হিড়েক পড়েছে চলনবিলের নৌকা বিক্রিতে…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

চলনবিলের চারদিকে বর্ষার পানি এসে ভরে যাচ্ছে। গ্রামের মেঠো পথগুলোও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিলপাড়ের মানুষের চলাচলের জন্য ডিঙি নৌকার কদর এখন সবচেয়ে বেশি। তাই বসে নেই ডিঙি নৌকা তৈরির কাজে নিয়োজিত ব্যবসায়ী ও মিস্ত্রিরা। এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। আর এই ডিঙি নৌকাকে ঘিরে চলনবিলের বিভিন্ন হাটে গড়ে উঠেছে ডিঙি নৌকা বিক্রির হাট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাঁচকৈর হাট, মির্জাপুর হাট, বিনসাড়াহাট, নওগাঁ হাট ও ছাইকোলা হাট। চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার নওগা হাট ঘুরে দেখা যায়, এলাকাজুড়ে বসেছে নৌকা বিক্রির হাট। পাশাপাশি প্রায় ২০-২৫টি কারখানায় চলছে নৌকা তৈরির কাজ। আশ পাশের উপজেলা থেকে ক্রেতা এসেছেন নৌকা কিনতে। তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল থেকে আসা ক্রেতা আনিসুর রহমান ও জমশেদ আলী জানান, বিগত বছরের চেয়ে এবার চলনবিলে পানি একটু বেশি। নিচু এলাকার সড়কগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে এসব ডিঙি নৌকার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে জেলেদের মাছ ধরার জন্য বেশি দরকার হয় এই নৌকা। তারা জানালেন বর্ষায় চারদিকে ডুবে যাওয়ায় এসব ডিঙি নৌকায় মাছ ধরা হয়। তাই তারা নওগা হাটে এসেছেন ডিঙি নৌকা কিনতে।

তাড়াশ উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের রহিম ব্যাপারি, কলিম খাঁ জানালেন- বর্ষাকালে তাদের হাতে কাজ থাকে না। তাই ডিঙি নৌকা কিনে মাছ ধরে বাড়তি আয় করতেই এসব নৌকা কেনা হয়। এসব নৌকার ক্রেতারা জানালেন, নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি ডিঙি নৌকা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত ৩ বছর ধরে এসব নৌকা প্রতিটি ১০০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় কেনা গেছে।

স্থানীয় নৌকা ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন ও জাহিদুল ইসলাম জানালেন, চলনবিলে বন্যা না থাকায় গত কয়েক বছর নৌকা ব্যবসা মন্দা গেছে। এবার বিলে পানি থাকায় নৌকার চাহিদা বাড়ছে। দিনরাত কাজ করেও নৌকা তৈরির কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। নৌকার দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তারা জানান, কাঠমিস্ত্রিদের মজুরি ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকার দাম বেড়েছে। একটি কারখানার মিস্ত্রি ফজলু মিয়া জানান- প্রতিটি ডিঙি নৌকার জন্য ৩০০টাকা মজুরি পান। দিনে ২টি করে ডিঙি নৌকা তৈরি করতে পারেন তারা। অন্যদিকে চলনবিলের প্রাণকেন্দ্রে চাঁচকৈড় হাটের অবস্থান হওয়ায় চলনবিল কেন্দ্রিক উপজেলাগুলো থেকে এই হাটে বেশির ভাগই লোকজন আসে নৌকা কিনতে।

মনির জামান ১৭-০৬-১৭-০০-৩০