এপ্রিল 10

মহানায়কের মহাকাব্য রচিত…

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

বাল্যকাল থেকেই কৌশিকের স্বপ্ন ছিলো বড় ক্রিকেটার হওয়া। সে স্বপ্ন দেখতো- জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক হওয়ার। সারাদিন পড়ে থাকতো খেলার মাঠে। উইকেটরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিলো কিন্তু কৌশিকের ছিলো না কোনো গ্লাভস। তবুও সে দমেনি, দুই হাতে দুই স্যান্ডেল নিয়ে দাঁড়াতে থাকতো উইকেটের পেছনে। স্যান্ডেলই ছিলো কৌশিকের গ্লাভস।

হাইস্কুলে উঠার পর কৌশিকের উইকেটরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন কিছুটা পরিবর্তিত হয় আর তার স্বপ্নের সাথে যোগ হয় সুমি নামে তার বয়সী এক বালিকা। সুমির সাথে ঘর বাঁধার ও জাতীয় দলের হওয়ার স্বপ্নে মুখর হয়ে দিন কাটাচ্ছিলো কৌশিক।

প্রেম ও খেলা (ক্রিকেট, অন্য কিছু না) নিয়ে যে বালক মুখর হয়ে থাকতো সে বালকের প্রতি এলাকার মুরব্বিদের মহান বানী ছিলো- ‘তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।’

কৌশিক চুপ করে শুনতো আর মুখে হাসি দিয়ে বলতো- ‘দোয়া করবেন চাচা।’

এলাকার চাচারা কৌশিকের জন্য দোয়া করেছিলেন নাকি করেন নাই; তা জানা নাই। কৌশিক কিশোর বয়সেই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পায়। সারাদেশে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।

কৌশিকের প্রেমিকা সুমির বাবাকে এলাকার মুরব্বিরা বোঝান- ‘কৌশিক এখন অনেক বড় মাপের মানুষ। তোমার মেয়েকে সে বিয়ে করবে না। মেয়েকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দাও।’

সুমির বাবা মেয়ের জন্য ছেলে খুঁজতে থাকেন। কৌশিকের কানে এই খবর পৌঁছানোর সাথে সাথে সে ছুটে যায় নড়াইল। সুমির বাবাকে নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দেন।

এই কৌশিক আমাদের অহংকার, এই কৌশিক আমাদের প্রেরণা, এই কৌশিক আমাদের ক্যাপ্টেন, এই কৌশিক আমাদের ম্যাশ।

আর আজকের এই বিজয় আমাদের ম্যাশের জন্য। খেলা শেষে প্রতিটি খেলোড়ার কতোটা মায়া, কতোটা ভালোবাসা, কতোটা শ্রদ্ধা নিয়ে জড়িয়ে ধরছে! দেখেই শরীরের রক্ত সঞ্চারণ কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে। ম্যাশের বিদায় এরচেয়ে আর ভালোভাবে উৎযাপন করার সূত্র ছিলো না। মহানায়কের বিদায়ের মহাকাব্য এভাবেই রচিত হয়।

 

১০/৪/২০১৭/১৮০/তৌ/আ/