মে 31

বাদামের বাম্পার ফলন রাজারহাট চরাঞ্চলে…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে চলতি খরিপ মৌসুমে প্রায় তিন’শ হেক্টর জমিতে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে বাদাম আবাদকারী কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। বর্তমানে বাদাম তুলতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে কৃষকরা।

এবারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান ও পাটের আবাদে ব্যাপক ক্ষতি হলেও বাদামের আবাদে প্রভাব পড়েনি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় অন্য বছরের তুলনায় বাদামের ফলন ভালো হয়েছে।

উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পাড়ামৌলার চর, শিয়াল খাওয়ার চর, তৈয়বখাঁর চর, গাবুরহেলান, আনন্দ বাজার, নাজিমখান ইউনিয়নের রতিদেব চর, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের রামহরি, চর খিতাবখাঁ, ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ার চরসহ চরাঞ্চলে দিগন্ত মাঠজুড়ে সবুজ বাদাম গাছের সমারোহ দেখা যাচ্ছে।

পাড়া মৌলার চরের কৃষক আব্দুল হাকিম সবুজ (২৮) ও কামরুজ্জামান (২৯) জানান, ২৫ বিঘা জমিতে প্রায় ৮/৯ মেট্রিক টন বাদাম পাওয়া যাবে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ বাদাম ফলন হয়েছে। এছাড়াও চরাঞ্চলের জাহেরুল ইসলাম (৩২), শাহজামাল (৩১), আব্দুল বাতেন (৫৫), মিজানুর রহমান (৪৫), পিয়ারুল ইসলাম (৩২), তৈয়বখাঁ চরের চাষী রফিকুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ আলী (৪৩), আব্দুস ছালামসহ (৬২) শতাধিক চাষী বাদাম আবাদ করেছেন।

তারা জানান, এবারে ফলন ভালোই হয়েছে। তারা আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম আবাদে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা জমির বাদামে খরচ বাদে ৮/৯ হাজার টাকা লাভ হবে। ফলে ধান ও পাট আবাদের চেয়ে বাদাম চাষ অধিক লাভজনক। তাই কৃষকরা এ আবাদে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি বাদামের মূল্য ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষকরা জানান।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, চলতি খরিপ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৮০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এবং কৃষি অফিসারের পরামর্শের ফলে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকরা খুশি। আগামী বছরে আরো বেশি বাদামের চাষবাদ হবে বলে আশা করছেন কৃষি অফিসার।