।

‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’, ‘এই নীল মনিহার’, ‘আগে যদি জানতাম তবে মন ফিরে চাইতাম’, ‘পলাতক সময়ের হাত ধরে’, এমনি অনেক কালজয়ী গান এ দুটি নামকে উজ্জ্বল করে রেখেছে।

হ্যাপী আখান্দ নেই, লাকী আখান্দ সুরের মায়াজালেই আবদ্ধ রেখেছিলেন আমাদেরকে অনেকদিন। তিনিও চলে গেলেন। লাকী আখান্দের প্রথম শিক্ষাগুরু তার বাবা। তার বাবা যে গান কী ভালোবাসতেন, বোঝানো যাবে না। তার মা ছিলেন ধার্মিক পরিবারের, তিনি গান পছন্দ করতেন না। কিন্তু তার বাবার অনুপ্রেরণায় তার মা একসময় গান শিখলেন। চারপাশে তখন তাদের অনেক দুঃখ ছিল, কষ্ট ছিল, তার মাঝেও গানটা ছিল। অনেক দুঃখ কষ্টের মধ্যেই তার বাবার গানটা আমাদের সব ভাইবোনদের ওপর প্রভাব ফেলে। ওই দুঃখ কষ্টটা না থাকলে আসলে সংগীত উপলব্ধি করতে পারতেন না লাকী।

ছেলেবেলায় একটা বিষয় লাকী খুব লক্ষ্য করতেন যে, এদেশে সব জায়গাতেই ভালো ভালো কিছু শিল্পী ছিলেন যারা হিন্দু। ভারতের অনেক নামীদামি শিল্পীর জন্মভূমি এই বাংলাদেশেই। যেমন, কিশোর কুমার, মিঠুন চক্রবর্তী, অজয় চক্রবর্তী, সত্যজিত রায় এদের সবার জন্মভূমি কিন্তু বাংলাদেশ। কিন্তু লাকী দেখতেন সব হিন্দু প্রতিভাবান শিল্পীরা ভারতে চলে যাচ্ছে। মেধার জায়গায় তখন কিছুটা হলেও ঘাটতি পড়েছিল। ওই এলাকায় একজন চমৎকার সেতার বাজিয়ে ছিল বা অসাধারণ শ্যামাসংগীত বা ভজন গাইতো হঠাৎ এ মানুষগুলো ভারতে চলে গেলেন। অনেক ভালো মিউজিশিয়নরা ভারতে চলে যাওয়ায় একটা শূন্যতা তৈরি হলো এবং সি বা ডি ক্যাটাগরির মিউজিশিয়ানরা জায়গা পেল। যেটা ব্যক্তিগতভাবে লাকীর ভালো লাগতো না। লাকী আর হ্যাপী ভাবতেন কী করা যায়? যে ভাবনা সেই কাজ। দুজনই তখন মিউজিক করেছেন।

১৯৬৮ সালে মোস্তফা সরয়ার পাশা তখন রয়েল কলেজ অব মিউজিক থেকে পিয়ানোর ওপর পড়াশোনা করে এসেছিলেন। বর্তমানে শান্তিনগরে গীতিস পার্লার যেখানে সেখানে তার বাসা ছিল। লাকী, সেলিম আশরাফ, মোজাম্মেল হক, শিবু, আলাউদ্দীন আলী সবাই মিলে বেটোফেন, মোজাটর্’ অর্কেস্ট্রা বাজাতাম, প্র্যাকটিস হতো। লাকী নানা মিউজিক পিস উঠিয়ে দিতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর অর্কেস্ট্রা গ্রুপ করা হয়ে উঠলো না। দেখা যেতো প্র্যাকটিসে না এসে একেকজন ভাড়ায় বাজানো নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু লাকী তখন নিজেকেই গড়া নিয়েই ব্যস্ত হয়ে উঠলেন নিজের মতোই। হ্যাপী আখান্দ এবং লাকী আখান্দের অসম্ভব জনপ্রিয় গান ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’।

গানটি তৈরির গল্পটা প্রসঙ্গে জানা যায়, ১৯৭৪ সালের কথা। গানটির গীতিকার এস এম হেদায়েত ছিলেন লাকীর বন্ধু। দুজনে মিলে সেবার বেড়াতে গিয়েছিলেন বগুড়ায়। একদিন লাকী আর হেদায়েত রিকশায় করে ঘুরতে বের হন। সোজা রাস্তা, আর তার দুপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। লাল শাড়ি পরে বেদে মেয়েরা হেঁটে যাচ্ছে, আকাশে রঙিন মেঘ। লাকী হেদায়েতকে বললেন, একটা গান লিখ না। হেদায়েতের সাথে সবসময় একটা ডায়েরি থাকতো। লাকীকে বললেন কী লিখবো এখন! কিছুক্ষণ যেতে যেতে লাকীকে বললেন দোস্ত একটা লাইন পাইছি- আবার এলো যে সন্ধ্যা শুধু দুজনে। লাকী বললেন তাড়াতাড়ি ডায়রিতে লিখে ফেল। তারপর আরো কয়েকটা লাইন লিখলেন, লাকীর ভালো লাগলো না। একটু পরে হেদায়েত বললেন লাকীকে দোস্ত পাইছি- চলো না ঘুরে আসি অজানাতে…যেখানে নদী এসে থেমে গেছে। চলতে চলতে দেখা গেল ঝাউবন। আসলে তারা যা যা দেখেছিলেন সেটাই উঠে এলো গানে। এরপর ঢাকায় এসে গানের সুর, কম্পোজিশন। হ্যাপীকেও দেখালেন। প্রথমে গানটা ছিল সুইং বিটের ওপর। একদিন দেখি হ্যাপী লাকীকে জিজ্ঞেস না করেই তার ব্যান্ড উইন্ডি সাইড অব কেয়ার থেকে গানটা রেকর্ড করে ফেললেন। এভাবেই এই গানের সৃষ্টি হলো।

১৯৭৭ সালে কুইন এলিজাবেথের সিলভার জুবলি ছিল। এ উপলক্ষ্যে বিব্রল ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হয়। সারা বিশ্বের সংগীতের আগমন ঘটে সেখানে। বাংলাদেশ থেকেও একটা দল ছিল। সাবিনা ইয়াসমিন, নীনা হামিদ ছিলেন সেখানে। মিউজিকের সব দায়িত্ব ছিল লাকী আখান্দের উপর। সেখানে অবাক হয়ে লাকী সারা বিশ্বের মিউজিক উপভোগ করেছিলেন। একোডিয়ান ছিলো লাকীর খুব প্রিয় একটা যন্ত্র। রাশিয়ানদের মিউজিক পরিবেশনা যখন ছিল তখন দেখলেন ২২টা একোডিয়ান দিয়ে সুরের এক মায়াজাল তৈরি করেছে তারা। সেই সাথে চলছে নৃত্য। যে স্টেজে এ আয়োজন হয়েছিল তার বয়সও প্রায় ২৫০ বছর। সব মিলিয়ে একটা স্বর্গেও মতো জায়গায় ছিলেন লাকী।

লাকী আখান্দ জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ব্যান্ড হ্যাপী টাচ্ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের মত করে মিউজিক বিপণনের একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা। তার স্বপ্ন ছিলো শিল্পীদের আর যেন কাজের জন্য কারো দারস্থ হতে না হয়। কিন্তু তিনি নিজেও জানতেন কাজটা ওতো সহজ নয়। কিন্তু তিনি তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ রক্ষা আর হলোই না।

২২/৪/২০১৭/১০/

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।