লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষের আতঙ্ক ওসি রফিক…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

ঢাকা উত্তরা পশ্চিম থানার সাপ্তাহিক অপরাধ দমন পত্রিকার সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সাগর হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ওসি রফিকুল ইসলাম এখন লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষের মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। দুর্নীতিবাজ এ পুলিশ কর্মকর্তা গেল বছরের ২৪ জুলাই লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছেন। মাদক নিমূর্লের নামে তিনি নিরাপরাধ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। গ্রেফতার বাণিজ্য, মিথ্যা মামলায় হয়রানি, মামলা নথিভূক্ত করণে অনিয়ম, আসামির নিকট অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে বাদিকে নির্যাতন-হুমকি, রিমান্ডের নামে নির্যাতনসহ বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে তার থানার খোদ পুলিশ সদস্যদের নির্যাতনেরও অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করার ১ মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে জনশ্রুতি রয়েছে ওপর মহলে ওসি রফিকের হাত থাকায় বারবার বিভিন্ন অনিয়ম করার পরেও পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফলে তিনি ওসি হিসেবে দায়িত্বপালন করলেও পুলিশ সুপার তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অসহায় বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে লালমনিরহাটের একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতি রাতে ওসি রফিক শহরের বেশ কিছু পয়েন্টে টহল পুলিশ বসিয়ে দেদারচে চাঁদাবাজি করছে। বিত্তবান সম্মানী ব্যক্তিদের নানা বাহানায় থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে মোঠা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন মাদক মামলায়। একটি সূত্র জানায়, প্রতিরাতে ওসি রফিক এভাবে ঘুষ বাণিজ্য করছেন। শুধু তাই নয়, প্রকৃত মাদক সম্রাটদের তিনি নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন, হাতিয়ে নিচ্ছেন মোঠা অঙ্কের টাকা। আর ছোটখাটো মাদক সেবীদের কিছু পরিমাণ মাদকদ্রব্য দিয়ে ঐ ওসি চালান দিয়ে আই ওয়াশ করছে বলে ঐ সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি আরো জানায়, তার এ কাজে সদর থানার ২/১ জন পুলিশের এসআই সহায়তা করে আসছে। এদিকে লালমনিরহাট সদর থানার এক পুলিশ সদস্য জানান, ওসি রফিকের এহেন কাজে কতিপয় পুলিশ সদস্যরা বিরূপ আচরণ করলে তাদেরকেও নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ওসি রফিক তার থানার এক পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধর করে। এতে ঐ সদস্য জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ঘটনায় দেশের বেশ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রচারিত হলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেয় জেলা পুলিশ। ঐ পুলিশ সদস্য নাম গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রফিকুল ইসলাম ওসি হিসেবে যোগদান করার পর সদর থানায় নতুন করে শুরু হয়েছে রিমান্ড বাণিজ্য। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে প্রথমে নির্যাতন মওকুপের কথা বলে নূন্যতম প্রায় লক্ষাধিক টাকা দাবি করা হয়। যারা টাকা দিতে পারেন, তাদের নিস্তার মেলে নির্যাতন থেকে। আর যারা তার দাবিকৃত ঘুষ দিতে পারেন না তাদেরকে প্লাস দিয়ে নির্যাতন করা হয়। তিনি প্রতিবেদককে জানান, ওসি রফিকুল ইসলামের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি মুখে ফেরেস্তার মতো কথা বলেন আর কাজের ক্ষেত্রে শয়তানের মতো ভূমিকা রাখেন। দ্রুত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলীও চান তিনি। এসব নিয়ে ওসি রফিকুল ইসলাম রফিকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ভালো কাজ করলে ভূলত্রুটি ও সমালোচনা থাকবে। এছাড়াও অতিতে অনেক সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে লিখে কিছুই করতে পারেনি, এখনো কেউ পারবে না বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। জনগণের সেবক পুলিশের এহেন কর্মকা-ে সাধারণ জনগণ অতিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্বক ভাবে ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

ফ-শি-১৩-০৬-১৭-০০-২০