মে 01

বিএনপি থেকে লীগে যারা এরপরে যাবেন কোথায় তারা?

স্টাফ রিপোর্টার

বিএনপি থেকে লীগে যারা এরপরে যাবেন কোথায় তারা? এমন প্রশ্ন এখন সাংস্কৃতিক অঙ্গণে৤ বিশেষ করে নাট্য তারকা তারিন এখন ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় এখন তিনি আওয়ামী লীগের সদস্য। কিন্তু তিনি কী আওয়ামী লীগের সদস্য?

শিশুশিল্পী হিসেবে ‘নতুন কুড়ি’ থেকে আগমন। তারকা বনে গেছেন বিএনপির হাত ধরে। বিএনপির আমলে দলীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা গেছে। তিনি এখন কীভাবে মুখে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শের কথা বলে বেড়ায়? আওয়ামী লীগ দল ক্ষমতায় আছে বলে? ভবিষ্যতেও দলটির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা প্রখর। এ জন্যই কী এমন দলবদল?

জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের গত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন সংগীতশিল্পী এস ডি রুবেল। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এই নেতা এবার স্থান পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপকমিটিতে। তাকে ওই কমিটির সহসম্পাদক করা হয়েছে।

উপ-কমিটিতে এস ডি রুবেলের জায়গা পাওয়া নিয়ে দলের ভেতরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এমনকি বিএনপি নেতারাও হাস্যরস করছেন বিষয়টি নিয়ে।

এস ডি রুবেল বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) দীর্ঘ দিন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রজীবনে ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের নেতা ও ক্যাডার হিসেবে পুরো ছাত্রজীবন পার করেছেন।

জানা যায়, রুবেলের হাতে ছাত্রলীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছে।

এ বিষয়ে জাসাসের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নায়ক হেলাল খান বলেন, এস ডি রুবেল এক সময় নিয়মিত জাসাসের কর্মসূচিতে যোগ দিতেন। তিনি আগের কমিটির সদস্য ছিলেন। জাসাসের অসংখ্য অনুষ্ঠানে তিনি গান গেয়েছেন। বার বার তাদের কাছে জাসাসের অনুষ্ঠানের বিষয়ে খোঁজখবর নিতেন।

জাসাসের আরেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় এস ডি রুবেল জাসাস করার সুবাদে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছিলেন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন।এখন হয়তো সময় খারাপ বলেই সরকারি দলে চলে গেছে। এমন অনেকেই যাচ্ছে। অসুবিধা নেই, আবার আমাদের সময় ভালো হলে চলেও আসবে।

এই কীর্তি করেছেন অভিনেতা জাহিদ হাসানও। একটা সময় বিএনপিকে ভালবেসে নানা কথা বলেছেন। এমনকি বিএনপির পক্ষ থেকে তার নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জ থেকে প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছে। তিনি এখন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাসিমুখে উপস্থিত হচ্ছেন।

খ্যাতিমান উপস্থাপক শাইখ সিরাজ। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তিনিও বিভিন্ন সময়ে সুযোগ নিয়েছেন। বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে রয়েছে ঘনিষ্ঠতা। বিএনপি আমলে কোন যোগ্যতা ছাড়াই একুশে পদক পেয়েছেন এই বিশেষ সম্পর্কবলে। সে খবর দু-দলেরই ভালো করে জানা আছে। চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের দাওয়াতের দায়িত্ব পরে তাঁর উপর। একদিকে তার এই রুপ থাকলেও বদল করতে সময় নেন না। একই মানুষ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে আওয়ামী লীগের গুনগান করে বেড়ায়।

আফজাল হোসেনের সখ্যতাও বিএনপি কেন্দ্রীক। তিনি খোলামেলাভাবে একটা সময় বিএনপির হয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন দলটি ক্ষমতায় না থাকলে আস্তা হারিয়ে ফেলেছেন আফজাল। এখন বিভিন্ন জায়গায় ফের আওয়ামী লীগ পন্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ তালিকায় আছেন ইলিয়াস কাঞ্চনও।

শাবানার সিনেমার মহরত করেছেন বেগম জিয়া নিজে গিয়ে। মৌসুমী বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে প্রায়ই গিয়ে আলাপ করতেন। ওনাদেরও ক্ষমতার পালা বদলে রুপ পরিবর্তন হয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলে সবাই এ দলে ভীড়তে চায়। সাংস্কৃতিক কর্মীদের অনেকেই রাজনীতিতে আছেন। কিন্তু তারা ক্ষনে ক্ষনে রুপ বদল করে। বিভিন্ন দলে ভীড়ে সুযোগ নিতে চেষ্টা করে। এদের থেকে আওয়ামীলীগের অচিরেই সাবধান হওয়া উচিত। এই মৌসুমী রাজনৈতিক সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য দলটির ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনেক তারকা সংস্কৃতিকর্মী দেখেছি। তারা শুধু দলেই ভীড়েননি, দলের জন্য নানা সময়ে প্রতিপক্ষের হামলা- মামলা নিগৃহের স্বীকার হয়েছেন। সৈয়দ হাসান ইমাম, আসাদুজ্জামান নূর, তারানা হালিমের মতো সংস্কৃতি কর্মীদের আমরা রাস্তায় পরে মার খেতে দেখেছি। সেই আওয়ামী লীগে বিএনপির সিল লাগানো তারকারা এখন সুবিধার লোভে নিত্য ভীড় বাড়াচ্ছে নেতাদের কাছে। এদের থেকে আওয়ামী লীগের সাবধান হওয়া উচিত।

বিএনপি দলে সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত মুখ রয়েছে আসিফ আকবর, জাহাঙ্গীর শিকদার, ছড়াকার আবু সালেহ, গীতিকার মনিরুজ্জামান মনি্‌,কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, কণ্ঠশিল্পী মনির খান, সঙ্গীত পরিচালক ইথুন বাবু, কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা ,চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল ও কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি। এদের মধ্যে অনেকেই এখন দল ত্যাগ করার ফন্দি আটছেন।