রাঙামাটিতে চলছে হাহাকার, আসছে না খাদ্য…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

অতি বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সড়ক যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। যাত্রী ও পণ্যবাহী কোনো যানই সেখানে যেতে পারছে না। জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দামে দেখা দিয়েছে অরাজকতা। তবে সীমিত পরিসরে যোগাযোগ চলছে জলপথে।

তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে আগামী ৩ দিনের মধ্যে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করার উপযোগী হবে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখার প্রধান মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান। তবে সড়কপথে যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে আরও ১ মাস সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসন পাহাড় ধসের ঘটনায় আজ দুপুরেও জুরাছড়ি উপজেলা থেকে ২ জনের লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে ৫ জেলায় পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৫৮ জনে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে ভয়ঙ্কর মানবিক বিপর্যয়ের পথে এখন রাঙামাটি। একদিকে মৃত মানুষের জন্য স্বজনের হাহাকার, অন্যদিকে বাজারে জিনিসপত্রের কমতি ও চড়া দাম। একইসঙ্গে বাজারে নিত্যপণ্যেরও ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।

জ্বালানি তেলের সঙ্কটে রাঙামাটিতে অভ্যন্তরীণ যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শহরে হাতেগোনা কয়েকটি ব্যক্তিগত যানবাহন ও অটোরিকশা চলাচল করছে। গণপরিবহণের ভাড়া বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ১০ টাকার গাড়িভাড়া ৩০ টাকায় উঠেছে। তবে রাঙামাটি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান দাবি করেন- দুর্যোগ মুহূর্তে তারা ন্যায্য ভাড়া নিচ্ছেন। কোনো চালক বেশি ভাড়া নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গ্যাস সিলিন্ডারসহ সড়কপথে যেসব পণ্য রাঙামাটিতে বাইরে থেকে আসে সেগুলোর সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ৪টি পেট্রোল পাম্প এবং কয়েকজন খুচরা তেল বিক্রেতাই জেলা সদরে জ্বালানি প্রাপ্তির উৎস। পাম্পগুলোতে বহু মানুষকে প্লাস্টিকের ক্যান হাতে লাইন দিয়ে তেলের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। দেখা গেছে মারামারির চিত্র। জ্বালানি তেলের অভাবে ব্যক্তিগত ও অফিসের জেনারেটরগুলোও বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা জানান, রাঙামাটিতে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার পয়েন্ট ডিলার ৫০ জন। এসব প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি মজুদ প্রায় শেষ। এতে করে দুর্গম এলাকা থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে আসা ব্যবসায়ীরা খালি হাতেই ফেরত যাচ্ছেন।

জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী মিন্টু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুস সাত্তার মিন্টু বলেন, আমাদের সংগ্রহে থাকা তেল শেষ। চট্টগ্রাম থেকে তেল আনার সব সড়কপথও বন্ধ। এখন বিশেষ ব্যবস্থায় কাপ্তাই হয়ে নৌপথে তেল আনতে যে খরচ পড়বে, তা বহন করা অসম্ভব। এখন শুধুমাত্র প্রশাসনের সহযোগিতা পেলেই আমরা তেল আনতে পারবো। এছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

রাঙামাটির জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী হলিউড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী শহিদুজ্জামান রুমান বলেন, গত শনিবার থেকে নৌপথে জ্বালানি সরবরাহের জন্য পদ্মা অয়েল কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সবকিছু ঠিক হলে আজ সোমবার থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এদিকে পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকায় শহরের বাজারে সব ধরনের মাছ-মাংস, শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু কিছু ব্যবসায়ী। পাশাপাশি দুর্গম এলাকাগুলোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। খাদ্যপণ্যের যোগানের জন্য জেলা সদরের ওপর নির্ভরশীল শুভলং, বরকল, হরিণা, নানিয়ারচর, মায়ানী এলাকার ব্যবসায়ীরা রাঙামাটিতে এসে পণ্য সংগ্রহ করতে পারছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো।

পণ্যের দাম বাড়ানো প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। তাদের কড়াকড়ি আরোপের পর ব্যবসায়ীরা কিছুটা সহনীয় দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এরই মধ্যে মাইকিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত গত শুক্রবার ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে।

রিজার্ভ বাজারের চাল ব্যবসায়ী ধীমান সাহা জানান, রাঙামাটি সড়ক বন্ধ থাকায় বিকল্প পথ হিসেবে কাপ্তাই রুট ব্যবহার করে পণ্য সরবরাহ করা যায়, কিন্তু খরচ বেড়ে যাবে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশি দামে পণ্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে বাড়তি খরচ করে খাদ্যপণ্য এনে প্রশাসনের রোষানলে পড়তে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা।

১৯-০৬-১৭-০০-২০-ম-জা