সিডরে নিখোঁজের ১০ বছর পর ফিরে এসেছে বরিশালের সোহেল…

তৌহিদ আজিজ, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

আমতলীতে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরে নিখোঁজ হন মো. সোহেল (২২)। ১০ বছর পর  সকালে সোহেল তার পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন।

সোহেল বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামের এনসান আলীর ছেলে।

ঘূর্ণিঝড় সিডরের একদিন পূর্বে ঘটখালী গ্রামের ১২ জন দিন মজুর ধানচী লতাগাছ কাটতে ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগর ও পায়রা নদীর মোহনায় একটি চরে অবস্থান নেয়। সিডর শুরু হলে পানির প্রচন্ড ঢেউয়ে রাতে ট্রলার উল্টে সাগর বক্ষে নিমজ্জিত হয়। এরপরে ১২ জন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঝড়ের ৪দিন পরে ২ জন বাড়ী ফিরে এলেও দিনমজুর খলিল, ছোবাহান, ইউসুব, জব্বার, হোসেন, মনিরুল, দেলোয়ার, আলতাফ, রত্তন এবং সোহেল নিখোঁজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। পরিবারের স্বজনরা ধরে নেয় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
রাতে উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারের জেসমিন নামের এক নারী  সিডরে নিখোঁজ হওয়া সোহেলকে বাজারে ঘোরা ফেরা করতে দেখে চিনতে পারেন। জেসমিন ঘটখালী গ্রামে সোহেলের পরিবারের কাছে খবর দিলে আলম বিশ্বাসসহ প্রতিবেশীরা সকালে আরপাঙ্গাশিয়া বাজারে ছুটে যান।

এরপর সোহেলকে তাঁরা বাড়ীতে নিয়ে যায়। এসময় সোহেলের শরীরে থাকা শনাক্তকরণ চিহ্ন দেখে মা হাজেরা খাতুন তার ছেলেকে চিনতে পেরে বুকে টেনে নেয়।’’

সিডরের সাড়ে ৯ বছর পরে সন্তানকে ফিরে পেয়ে মা হাজেরা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি বাংলারিপোর্টকে বলেন- মোর হারানো মানিক ফিররা পাইছি। সকাল থেকে সোহেলকে দেখতে শত শত মানুষ তাদের বাড়ীতে ছুটে আসছে। সোহেল এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি কি কারনে সে এরকম হয়েছে তা জানা জায়নি।

সোহেল এখন আগত লোকজনের দিকে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকেছেন। কোন কথা বলছে না। তার পরিচিতদের দেখলে শুধু চোখের পানি ছেড়ে দেয়। যে কারণে এতদিন কোথায় কিভাবে ছিল তা জানা জায়নি। সুস্থ্য হলে হয় তো জানা যাবে।

আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়,  রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে একটি ট্রাক থেকে ৫ থেকে ৬ জন লোককে বাজারে নামিয়ে ট্রাকটি দ্রুত চলে যায়। ট্রাক থেকে নামানো ওই লোকদের মধ্যে সোহেল ছিল।”

১২-০৬-১৭-০০-১৩০