মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার নদী ভাঙ্গনরোধের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবেন মোমিন মেহেদী

মেহেন্দীগঞ্জ থেকে মো. সোলায়মান
মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার নদী ভাঙ্গনরোধের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান ও বরিশাল-৪(হিজলা- মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মোমিন মেহেদী৤ নদীভাঙন হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জবাসীর কাছে নতুন কিছু নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা এ উপজেলার মানুষকে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলেই নদীভাঙনের মুখোমুখি হতে হয়। প্রত্যেক বছরই নদীভাঙনে কোনো না কোনো গ্রাম আর বহু মানুষের ভিটেমাটি বিলীন হবেই। বর্ষাকাল আসলেই এ উপজেলার মানুষের মাঝে দেখা দেয় উত্কণ্ঠা।
গতকাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর, গোবিন্দপুর, উলানিয়া, জাঙ্গালিয়া এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এসব ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমি মেঘনা, তেতুলিয়া কালাবদর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। শ্রীপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাহামুদ হাসান জানান, গত দুই বছরের ভাঙনে নালীবাড়ির ১২ একর জমি, মাহাতাব বেপারীর ৩ একর, কাশেম খানের দেড় একর, মকবুল খানের ২ একর, কাল্টু বেপারীর ৪ একর জমির সুপারির বাগান বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে শ্রীপুর বাজারের একবর্গ কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। এতে সাড়ে ৩শ’ দোকানপাট বিলীন হয়ে গেছে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ নদীতে। তিনি জানান, আর মাত্র এক কিলোমিটার ভাঙলেই বাজারের বাকি অংশের সাথে বিলীন হয়ে যাবে শ্রীপুরের নির্মাণাধীন সাইক্লোন শেল্টারসহ পুরাতন সাইক্লোন শেল্টার। বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহেরচর কমিউনিটি ক্লিনিক। তিনি জানান, ভাঙন প্রতিরোধে গত বছর ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৭শ’ জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি।
একই অবস্থা অপর ইউনিয়ন গোবিন্দপুরের। গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুর রশিদ চৌকিদার জানান, ভাঙনকবলিত এ ইউনিয়নের ২২টি মৌজার মধ্যে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৩টি মৌজা। ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ঐ ইউনিয়নের মাত্র ১টি ওয়ার্ড রয়েছে। তিনি জানান, মেঘনার গ্রাসে এ ইউনিয়নের ১২ হাজার ৭৫০ একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসেম জানান, ইউনিয়নের ভাঙন নতুন কিছু নয়। ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ঐ এলাকার চেয়ারম্যান ছিলেন। ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে ১৫/২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২৫টি মসজিদ, ২টি মন্দির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও ঐসব প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ঐতিহ্যবাহী কালিগঞ্জ বাজারটিও বিলীন হয়ে গেছে।
উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন অব্যাহত থাকলে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বৃহত্তর উলানিয়া বাজারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। বাজার সংলগ্ন ৫শ’ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী উলানিয়া মিয়াবাড়ী ও ঐতিহ্যবাহী করনেশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উলানিয়া কলেজ, ব্যাংক, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। তিনি জানান, গত বছর এক রাতে মিয়াবাড়ী সংলগ্ন এলাকা বিলীন হওয়ার সাথে সাথে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সে াতে বিলীন হয়ে গেছে।
এসব এলাকার প্রবীণরা জানান প্রমত্তা মেঘনার ভাঙনে গত ২ বছরে হাজার হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও কালভার্ট হারিয়ে গেছে। সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। তারা এখন ঠাঁই নিয়েছে কাঁচা সড়কের উপর। উলানিয়া মিয়াবাড়ীর বড়দীঘির পূর্ব পাড়ে বস্তির মত ঝুপড়ি ঘরে যাযাবরের মত বসবাস করছে সহায়-সম্বলহীনরা। এক সময়ে যাদের ছিল গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ, শষ্যে ভরা ক্ষেত তারা এখন সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে দিনমজুরের কাজ করছে। কেউ কেউ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে কাজের সন্ধানে ছুটে গেছেন। কাজ না পেয়ে কেউ বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি, কিন্তু মেঘনার ভাঙন প্রতিরোধে নেওয়া হয়নি কার্যকর পদক্ষেপ।
২০০৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম ভাঙনকবলিত এলাকা সার্ভে করে। সার্ভেশেষে তাদের পক্ষে ঐ ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয় বলে জানান হয়। তারা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ড্রেজিং করে মেঘনার গতিপথ পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। পরে নৌ-পরিবহন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে মেঘনার ৫টি শাখা নদী ড্রেজিং করে সে াতের গতিপথ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ জানান, ভাঙনকবলিত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জন্য দুটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে উলানিয়া বাজারের ৩ কিলোমিটার এলাকার জন্য ৩৯০ কোটি টাকার প্রকল্প ও মেহেন্দিগঞ্জ সদর থেকে জাঙ্গালিয়ার মাসকাটা চ্যানেলের ভূমি পুনরুদ্ধার প্রকল্প। তিনি জানান, এসব প্রকল্প প্রি-একনেকের সভা অনুমোদন দিয়েছে। এখন একনেক থেকে প্রকল্প দুটি পাস হলে কাজ শুরু হবে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে স্বল্প টাকা ব্যয়ে কাজ করা হবে। তবে এসব কাজে ১০ লাখ টাকার উপরে ব্যয় করা যায় না। এ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে সবকটি ইউনিয়নই ভাঙনকবলিত। প্রতি বছরই এই ১৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম মেঘনার রুদ্র্ররোষে হারিয়ে যায়। এখনো হুমকির মুখে আছে একাধিক গ্রাম। নদীভাঙনের শঙ্কায় এখন ঘুম নেই শ্রীপুর, উলানিয়া, গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। তিনি বলেন ভাঙনকবলিত মেহেন্দিগঞ্জ রক্ষায় বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল। তিনি এ দ্বীপ উপজেলা রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা কামনা করেন। তারই প্রেক্ষিতে তারুণ্যের রাজনৈতিক কর্মবীর মোমিন মেহেদী মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার নদী ভাঙ্গনরোধের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন৤ নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান ও বরিশাল-৪(হিজলা- মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে  মোমিন মেহেদী ইতিমধ্যে অত্র এলাকার জনগনের সাথে আন্তরিকতা তৈরি করেছেন৤