মোস্তাফিজের না হয়েছে টাকা,না তার বয়স…

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমTaka

মুস্তাফিজ এখনও নিশ্চিত করেননি যে, তিনি আইপিএল খেলবেন না। তবে আকারে-প্রকারে যা বলেছেন, তাতে ধরে নেওয়া যায়, এবার আর আইপিএল খেলছেন না মুস্তাফিজুর রহমান। লেখার শুরুতেই তাকে এই সাহসী সিদ্ধান্তের পথে হাটতে পারার জন্য টুপি খুলে স্যালুট জানাই।

আইপিএলে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা শুধু কঠিন নয়, প্রায় অসম্ভব ধরণের কঠিন একটা সিদ্ধান্ত। আজকের দিনে কোটি কোটি ডলারের মালিক ক্রিকেটাররা অবধি এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাদের বুক কাঁপে। বুড়িয়ে যাওয়া ক্রিকেটাররাও টাকার নেশায় অবসরে যেতে পারেন না।

সেখানে মুস্তাফিজ না কামাতে পেরেছেন এখনও ‘কোটি কোটি টাকা’, না তার বয়স হয়েছে।

মুস্তাফিজের অর্থনৈতিক ইতিহাস প্রথমে ভাবতে হবে।

 

এ কথা বলতে লজ্জার কিছু নেই যে, মুস্তাফিজ এসেছেন অত্যন্ত প্রান্তবর্তী এক পরিবার থেকে। অর্থের প্রয়োজনীয়তা ও আকাঙ্খা যেখানে অনেক বেশী। ফলে তার পক্ষে কোটি টাকার আইপিএলকে ‘না’ বলাটা নিজের পায়ে কুড়ুল মারার মতো একটা কঠিন কাজ ছিলো।

মুস্তাফিজের বয়সটাও বিবেচনায় নিতে হবে।

এখন কৈশোর সে অর্থে পার করেননি। এই বয়সেই হায়দারাবাদ তাকে ডলারের বান্ডিল নিয়ে ডাকছে। আমরা ঢেড়ে খোকারা একটা পাচ শ টাকার বান্ডিলের হাতছানি এড়াতে পারি না। সেখানে মুস্তাফিজের পক্ষে এই ডলারকে ‘না’ বলাটা বিশ্বসুন্দরীর ডাকে সাড়া না দেওয়ার মতো কঠিন ছিলো।

মুস্তাফিজের ইনজুরিকে বিবেচনায় নিতে হবে।

 

মাশরাফির চেয়েও সম্ভবত বেশী ইনজুরি প্রবণ খেলোয়াড় মুস্তাফিজ। পাশাপাশি মানসিক শক্তিতে তালহা যুবায়েরের চেয়েও দুর্বল বলে সন্দেহ করি। ফলে স্রষ্ঠা না করুন, মুস্তাফিজের ক্যারিয়ার খুবই অনিশ্চিত একটা ভবিষ্যতের দিকে চলছে। এ অবস্থায় যে কোনো সাধারণ মানুষ ভাববে, ভালো-মন্দ কিছু হয়ে যাওয়র আগে কামিয়ে নেই। এই ইচ্ছাটাকে দমন করতে পারাটাও অনেক বড় একটা ব্যাপার ছিলো।

পাশাপাশি জৌলুস, বিদেশী তারকাদের কাছাকাছি থাকা এবং দুনিয়া সবচেয়ে ঝলমলে আসরে আলোচনায় থাকার মতো ব্যাপারগুলোও মিস করতে হবে। এটাও মেনে নেওয়া কঠিন কাজ; খুব কঠিন।

কিন্তু মুস্তাফিজ সেই কঠিনকে ভালোবাসতে চলেছেন।

 

বাংলাদেশের জন্য, মুস্তাফিজের নিজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিকল্পও কিছু ছিলো না। আমরা যারা ভেতরের খবর জানতাম, তারা বুঝতে পারছিলাম, মুস্তাফিজ এই আইপিএল বনাম ক্যারিয়ার; একটা দ্বন্ধে ভুগছেন অনেকদিন ধরেই।

সেই নিউজিল্যান্ড সফরে দলে ফেরার পর থেকে তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিলো এই ভাবনা। অনেকের অনুমান এই মনের ভেতরের টানাপোড়ের তাকে নতুন করে অবসাদে আক্রান্ত করেছিলো। ফলে শারীরিকভাবে হলেও মানসিক ফিটনেস ফিরে পাচ্ছিলেন না।

পাশাপাশি এক ধরণের অবিশ্বাস, সন্দেহ ও অভিমান নানা মহলে যে পুঞ্জিভুত হচ্ছিলো, সেটাও অস্বীকার করা যাবে না। শেষ অবধি মুস্তাফিজ যদি আইপিএলকে এই মৌসুমের মতো পুরোপুরি ‘না’ বলে ফেলতে পারেন, তাহলে কোনো সন্দেহ নেই, এক লাফে পরিস্থিতির নাটকীয় উন্নতি ঘটবে।

সবার প্রথমে যে উপকারটা হবে, পরিস্থিতিটা হালকা হয়ে যাবে। গুমোট ভাবটা কেটে যাবে। একমুখী একটা চিন্তা নিয়ে খেলা ও অনুশীলনে ছুটবেন মুস্তাফিজ।

এবার আসুন, আমরা কেনো মনে করি যে, মুস্তাফিজের আইপিএল এবার খেলাটা ঠিক হবে না। আমার মনে হয়, এটা দেশের বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরাও বোঝে যে, ইনজুরিতে ভুগতে থাকা এই পেসার জাতীয় দলে টানা খেলার ফাঁকে আইপিএলে গেলে নিজের ক্যারিয়ারকেই ঝুকিতে ফেলে দেবেন।

 

৭ জুন অবধি জাতীয় দলের শ্রীলঙ্কায় খেলা। মে মাসের শুরুতে ইংল্যান্ডে ক্যাম্প। মাঝখানের সময়টা কাঁধটাকে একটু বিশ্রাম না দিলে সমূহ সর্বনাশ। তারওপর খেলাটা আইপিএল। এখানে টাকার হিসেব হয়, রূপীর হিসেব হয়, ডলারের হিসেব হয়।

ডিম পাড়া হাস কিনে কেউ মাঠের বাইরে বসিয়ে রেখে ভবিষ্যত ভাববে না। সে আশা করাও কঠিন। ফলে এই টাইট শিডিউলে এবার আইপিএল খেলতে গেলে মুস্তাফিজ যে আক্ষরিক অর্থেই শেষ হয়ে যেতেন, তাতে সন্দেহ নেই।

আমরা হাফ ছেড়ে বেচেছি মুস্তাফিজ সেই সিদ্ধান্তটা নিতে পেরেছেন। আমরা আবার তাকে স্যালুট জানাই।

ও আচ্ছা, আরেকটা লোককে স্যালুট জানানো দরকার; যিনি মুস্তাফিজকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বুঝিয়েছেন, বলেছেন এবং অনুরোধ করেছেন; শেষ অবধি রাজী করিয়েছেন।

সেই লোকটাকে স্যালুট জানালেও তো কম হয়ে যায়। তারপরও আসুন, উঠে দাড়াই, তাকে একটা বড় স্যালুট জানাই।লোকটা কে? নাম বলিনি?নামটা অনুমান করে নিন।

 

৩/৪/২০১৭/৯০/তৌ/আ/