বসন্তকাল, সোমবার, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,৩০শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৪:৩৬
মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |

সারাদেশ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

মাশরাফি বিন মর্তুজা, বাংলাদেশের ‘আইকন’।

admin

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

দুপুরে হঠাৎই একজনের ফোন, ‘ভাই শুনসেন?’ বিস্তারিত হলো, মাশরাফি বিন মর্তুজার বাসায় তাঁর অবাধ যাতায়াত। সেই সূত্রে কাল ভরদুপুরে সে বাসায় ‘সূর্যাস্ত’ দেখেছেন তিনি। একটু আগেই ঢাকায় ফোনে পরমাত্মীয়দের টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মাশরাফি। সেই থেকে মিরপুরে তাঁর আলো ঝলমলে ফ্ল্যাটে ‘আরেকটা সূর্য’ চিরতরে ডুবে যাওয়ার আবহ। বাকি রইল শুধু ওয়ানডে। ছেলের মুখে খবরটা শোনার পর নাকি বেশ কেঁদেছেন মাশরাফির মা। মায়ের মন যে!
এই এত দিনের অভ্যাস হুট করে ছেড়ে দেওয়া মাশরাফির মনের ওপরও তো ঝড় বয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কিসের কি, কলম্বোর দুপুরে ভাইবারে ধরা গেল মধ্যহ্নভোজের ডেজার্ট পর্বে মজে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ককে, ‘কি শুনসেন? আরে, ভাই খেলতে দেন!’ মাঝপথে বিরতি দিয়ে কাকে যেন বলছেন, ‘আরেকটু চিনি দে। ’ চায়ে চুমুক দিয়ে আবার ঢুকে গেলেন ম্যাচে, ‘দোয়া করবেন ম্যাচটা যেন জিতি। কি যে গরম! এত গরম শ্রীলঙ্কায় আগে কখনো পাইনি। ’ বোঝা গেল, অবসরের সরকারি ঘোষণার আগে একান্তে কিছু বলতে নারাজ তিনি। উল্টো বুঝতেই দিলেন না মনে ওঠা ঝড়!

 

সে চেষ্টা প্রাণপণই ছিল। নইলে এর একটু পরই নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কেন বন্ধুর এক পোস্ট শেয়ার দেবেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘কেউ যদি তোমাকে মূল্যায়ন না করে, তবে তার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে নেওয়া ভালো। ভেবো না তুমি মূল্যহীন। আসলে তোমাকে মূল্যায়ন করার ক্ষমতাই তার নেই। ’ টাইমলাইনটা গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার আশপাশে। সময় বলে দেয়, মাঠের উদ্দেশে কলম্বোর হোটেল ছাড়ার আগে ফেসবুকে মাশরাফি বিন মর্তুজার শেষ নড়াচড়া এটা। তাহলে কি অবমূল্যায়নের দুঃখ বুকে নিয়েই কাল মাঠে গিয়েছিলেন অধিনায়ক? মাঠে টসের সময় তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের কোথাও সামান্যতম শ্লেষ নেই। বরং বোর্ড, সতীর্থ এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতাই জানিয়েছেন তিনি। অগত্যা সরকারিভাবে বলার উপায় নেই যে টি-টোয়েন্টি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণার আড়ালে গুমরে কেঁদেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরকালীন ‘আইকন’।

 

রক্তক্ষরণ তো হচ্ছিলই। বিদেশের মাটিতে ম্যাচের আগে টসের সময় অবসরের ঘোষণা দেওয়ার নাটকীয়তা তেমন ইঙ্গিতই দেয়। ক্রিকেট ইতিহাসেই এভাবে অবসর ঘোষণার নজির নেই। এ জাতীয় ঘোষণা ম্যাচের আগের দিন কিংবা ম্যাচের পরেই এসে থাকে সাধারণত। তাহলে সে পথে কেন হাঁটলেন না মাশরাফি? ফ্ল্যাশব্যাকে প্রায় এক বছর ধরেই চলমান অভ্যন্তরীণ ফিসফাস কানে বাজছে খুব। ‘মাশরাফি ফুরিয়ে গেছেন’, এমন গুঞ্জনের উত্পত্তিস্থল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। অথচ কি আশ্চর্য, গত দুই বছরে বাংলাদেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে উইকেট মাশরাফির। টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটেরও মালিক তিনি। অথচ এবং তবু মাশরাফির ফুরিয়ে যাওয়ার নানা তথ্য-উপাত্ত তৈরিতে ব্যস্ত থেকেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বোঝা যাচ্ছে, এ ধারা অব্যাহতও থাকবে। অন্তত যত দিন ওয়ানডে খেলে যেতে চাইবেন মাশরাফি।

এটাও বাংলাদেশ ক্রিকেটের পুরনো সংস্কৃতিতে মিশে থাকা কালিমা। এখন জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ। ২০০৩ বিশ্বকাপের পর অধিনায়কত্ব মেয়াদে প্রায় প্রতিটি সিরিজেই কোচ কিংবা নির্বাচকদের পক্ষ থেকে তাঁকে শুনতে হতো, ‘তুমি কবে অবসর নিচ্ছ?’ এ নিয়ে বিচলিত কিন্তু অনন্যোপায় মাহমুদ গুঁমড়ে মরতেন, ‘এসব শুনলে কি আর খেলায় মন দেওয়া যায়!’ সত্যিই দেওয়া যায় না। অথচ সেই তাঁর ম্যানেজারশিপেই কিনা একটি সফর চলাকালে একটি ফরম্যাট থেকে অবসর নিতে হলো মাশরাফিকে!

অবশ্য কে না জানে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান সংসারে হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেই শেষ কথা। মাশরাফির আচমকা অবসর গ্রহণের পেছনে তাঁর ভূমিকা থাকাটাই স্বাভাবিক। ধরে নেওয়া গেল, বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির জন্যই মাশরাফিকে প্রভাবিত করেছেন তিনি। কিন্তু এ কাজটি তো কোচ দল শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার আগেই করতে পারতেন? খেলা শুরুর আগে এমন একটি ঘোষণায় তোলপাড় করার কোনো দরকার ছিল না।

কিন্তু তিনি হাতুরাসিংহে, তাঁর কাছে সবাই সমান। টিম গেমে এটা অতি অত্যাবশ্যকীয়ও। তার পরও বিশেষত্বের কারণে মুস্তাফিজুর রহমান এ কোচের জমানাতেই বাড়তি যত্ন-আত্তী পেয়ে আসছেন। হাতুরাসিংহে ভিনদেশি, তাঁর অতশত জানার কথাও নয়। কিন্তু কর্তাব্যক্তিদের তো জানা থাকার কথা এ দেশের ক্রিকেটে বিশেষ অবদান আছে মাশরাফির। সে কারণে যথাযথ সম্মান প্রাপ্যও তাঁর।

 

হাতুরাসিংহে একদিন চলে যাবেন। বিদেশি বলেই তাঁর পক্ষে কোনো ‘লিগ্যাসি’ পেছনে ফেলে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু মাশরাফি উত্তরাধিকার রেখে যাবেন এ দেশের ক্রিকেটে। সে কারণেই তিনি অনায়াসে এড়িয়ে যান অবমূল্যায়নকারীকে, ‘আসলে তোমাকে মূল্যায়ন করার ক্ষমতাই তার নেই। ’

অক্ষমের কাছে সক্ষম কি কখনো হারে? মাশরাফিও আসলে হারেননি, জয়তু মাশরাফি!

 

৫/৪/২০১৭/৯০/তৌ/আ

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

সর্বাধিক পঠিত

আরো খবর পড়ুন...

বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম :
প্রধান সম্পাদক : লায়ন মোমিন মেহেদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : লায়ন শান্তা ফারজানা
৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা
email: mominmahadi@gmail.com
shanta.farjana@yahoo.co.uk
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।