রোজার আগেই রাজধানীর বাজারে আগুন….

মনির জামান, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

মাহে রমজানের এখনো বাকি প্রায় ১ মাস। অথচ এখনই বাজারে নিত্যপণ্যের গায়ে যেন আগুন লেগেছে। একের পর এক পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ক্রেতারা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজানের আগেই অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে সরকারের এমন হুমকি-ধামকির মুখে ব্যবসায়ীরা আগেই ধাপে ধাপে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে দাম বাড়ার পেছনে বিক্রেতারাও নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রমজানে চাহিদা তৈরি হবে এমন পাঁচ পণ্যের দাম কয়েক দিনে কেজিতে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। এ ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত। এক বছরে ২৮ শতাংশ দাম বেড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭৫ টাকায়। নতুন মসুর ডাল বাজারে ওঠার পরও তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৫০ টাকায়। রমজানকে সামনে রেখে মসুর ডালের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাত ও মানভেদে দাম ১৭ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১০০-৪০০ টাকায়। শুধুমাত্র কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৬ টাকায়। উৎপাদন ভালো হওয়ায় গত এক বছরে পেঁয়াজের দাম কমেছে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত। এ ছাড়া দাম বেড়ে গরুর মাংস ৫০০-৫৫০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৫০ টাকায়। এ যাবতকালের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে রসুন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি রসুন। ধাপে ধাপে বাড়ছে এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি, শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা, তেজপাতার দরও।

এদিকে ডাল, খেজুর, চিনি, মুড়ির দাম তেমন না বাড়লেও দু’তিন মাস আগে থেকেই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে নিয়েছে বলে বাজার পর্যবেক্ষকরা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতে, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম এমনভাবে বাড়ানো হচ্ছে যে রমজানে তা আর বাড়ানোর কোনো প্রয়োজনই পড়বে না।

৩০/৪/২০১৭/১৭০/