বাম্পার ফলন,কমছে গুনগতমান….

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমrice

দেশে পাটের বাম্পার ফলন হলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাটের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। গত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানির অভাবে পাট চাষিরা গর্ত করে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে পানি তুলে পাট জাগ (পচন) দিয়েছে। তাতে পাটের গুণগত মান নষ্টের পাশাপাশি চাষিদের অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে চাষ থেকে শুরু করে পাটের আঁশ ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র দিয়ে পানি উঠিয়ে জাগ দিতে হলে প্রতি বিঘায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। দেশে এবার পাটের ফলন ভাল হয়েছে। তবে পাট পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর জন্য কৃষকেরা পর্যাপ্ত পানি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কারণ অনেক জায়গায় বিকল্পব্যবস্থায় পচালেও পাটের মান ভালো হচ্ছে না। পানির অভাবে পাট জাগের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কৃষকরা রিবন রেটিং পদ্ধতিতে আঁঁশ ছাড়াতে পারে। কিন্তু রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট আগে কাটতে হয় তারপর গোড়া থেঁতলাতে হয়। এই বিষয়টাকে কৃষকরা ঝামেলা মনে করে। যার কারণে কৃষকরা শত ভাগ জাগের উপর নির্ভরশীল।আগের দিনের মতো আর পুকুর, ডোবা, নালা, জলাশয় পড়ে না থাকায় ওসব জায়গায় মাছ চাষ হওয়ায় চাষিদের মধ্যে পাট জাগ দেয়া নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে। কারণ বাধ্য হয়ে তখন পুকুর, ডোবা, নালা লিজ বা ভাড়া নিয়ে পাট জাগ করতে হয়েছে। তাতে চাষির বাড়তি খরচ হচ্ছে। আর কাদামাটি দিয়ে পাট জাগ দেয়ার কারণে পাটের রং কালো যায়। ফলে পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছে যায় না। তবে কাদামাটি দিয়ে পাট জাগ না দিয়ে পাটের জাগের ওপর ইট অথবা পলিথিনে মাটি ভর্তি করে জড়িয়ে রাখা গেলে ভালো। তাহলে পাটের রং কালচে হয় না। তাছাড়াও মুক্ত জলাশয়েও চাষিরা পাট জাগ দিয়ে এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারে।

 

৪/৪/২০১৭/১১০/সা/ফা/