শেরপুরের ক্ষতি যেন কাল বৈশাখীর মত…

ইব্রাহিমম খলিল প্রধান, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার ৫৬ হেক্টর জমির বোরো ধান ও ৫০ হেক্টর জমির সবজি পানিতে ডুবে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। এই বন্যাতে কৃষকের ২৭ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে জেলা কৃষি সম্প্রষারণ অধিদফতর।

কৃষি সম্প্রষারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল থেকে টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এবার বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এ অকাল বন্যায় পানিতে আক্রান্ত হয় দুই হাজার ৯৯০ হেক্টর জমির বোরো ধান। তার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ধান, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক হাজার ৯৪৫ হেক্টর জমির ধান। সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয় দুই হাজার ৫৬ হেক্টর জমির ধান ও ৫০ হেক্টর জমির সবজি। এতে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় আট হাজার কৃষক।

উপজেলার দরিকালিনগর গ্রামের কৃষক সিরাজুল বলেন, ‘আমার আবাদ করা সব ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অথচ এ বোরো আবাদেই আমার সংসার চলতো। এখন কিভাবে আমাদের সংসার চলবে এ নিয়ে চিন্তায় আছি।’

একই গ্রামের কৃষক উকিল মিয়া বলেন, ‘ধার দেনা করে আবাদ করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে বন্যা এসে আমাকে একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে।’

উপজেলার কৃষি অফিসার মো. কোরবান আলী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের তথ্য সংশ্লিষ্ট দফতরে যথাসময়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারিভাবে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এজেডএম শরীফ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসকের বরাদ্দ ৮০ হাজার টাকার সিংহভাগ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

৪/৫/২০১৭/৯০/