মে 03

বুনোহাতির তাণ্ডবে ১৩টি বসতঘর জমির ধান তছনছ…

 ডেস্ক রিপোর্ট , বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বুনোহাতির দল তাণ্ডব চালিয়ে তছনছ করে দিয়েছে ১৩টি বসতঘর, বিপুল পরিমাণ জমির ধান ও ফলদ বাগান। শুধু তাই নয়, এ সময় হাতির দল কৃষকের ঘরে রক্ষিত ধান ও চাউল খেয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। গত রবি, সোম ও মঙ্গলবার উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি হাবিবুর রহমান পাড়া, সোলেমান পাড়া, ধুইল্লাপাড়া, বাজার পাড়া, জটকি বনিয়া পাড়া ও হিমছড়ি পাড়ায় ১২-১৩টি বুনোহাতি এ তান্ডব চালায়।হাতির দলটি বর্তমানে ওই এলাকায় অবস্থান করায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ খোলা আকাশের নীচে জীবনযাপন করছে। আবার কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, গহীন পাহাড় থেকে বুনোহাতির দল রবিবার রাতে লোকালয়ে নেমে পড়ে। পরে রাতভর হাতিগুলো হারিছ চৌধুরী, লোকমান হোসেন, মো. মিয়া, মো. শফিক, মো. শাহ আলম, মো. ইউছুপ, ভেট্টু মিয়া, গুরা মিয়া, শেখ আহমদ, সিরাজ, হামিদ, আতিয়ার মোডল, লেদু মিয়ার বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ ভাংচুর করে। এ সময় হাতিগুলো কৃষকের ঘরে থাকা প্রায় ১০০ মণ ধান ও চাউল খেয়ে ফেলে। এছাড়া প্রায় ৫ একর জমির ধান, ফলজ বাগানের কলা গাছ ও কাঁঠাল খেয়ে নষ্ট করে গত তিন দিনে।

হাতি আক্রমণের শিকার হামিদ ও হারিছ চৌধুরী জানান, বুনো হাতিগুলি প্রথমে বাড়ির চারিদিকে ঘেরাও করে ফেলে। বিশেষ করে ঘরের দরজা জানালার পাশে পাহারাদারের মত দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর ঘর ভাঙ্গা শুরু করে। পরে ঘরে থাকা ধান চাল খেয়ে চলে যায়। রাত জেগে বাড়িঘর পাহারা দিয়ে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয়রা।স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল ও কালা মিয়া জানান, অনেক ক্ষেত্রে রাত জেগে আগুন জ্বালিয়ে ও ঢোল পিটিয়ে চিৎকার করেও বুনো হাতির দলকে সরানো যায় না। বেশি ভয় দেখালে হাতির পাল গায়ের দিকে তেড়ে আসে। এ কারণে চেয়ে দেখা ছাড়া আমাদের পক্ষে কিছুই করার থাকে না।হাতি আক্রমণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরিদ উল আলম জানান, গত রবিবার থেকে বুনো হাতিগুলো এলাকায় অবস্থান করায় লোকজন এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন। আবারও যে কোন মুহূর্তে তাণ্ডব চালিয়ে জান ও মালের ক্ষতিসাধন করতে পারে। হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি।

এ বিষযে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরই ইউনিয়নে বুনোহাতি আক্রমণের ঘটনা শুনেছি। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক সহযোগিতা দেয়া হবে। পাহাড়ে হাতির আবাসস্থল ও খাবার দিনদিন কমে যাওয়ার কারণে হাতির দল এখন লোকালয়ে নেমে পড়ছে। হাতিগুলোকে গভীর বনে সরিয়ে নেয়ার জন্য স্থানীয়দের সহযোগিতায় বনবিভাগের লোকজন কাজ করছে বলে জানান তিনি।

৩/৫/২০১৭/২২০/অ/হা/