হাওরের মাছ মরে ভেসে উঠছে…

ডেস্ক রিপোর্ট , বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

সম্প্রতি সুনামগঞ্জের হাওরের মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছিল। এ ঘটনার পর পানিতে ইউরেনিয়ামের প্রভাব রয়েছে কী-না তা পরীক্ষা করতে আণবিক শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি সেখানে যান। পরে সেখানকার পানি পরীক্ষা করেন। রবিবার সকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সাংবাদিকদের বলেন, তাদের পরীক্ষায় সুনামগঞ্জের হাওরের পানিতে কোনো তেজস্ক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আণবিক শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. দিলীপ কুমার সাহা জানান, পানিতে কোনো তেজস্ক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া গেলেও সুনামগঞ্জের হাওর থেকে মরা মাছ, মরা হাস ও পানির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা নেয়া হয়েছে। তবে সেখানে ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। এরপর নিশ্চিতভাবে তা বলা যাবে ইউরেনিয়ামের প্রভাব রয়েছে কী-না।

স্বাভাবিকভাবে যে ধরনের তেজস্ক্রিয়া পরিবেশে থাকে হাওরে তার চেয়েও অনেক কম রয়েছে জানিয়ে ড. দিলীপ কুমার সাহা বলেন, পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে ০.২০ মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা থাকে সেক্ষেত্রে হাওরে রয়েছে ০.১০ যা প্রায় অর্ধেক।

হাওরে মাছ ও ধান মরে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, হাওরে কৃষকরা সার দিয়ে থাকেন। ওই সার প্রয়োগের কারণে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এতে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

এর আগে শনিবার রাতে সুনামগঞ্জে পৌঁছায় আণবিক শক্তি কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। আণবিক শক্তি কমিশনের সদস্য ড. দিলীপ কুমার সাহার নেতৃত্বে থাকা এ দলের অন্যান্য দুই সদস্য হলেন ড. বিলকিস আরা বেগম ও কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেবাশীস পাল। প্রতিনিধি দলটি সকালে কাজ শুরু করেন সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে। পানিতে নেমে দীর্ঘক্ষণ তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রয়েছে ওপেনপিট ইউরেনিয়াম খনি। বন্যার পানিতে বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম প্রবেশের কারণে হাওরাঞ্চলে মাছ ও হাঁসের মৃত্যু হচ্ছে এমন সংবাদ সিলেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

২৩/৪/২০১৭/২৯০/ম/জা/