সাদা টি-শার্ট ও ঢিলে পাজামা পরে যোগাসন করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে লখনউয়ের রামাবাঈ ময়দানে যোগাসন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী

নরেন্দ্র মোদি। বুধবার সকালে লখনউয়ের আম্বেদকর সভাস্থলে ওই বিশাল যোগ সম্মেলনে মোদির সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও তার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরাসহ প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই খোলা ময়দানে এদিন সাদা টি-শার্ট ও ঢিলে পাজামা পরে রামাবাঈ ময়দানে অন্যদের সঙ্গে যোগ করেন মোদি।

যোগাসনের বসার আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগের প্রতি দেশের মানুষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেক দেশ আছে যারা ভারতের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য জানে না; সেই দেশগুলোও এখন যোগের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে জুড়েছে। এই যোগ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের শরীর, মন ও আত্মাকে জুড়েছে। তেমনি বিশ্বকে একসূত্রে বাঁধার ক্ষেত্রেও যোগের বড় ভূমিকা রয়েছে।’

মোদি জানান, ‘আগে যোগ শুধুমাত্র হিমালয় পর্বতমালায় সাধু-সন্ন্যাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন এটি প্রতিটি মানুষের জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। যোগ এখন শরীরকে সুস্থ রাখার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এটি খুব ব্যয়সাপেক্ষ নয়, তাই আমি সকলের কাছে অনুরোধ করব প্রত্যেকে যেন যোগকে তাদের জীবনের অঙ্গ হিসেবে নেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি খুশি যে গত তিন বছরে বহু জায়গায় যোগ প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। যোগব্যায়ামের শিক্ষকদের চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। আজ শুধু ভারতেই নয়, বিভিন্ন দেশ থেকে উঠে আসছে যোগব্যায়ামের ছবি।’

তবে শুধু ফিট থাকাটাই নয়, আত্মশুদ্ধির জন্যও যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘শুধু খাবারে স্বাদ আনতেই নয়, শরীরকে সুস্থ রাখতে লবণের যেমন প্রয়োজন রয়েছে- তেমনি শরীরে যোগের প্রয়োজন রয়েছে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দাবি মেনেই তিন বছর আগে ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মর্যাদা দিয়েছে জাতিসংঘ। সেই থেকে বিশ্বের ১৮০টি দেশেই আন্তর্জাতিক যোগদিবস পালিত হচ্ছে। ভারতের মানুষের কাছেও যোগের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। আগের থেকে অনেক বেশি মানুষ যোগব্যায়ামে আগ্রহী হয়েছে।

তবে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই লখনউয়ের পাশাপাশি দিল্লির বহু জায়গায়ই রেইনকোট ও ছাতা মাথায় দিয়ে যোগাসনে অংশ নিতে দেখা যায় বহু মানুষকে। দিল্লির নেহেরু পার্ক, লোধি গার্ডেন, তালকোটরা স্টেডিয়াম, ইন্ডিয়া গেটসহ একাধিক জায়গায় যোগের আসর বসে।

রাজধানীর কনট প্লেসে তো রীতিমতো উৎসবের চেহারা নেয় এই যোগের অনুষ্ঠান। সেখানে নানা রঙের ম্যাট পেতে সাধারণ মানুষের সঙ্গেই যোগায় অংশ নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু, ক্রীড়ামন্ত্রী বিজয় গোয়েল, দিল্লির লেফট্যানেন্ট গভর্নর অনিল বাইজল, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এনডিএ’র রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী রাম নাথ কোবিন্দ।

অন্যদিকে, আহমেদাবাদে যোগগুরু রামদেবের সঙ্গে এক সাথে যোগাসন করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। গুয়াহাটিতে যোগাসনের অংশ নেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসেও যোগ দিবসে অংশ নেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

ভারতের কাশ্মীরের লাদাখে সমতলের চেয়ে ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় প্রায় মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেই সীমান্তের দায়িত্বে থাকা ইন্দো-তিবেতিয়ান জওয়ানরা যোগাসনে অংশ নিয়েছিলেন। মুম্বাইয়ে বিমান বহনকারী যুদ্ধযাহাজ আইএনএস বিক্রমাদিত্যের ওপরেই নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা যোগ করেন।

২১-০৬-১৭-০০-৪০- আজিজ হৃদয়