হবু গর্ভবতী মায়েদের জন্য ১০ পরামর্শ…

নূরজাহান নীরা, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

গর্ভের সময়টুকু খুবই স্পর্শকাতর। এই সময় মায়েদের নিজেদের পাশাপাশি বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সাবধান থাকতে হয়। গর্ভকালে হবু মায়েদের জন্য রইলো ১০টি পরামর্শ।

১. পেটের সন্তানটি যেন ভালোভাবে বড় হতে পারে সেজন্য চাই যথেষ্ট সবুজ শাকসবজি এবং আয়োডিন। আরো দরকার আয়রন এবং ক্যালসিয়াম৷ তাই এ সবের কোনোটারই যেন ঘাটতি না থাকে৷ সুতরাং প্রয়োজন নিয়মিত ডাক্তারি চেকআপ।

২. গর্ভাবস্থায় আপনি প্রথম কয়েক মাস ক্লান্তবোধ করতে পারেন। রাতে যদি ঘুম না হয়, তাহলে চেষ্টা করুন দিনের মাঝখানে একটু গড়িয়ে নিতে। তাও সম্ভব না হলে অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য রিল্যাক্স হওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. সকালে উঠেই কুসুম গরম পানিতে গোসল সেরে নিন। তারপর পুরো শরীরে আস্তে আস্তে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন৷ অন্য তেলও অবশ্য মালিশ করা যেতে পারে।

৪. শরীরে হরমোন পরিবর্তনের কারণে এ সময়ে হবু মায়েরা অনেকেই কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এ কথাটি স্বামীসহ পরিবারের সকলকেই মনে রাখতে হবে। শারীরিক এবং মানসিকভাবে মা সুস্থ থাকলে তার প্রভাব গর্ভে থাকা শিশুটির উপরও পড়ে।

৫. এই সময়ে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হবু মায়ের ত্বকেও দেখা দেয় নানা সমস্যা, বিশেষ করে মুখমণ্ডলে৷ তাই সপ্তাহে একবার ‘মাস্ক’ব্যবহার করতে পারেন৷

৬. যদি পা দুটোকে ভারী মনে হয়, তাহলে একটি বাটিতে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে সামান্য লেবুর রস দিন৷ এরপর এতে ছোট টাওয়েল ভিজিয়ে পানিটা চিপে উঁচু করা পায়ে দুই মিনিট পেঁচিয়ে রাখুন।

৭. গর্ভবতী মায়েদের কারো কারো চুলের আগা শুকিয়ে যায়৷ তাই তাঁরা বেবি শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন, এতে চুল নরম থাকে৷

৮. গর্ভবতী মাকে দিনে অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে৷ এ সময় অনেকের মাড়ি নরম হয়ে রক্ত ঝরতে পারে৷ এছাড়া প্রথম ছয় মাস নিয়মিত দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

৯. একজন সুস্থ গর্ভবতীর দিনে কম পক্ষে দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা উচিত৷ তাই মাঝে মাঝেই অল্প অল্প পানি পান করে নেবেন৷ এতে শরীরটা সারা দিন ঝরঝরে লাগবে এবং রক্ত ঘনও হয়ে যাবে না।

১০. শরীর ও মন সুস্থ রাখতে এবং দুটোর মধ্যে সমতা রক্ষা করতে এই বিশেষ সময়ে মুক্ত বাতাস সেবন খুবই জরুরি৷ হাঁটাহাঁটিও খুব ভালো।

বাবার ভূমিকাও এখানে খুবই জরুরি। সব সময় স্ত্রীর সঙ্গে থাকা, তাঁর হাসিকান্না ভাগাভাগি করা ভাল বাবা হয়ে ওঠার প্রথম পাঠ। এছাড়াও নিজের লাইফস্টাইলে ছোটখাট পরিবর্তনও এক্ষেত্রে খুবই কার্যকর, যেমন ধূমপান ছেড়ে দেয়া বা স্ত্রীর সামনে ধূমপান না করা, স্ত্রীর সাথে বেশি সময় কাটানো সবই হবু সন্তানের উপর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে।

৩/৫/২০১৭/১৮০/