হঠাৎ বৃষ্টি হলে যেসব খাবার খেতে পারেন…

নূরজাহান নীরা, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

বৃষ্টি মানেই আলস্য বৃষ্টি মানেই ঘুম

বৃষ্টি মানেই ভাজা পোড়া, আর খিচুড়ি খাওয়ার ধুম… এপার ওপার দুই বাংলার বাঙালিদের ঐতিহ্য হয়ে দাড়িয়েছে এটি । সাধারণত বৃষ্টির দিনে বাঙালি ঘরের সেট মেনু বিশেষ করে গুরুপাক খাবারগুলো, যেমন: খিচুরী, গরু, খাসির মাংস, ভাজাভুজি প্রভৃতি । প্রচন্ড গরমে জনজীবন যেভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরে তাতে করে এক পশলা বৃষ্টি যেন সারা শরীরে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে আসে, প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দেয় শীতল হাওয়া। তাই হঠাৎ হঠাৎ প্রচণ্ড গরমের মাঝে এরকম বৃষ্টিস্নাত দিন সকলের কাছেই কাম্য। আর বৃষ্টির দিন মানেই তো স্পেশাল খাওয়া বিশেষ করে খিচুরী, সাথে মাছ বা মাংস খাওয়া । এর কারণ আমি আমার ধারণা থেকে লিখছি, সেটা হতে পারে যে আসলে গরমে আমাদের খাবারের প্রতি একটা অনীহা চলে আসে, আর গরমে সময় হজমের হের ফের হয় অস্বাভাবিকহারে । পক্ষান্তরে ইচ্ছেকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবেই আমরা একটু রিচ বা গুরুপাক খাবারগুলো এড়িয়ে চলি । প্রতিদিনকার খাবারে এমন কিছু মেন্যু রাখি যা শরীরের জন্য অতি সহনীয়, হজমে সহনশীল আর যেসব খাবার শরীরে বাড়তি উত্তাপ সৃষ্টি করে না ।কারন গুরুপাক খাবার খেলে শরীরের তাপমাত্রা আরো অনেক বেশি বাড়ে। এ সময় সাধারণ খাবার, যেমন—ভাত, মাছ, ডাল, ভর্তা ইত্যাদি খাওয়াই ভালো। গরমে গুরুপাক খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। আবার প্রচুর ঘাম হওয়ার কারণে শরীর হারায় প্রয়োজনীয় পানি ও লবণ । সব মিলে শরীর স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ভোজনরসিক বাঙালির আহারে যে সংযম আসে, সেটি এক পশলা বৃষ্টি এসে উন্মুক্ত করে দেয় । যেহেতু বৃষ্টির পর পর প্রকৃতিতে শীতলতার বিস্তার ঘটে খানিক হলেও, তখন শারীরিক মেটাবলিজমের কোনো প্রকার ব্যাঘাত না ঘটিয়ে অনায়াসে গুরপাক খাবারের প্রতি সে দেয় মন । আর তাছাড়া এমনিতেই আবেগী বাঙালিরা বৃষ্টি খুব পছন্দ করে। বৃষ্টি মানেই কেমন একটা উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় আর তাই তারা মনে করে যে বৃষ্টির দিনে যদি সাথে থাকে কোন স্পেশাল খাবার আইটেম তাহলে বৃষ্টিস্নাত দিনটি হয়ে ওঠে আরও অনেক বেশি উপভোগ্য। তাই আমার মনে হয় এভাবেই মনের অজান্তেই বাঙালিরা শরীরবৃত্তীয় ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর সাথে সমঝোতা করে এই ‘বৃষ্টি হলেই খিচুরী’ প্রচলন চালু রেখে যাচ্ছে ।

২২/৪/২০১৭/১০০/