স্বাধীন ও নিরাপত্তা ছাড়া ৮০ দেশে মানুষের বসবাস…

ডেস্ক রিপোর্ট , বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

‘এখানে গোলাগুলি নেই, নেই সৈন্যদের মহড়া। আমরা সুখে আছি। এখানে আমাদের সন্তানদের জন্য ভালো একটা ভবিষ্যৎ রয়েছে। তারা এখানে ভালোই মানিয়ে নিচ্ছে’, বলছিলেন ডেবোরাহ মেনিয়াং। সুদানের বাসিন্দা ডেবোরাহ ২০১০ সালে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আসেন। ২০১৫ সালে তাঁর নিবাস হয় দেশটির ট্যামওয়ার্থ শহরে।

শুধু সুদানের ডেবোরাহ নন, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ নিউ সাউথ ওয়েলসের ট্যামওয়ার্থ শহরটিতে বাস করেন ৮০টির বেশি দেশের মানুষ। শহরটির মোট জনসংখ্যা ৪৩ হাজার।

ট্যামওয়ার্থ শহরটিতে ভিন্ন দেশ-সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে একাত্ম হয়ে বসবাস করছেন। আছেন সুদানের কৃষ্ণবর্ণ থেকে শুরু করে চীনের সাদা মানুষ। ভারতের হিন্দু থেকে থাইল্যান্ড-মিয়ানমারের বৌদ্ধরাও। তাঁদের মেলবন্ধন বেশ প্রশংসিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে। শহরটির ৩৭ জন অভিবাসীকে গত অস্ট্রেলিয়া দিবসে দেওয়া হয়েছে দেশটির নাগরিকত্ব।

ট্যামওয়ার্থে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের বাসিন্দাদের নিয়ে প্রতিবেদন করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। সেখানে কথা বলা হয়েছে ভারত, চীন, সুদান, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে আগত বাসিন্দাদের সঙ্গে।

১৯৯৯ সালে ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া এসেছিলেন শালিনী প্রতাপ। এরপর ২০০৩ সালে পরিবার নিয়ে ট্যামওয়ার্থ শহরে বসবাস শুরু করেন তাঁরা।

শালিনী বলেন, ‘আমার স্বামী এই শহরে ব্যবসা শুরু করেন ও সেটি বেশ সফল হয়। এটা এ শহরের মানুষের মেলবন্ধনের জন্যই হয়েছে। তারা আমাদের আপন করে নিয়েছে। ট্যামওয়ার্থ একেবারে নিজ দেশের মতো।’

চীনের দম্পতি নিকোল লি ও চার্লি ২০১৪ সালে আসেন ট্যামওয়ার্থ শহরে। এরপর শহরটিতে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান।

লি বলেন, ‘আমরা আগে কখনো অস্ট্রেলিয়া আসিনি। তাই আমাদের কাছে বিষয়টা বেশ রোমাঞ্চকর ছিল। বেইজিং থেকে এসে আমরা শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করছি। আমরা এখানে একেবারে স্বাধীন।’

মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তের একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেন পো কো কো। পরে বিয়ে করেন ওই শরণার্থী শিবিরেরই ক্রিস্টার বেল নামের এক নারীকে। জাতিসংঘের সহায়তায় ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া আসেন তিনি। তারপর ট্যামওয়ার্থ শহরে। পো কো কো বলেন, ‘এখানকার ভাষা ও সংস্কৃতি বেশ কঠিন। তবে আমরা সবাই ইংরেজি শিখছি ও কাজ করছি। আমাদের সন্তানরাও দ্রুত শিখছে।’

১৮/৪/২০১৭//৮০/অ/হা/