রেলক্রসিংগুলো এখন যেন মরণফাঁদ….

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকাধীন বিভিন্ন রেলক্রসিংগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে ঐসব রেলক্রসিংগুলোতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে শতাধিক লোকের প্রাণহানিসহ বহু যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

রেলওয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের তদারকির অভাব, গেটম্যান না থাকা, আর রেললাইন সংলগ্ন রেলওয়ের ভূমি অবৈধ দখলে নেয়ায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে ঐসব রেলক্রসিংগুলো। লাকসাম রেলওয়ে জংশনের আওতাধীন ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথে ৬৮টি, লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের আউটার সিগন্যাল পর্যন্ত ১টি এবং লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথে ৪৮টিসহ ১১৭টি রেলক্রসিং রয়েছে। যা স্থানীয়দের তথ্য মতে প্রায় দুই শতাধিক। এর মধ্যে ৩৪টি রেলক্রসিংয়ে গেট ও গেটম্যান থাকলেও বাকিগুলো রয়েছে অরক্ষিত। ফলে গত কয়েক বছরে ঐসব রেলক্রসিংয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে শতাধিক লোকের প্রাণহানিসহ বহু যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে। আর তদারকির অভাবে অরক্ষিত কয়েকটি রেলক্রসিংয়ে সতর্কবার্তা সাইন বোর্ড দিলেও থেমে থাকেনি দুর্ঘটনা। একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি রেললাইনের লেভেলক্রসিং সংলগ্ন রেলওয়ের ভূমি অবৈধ ভাবে দখল করে বাড়ি-ঘর, দোকানপাট নির্মাণ ও গাছগাছালি রোপণ করার কারণে পথচারী বা যানবাহন চালকদের ট্রেন চলাচল চোখে পড়ছে না। এ কারণে রেলক্রসিং দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে পথচারী বা যানবাহন চালকরা প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন। এদিকে গত এক বছরে ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা ধর্মপুর, হরিশ্চর, উত্তর লাকসাম, সাতবাড়িয়া, লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের বিপুলাসারে অবৈধ ও অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয় পারাপারের সময় ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি স্বপন কান্তি বড়ুয়া জানান, লাকসাম রেলওয়ে থানার অধীনে ১১৭টি রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি রেলক্রসিং রয়েছে বৈধ। বাকিগুলো অবৈধ লেভেলক্রসিং হিসেবে রেলওয়ে কতৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে পারাপারের জন্য সতর্কবার্তা লিখে সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে রেখেছেন। আর নিজেদের অসাবধানতার জন্য অবৈধ লেভেলক্রসিংগুলোতে প্রতিনিয়তই প্রাণহানীসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

৯/৪/২০১৭/৫০/মা/হা/তা/