ব্যাংকার শামীম যেন মাদার তেরেসা…

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমtv

অন্যরকম এক নেশায় বুদ ব্যাংকার শামীম আহমেদ। দেশের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীনদের সুস্থ করার মধ্য দিয়ে তিনি খুঁজে পান ভিন্ন এক সুখ। এ কাজের জন্যে তিনি ছুটে বেড়ান দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। মানবতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে তার আন্তরিক চেষ্টা সত্যিই ভিন্ন এক উদাহারণ সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীনদের পরম মমতায় আগলে ধরেন তিনি। তাদের সেবা ও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে পরিবারের হাতে তুলে দেন। এ জন্যেই তার চোখ খুঁজে ফিরে এমন লোকদের। তিনিও খুঁজে পান রাজ্যের সুখ। এরই মধ্যে তিনি তার মানবিক চেষ্টায় রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন বান্দরবানের অন্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাইজুল, ময়মনসিংহের সাহিদা, ফুলপুরের ঝর্ণা, নোয়াখালীর আরিফ, রাজধানীর পল্টনের আদুরী, মানিকগঞ্জের রূপালীর মতো অনেককেই স্বাভাবিক সুস্থতা ফিরিয়ে দিয়েছেন, অনেককেই তুলে দিয়েছেন তাদের পরিবারের কাছে। পাগল বলে যারা একদিন সমাজের অবহেলিত ছিলেন তারাই আজ সমাজে মাথা উঁচু করে হাঁটছেন।

এ ব্যাপারে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এভাবে তারা একটি গ্রুপও গঠন করেছেন। এ গ্রুপের সহায়তায় এগিয়ে যাচ্ছেন শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, শুরু থেকেই আমার বন্ধু ও অফিস কলিগ আলী সাব্বির আমাকে সহায়তা করছেন। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কিছু বন্ধু এ কাজে মানসিক, লজিস্টিক সাপোর্ট ও সহযোগিতা করছেন। তাদের অনুপ্রেরণা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করে।

শামীম আহমেদ বলেন, একজন ভিক্ষুক আমাদের কাছে টাকা অথবা কিছু খাবার চাইতে পারে। কিন্তু একজন পাগল কিছু চাইতে পারে না। তারা খুবই অসহায়। আমি আমার কাজের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি সবাই রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষের পাশে এগিয়ে আসি তাহলে হয়তো একদিন একজন মানুষও রাস্তায় পড়ে থাকবে না। তিনি বলেন, মনে হয় পৃথিবীর সকল সুখ এর মাঝেই লুকায়িত।

২০১৪ সাল থেকে শুরু। বান্দরবানের থানচি বাজারের পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মেয়েকে দেখে পরম মমতা তৈরি হয় মনে। থানচি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আরো কিছু ব্যক্তির মোবাইল ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে কার্যক্রম শুরু। ঢাকায় এনে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয় মেয়েটিকে। হাসপাতালে তাকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করার জন্যে একটি বয়স্ক মহিলাকে বেতনভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসার পর ২০১৫ সালের এপ্রিলে তাকে নিজ বাসার বিপরীতে অবস্থিত ওই বয়স্ক মহিলার বাসায় রেখেই মেয়েটির চিকিৎসা চালানো হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলে কিছু মানসিক থেরাপি। এরপর জানা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার বাড়ি। প্রথমে বিজয়নগর থানায় বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে চান্দুরা ইউপি চেয়ারম্যান ও শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মেয়েটির ঠিকানা বের করা হয়। মেয়েটির পরিবার ঢাকায় এসে তাকে শনাক্ত করে। এরপর থেকেই এই সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন শামীম।

শামীম বলেন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের পেছনে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা খরচ হয়। সেবিকা জরিনাকে মাসিক বেতন দেয়া হয়।

শামীম আহমেদের আদি বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বর্তমানে ঢাকায় স্থায়ী বসবাস। তিনি বলেন, আমি আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই মানবিক কাজ চালিয়ে যাব। আমার মৃত্যুর পর যেন আমার মেয়েরা কাজটি চালিয়ে যেতে পারে সেজন্যে তাদেরও আমার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করি। শামীম আহমেদের দুই মেয়ে। একজন চতুর্থ শ্রেণি ও অন্যজন প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।

৩/৪/২০১৭//১১০/তৌ/আ/