রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ-আমুলিয়া রোডে যান চলাচল নিষেধ…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রী হয়ে আমুলিয়া পর্যন্ত সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। রিটকারী আইনজীবী এমএমজি সারোয়ার (পায়েল) এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ সোমবার এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জাহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার পায়েল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

তিনি জানান, রাজধানীর ঢাকার রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রী হয়ে আমুলিয়া পর্যন্ত রাস্তার ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সাথে, এই রাস্তা দিয়ে ভারি যান চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান এবং রাস্তাটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তাকে কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, পুলিশ কমিশনার, রামপুরা থানার ওসি, খিলগাঁও থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। রামপুরা বনশ্রীর স্থানীয় বাসিন্দা এ এফএম কামরুল হাসান খান পাঠান বাদী হয়ে ৪ জুন রিট দায়ের করেন।

আইনজীবী গোলাম সারোয়ার পায়েল আরো জানান, ওজন নীতিমালা ২০১২ অনুযায়ী সিঙ্গেল এক্সেল রোডে ১৫.৫ টন ওজনের বেশি ভারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া আছে। তারপরও ওই ওই নির্দেশনা অমান্য করে ভারি যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাটির মধ্যে এখন বিশাল খানা খদ্দর সৃষ্টি হয়েছে। এ রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রীর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রামপুরা-ডেমরা-আমুলিয়া সড়কটি মাত্র কয়েক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণকালীন থেকে রাস্তাটির ওপর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ টন ভারবাহী যানবাহন চলাচলের নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও তদারকির অভাবে এ রাস্তা দিয়ে চলছে ৩০-৪০ টন পণ্যবাহী লরি-ট্রেইলর। এতে রাস্তাটি নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, অতি ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তায় মাঝে মধ্যে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে কোথাও কোথাও খালের মতো মনে হয়। তার পরও ভারী যান চলাচল বন্ধ নেই। বিভিন্ন স্থানে ভারি যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত সাইন বোর্ড বসানো হলেও চালকরা তা আমলে আনছেন না। এমনকি দিনের বেলায়ও ট্রাফিক পুলিশকে রাস্তায় সঠিক ওজনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে দেখা যায়নি।

রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রী হয়ে রাস্তাটি মিশেছে ডেমরা হাইওয়ের ডেমরা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যৈর সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক বিভাগের বসানো সাইন বোর্ডগুলোতে লেখা রয়েছে, ‘সড়কটিতে ভারি যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ।’ সেই নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে চলছে ১০ থেকে ২০ চাকার লরি ও ট্রেইলর।

এদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ঢাকা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মেহেদী ইকবাল ২০ এপ্রিল রাস্তাটি রক্ষায় সহযোগিতার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার, রামপুরা ও খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ দায়িত্বশীল আটজনকে চিঠি দেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘গত বছর ডেমরা-আমুলিয়া-রামপুরা সড়কটি হালকা ও মাঝারি ওজনের যানবাহনের জন্য নির্মাণ করা হয়। চালু হওয়ার পর থেকেই সড়কটিতে ভারী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি, ফুয়েল ট্যাঙ্কারসহ অন্যান্য ভারি যানবাহন চলাচল শুরু করে। ভারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইন বোর্ডও লাগানো হয়েছে। তার পরও সড়কটিতে ভারি যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল, গর্ত সৃষ্টি হয়ে ভেঙেচুরে গেছে। জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকল্পে এবং সড়কটি সচল রাখার স্বার্থে এখনই অতিরিক্ত ওজনবাহী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

আf-হৃ-০৫-০৬-১৭-০০-১১০-