হৃদরোগ ও ক্যান্সারে সাইকেলের ভূমিকা…

ডেস্ক রিপোর্ট , বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

সাইকেল চালনার অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। সাঁতারের মতো সাইকেল চালনাও শরীরচর্চার একটি উত্তম পন্থা হিসেবে এরই মধ্যে স্বীকৃত। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হৃদরোগ ও ক্যান্সারের বিপরীতে সাইক্লিংয়ের ভূমিকার বিষয়টি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাইকেলে করে কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ অন্য কোনো কারণে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কম থাকে। খবর ডেইলি মেইল।

গবেষণার তথ্যমতে, যারা সাইকেলে করে যাতায়াত করেন, অন্যদের তুলনায় তাদের হৃদরোগ কিংবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ কম থাকে। এছাড়া অন্য যেকোনো কারণে অকালমৃত্যুর শিকার হওয়ার আশঙ্কাও অন্যদের তুলনায় ৪১ শতাংশ কম থাকে। এমনকি  রাস্তায় দুর্ঘটনা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হঠাত্ মৃত্যুর ঝুঁকি সাইক্লিস্টদের মধ্যে তুলনামূলক কম। এক্ষেত্রে পথের দূরত্ব কোনো বিষয় নয় বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

ব্রিটিশ একদল গবেষক মধ্যবয়সী ব্যক্তিদের ওপর পাঁচ বছর মেয়াদি একটি গবেষণা চালান। মোট ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫০ জন এ গবেষণায় অংশ নেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের যানবাহন ব্যবহারের অভ্যাস পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পাঁচ বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, যেসব ব্যক্তি সপ্তাহে গড়ে ছয় মাইল হাঁটেন, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম থাকে। কিন্তু হাঁটার এ সু-অভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কোনো কাজেই লাগে না। এর বিপরীতে সাইক্লিং এ দুই মরণব্যাধির ঝুঁকি একই সঙ্গে হ্রাস করতে সক্ষম। সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে দুই ক্ষেত্রেই ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ কমিয়ে আনা যায়। এক্ষেত্রে অতিক্রান্ত দূরত্ব তেমন কোনো বিষয় নয়। অর্থাত্ অতিক্রান্ত দূরত্ব নির্বিশেষে প্রাত্যহিক সাইকেল চালনায় হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় উল্লেখযোগ্য হারে।

এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় স্বস্থ্যের ওপর সাইকেল চালনার ইতিবাচক প্রভাবের কথা উঠে এলেও এবারই প্রথম এর মাত্রা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য উঠে এসেছে। এ-সম্পর্কিত গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ হয়েছে বিএমজে জার্নালে। গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন গ্লাসগো ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাস্কুলার অ্যান্ড মেডিকেল সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. জেসন গিল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। বিষয়টি এখন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত দ্বারা প্রমাণিত। এখন এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলের উচিত হবে সাইক্লিংয়ের জন্য অনকূল ব্যবস্থা গ্রহণ করা। রাস্তায় সাইকেলের জন্য লেনের সংখ্যা বাড়ানো এর মধ্যে একটি হতে পারে।

২৪/৪/২০১৭/১২০/আ/হৃ/