রমজানের ইফতারে সাথে কি বিষ খাচ্ছে…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

রমজান মাস মানেই ইফতারে নানা পদের ভাজাপোড়া মুখরোচক খাবার। কিন্তু এসব খাবার কতটা নিরাপদ? অসচেতনতায় বারবার ব্যবহার করা একই তেল থেকে যে রাসায়নিক বিষ (দূষক) ছড়ায়, তা বাড়াচ্ছে হৃদরোগ আর ক্যান্সারের ঝুঁকি।

বাইরের খাবারের ক্ষতির কথা ভেবে রমজান মাসে ইফতার তৈরি করছেন বাড়িতেই। খাবারকে মচমচে করতে যেমন বেশি তেলে ভাজছেন, তেমনি সেই তেলই ব্যবহার করছেন বারবার। এই পোড়া তেল যে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তা কি আপনার অজানা? নাকি জেনেও ভুল করছেন?

এছাড়া রাস্তার ধারের বিভিন্ন ইফতারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, ইফতার তৈরীতে নিম্নমানের তেলের ছড়াছড়ি। তার উপর বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে একই তেল। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, একই তেল বারবার ব্যবহারের ফলে ছড়ায় রাসায়নিক দূষক। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, হৃদরোগ, ত্বকের সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ক্ষতির কথা জেনে হোক কিংবা না জেনে, তেলে ভাজা এসব মুখরোচক খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহের যেন কমতি নেই। ক্রেতা আরমান হোসেন জানান, এসব খাবার ছাড়া ইফতার অসম্পন্ন বলে মনে হয় তার। আরেক ক্রেতা মো. লতিফের ভাষ্য, নিরুপায় হয়েই এসব খাবার খেতে হচ্ছে মানুষকে। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তিনি।

শুধু রমজান নয়, সারাবছরই এ ধরনের তেলে ভাজা খাবার বিক্রি হয়। তাই পুষ্টিবিদরাও বলছেন, সবসময়ই এসব এড়িয়ে চলতে। অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, একই তেলে বার বার ভাজলে সে তেলে ফ্রী ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। ফ্রী ফ্যাটি এসিড যেহেতু নিজে একটা এসিড তাই তেলে এর পরিমাণ বাড়লে তেলের এসিডিটিও বেড়ে যায়। ফলে গ্যাট্রিকের সমস্যা, রক্তনালী, হৃদপিন্ড, লিভার, কিডনী এবং ব্রেনে ক্ষতিকর প্রভাবসহ ক্যান্সার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থুলতা, অ্যালজেইমারস ডিজিজ, বন্ধ্যাত্বের মতো মারাত্মক রোগ-বালাই হতে পারে।

এদিকে, খাদ্যে ভেজালসহ ক্রেতাকে যে কোনো ধরনের প্রতারণা নজরদারী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। কর্মব্যস্ত জীবনে ঘরে হোক কিংবা বাইরে, নিরাপদ খাবার গ্রহণের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছে তারা।

তেলে ভাজা এসব খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর একথা নতুন নয়। আবার রমজান মাসে এসব খাবার গ্রহণও বাধ্যতামূলক নয়। তবু্ও মানুষ খাচ্ছে। তবে পোড়া তেলের এসব খাবার খেয়ে অসুস্থ হবেন নাকি সুস্থ শরীরে রোজা রাখবেন সে সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।

হৃদয় ০৮-০৭-১৭-৯০-০০