বাংলাদেশের রাজশাহী আলু বিশ্বের তিনটি দেশে…

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

রাজশাহীর তানোর থেকে উৎপাদনকৃত আলু যাচ্ছে বিশ্বের তিনটি দেশে মালয়েশিয়া শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরে। নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ড. শেখ আব্দুল কাদেরের এগ্রিকনশন নামের কোম্পানি টাইসিয়া ও কুমড়িয়া জাতের আলু উৎপাদন করে বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। তানোর পৌর এলাকার চাপড়া ফুলবল মাঠে দশ কেজি করে প্যাকেট জাতের মাধ্যমে আলুগুলো রফতানি করা হচ্ছে বলে কোম্পানির এম.ডি ড. শেখ আব্দুল কাদের জানান। তবে স্থানীয় চাষিদের আলু নেয়া হচ্ছে না রফতানিতে। কারণ হিসেবে জানা যায় যেসব আলু স্থানীয় চাষিরা উৎপাদন করে থাকেন সেইসব আলুর চাহিদা বিদেশে নেই। ফলে বিদেশে রফতানি হওয়ায় যেমন চাষিরা উৎফুলি্লত তেমনিভাবে স্থানীয় চাষিদের আলু কেনা বেচাই হয়েছে ব্যাপক সিন্ডিকেট। এতে করে স্থানীয় পর্যায়ের চাষিরা এ মৌসুমের শেষ পর্যায়ে যারা আলু উত্তোলন করেছিলেন, তাদেরকে ব্যাপকভাবে লোকশান গুনতে হয়েছে। জানা যায়, বিএডিসি সীড মার্কেটিং এ দায়িত্বে ছিলেন, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ড. শেষ আব্দুল কাদের। তিনি কৃষিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। তিনি বর্তমানে অবসরে আছেন। অবসরে গিয়ে দেশের দিনাজপুর, রংপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় আলু চাষ করে বিদেশে রফতানি করছেন। এগ্রিকনশন নামের কোম্পানিটির এমডি হয়ে আছেন ড. শেখ আব্দুল কাদের। আলুর এই মৌসুমে তানোরে প্রায় ৭০০ বিঘার মতো জমিতে বিশাল প্রজেক্ট করেন এগ্রিকনশন কোম্পানিটি। আলু উত্তোলনের একেবারে শেষ পর্যায় চলছে। বর্তমানে এগ্রিকনশান কোম্পানির আলু জমি থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। উত্তোলন করে পৌর এলাকার চাপড়া ফুটবল মাঠে আলু বাছাই করে ১০ কেজির হলুদ প্যাকেটে প্যাকেটজাত করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামে। সেখান থেকে বিভিন্ন জাহাজে বা কন্টিনারে করে সরাসরি মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরে রফতানি করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি অধিদফতরের সহায়তায় টাইসিয়া ও কুমড়িয়া জাতের বীজ নিয়ে এসে চাষ করা হয়েছে তানোরে। যদিও বীজগুলো কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এখনও অনুমোদন হয়নি। তবে এ জাতের বীজ আলু ছাড়া স্থানীয় জাতের আলু কোনো ক্রমেই বিদেশে রফতানি করা যায় না বলে জানান কোম্পানির এমডি। কোম্পানিটি তানোর উপজেলার আড়াদিঘী, কালনা মাঠে প্রায় ৭০০ বিঘা জমি টেন্ডার নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন। এমডি ড. শেখ আব্দুল কাদের জানান, ইতিপূর্বেই চুয়াডাঙ্গা ও ঠাকুরগাঁও থেকে গ্র্যানোলা জাতের আলু উৎপাদন করে বিশ্বের কয়েকটি দেশে রফতানি করা হয়েছে। বিশ্বে আলু উৎপাদনে বাংলাদেশের স্থান সপ্তম। তিনি আরো জানান, এগ্রিকনশন কোম্পানি বিশ্বের ১০টি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ কৃষি পণ্য রফতানি করছেন। টাইসিয়া ও কুমড়িয়া জাতের আলু তানোরে শুল্ক আবহাওয়ার জন্যে এ এলাকায় চাষের উপযোগী। এ জন্যে প্রথম বারের মতো এ জাতের পরীক্ষামূলক আলু চাষ করা হয়। ফলনও হয়েছে বিঘা প্রতি ৪৫ থেকে ৫০ বস্তা করে। চাপড়া মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের দক্ষিণ ও পশ্চিম সাইডে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক গত ১ সপ্তাহ ধরে আলুগুলো বাছাই করে হলুদ প্যাকেটে ১০ কেজি করে প্যাকেটজাত করে ট্রাকে করে নেয়া হচ্ছে চট্টগ্রামে। বেশকিছু শ্রমিক জানায়, আলু উত্তোলনের পর তেমন কোনো কাজ থাকে না। এগ্রিকনশন কোম্পানিটি আলু বিদেশে রপতানি করার জন্যে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক প্রয়োজন হচ্ছে তাদের। এ জন্যে আমাদেরও বেকার বসে থাকতে হচ্ছে না। মাঠেই কথা হয় চাপড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, এটা তানোরের জন্যে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। কারণ তানোরের উৎপাদনকৃত আলু যাচ্ছে বিদেশে। এটা কখনই কল্পনা করিনি। তবে যদি স্থানীয় চাষিদের আলুগুলো এভাবে বিদেশে রফতানি হতো তাহলে অধিক লাভের মুখ দেখতো চাষিরা। আলু কেনা-বেচার সিন্ডিকেট থেকে রক্ষা পেত স্থানীয় চাষিরা। স্থানীয় চাষিরা জানান, এগ্রিকনশন কোম্পানির আলু এবং আমাদের আলুর গুণগতমান প্রায় একই।

তারপরেও আমাদের আলু কেন বিদেশে রফতানি হচ্ছে না এটা বুঝে আসে না। ৯০ থেকে ১০০ দিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আলু উৎপাদন করার পর কেনা বেচায় হয় ব্যাপক সিন্ডিকেট। বস্তা প্রতি প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেজি আলু বেশি নেয় ফড়িয়া চক্র। আমরা কিছুই বলতে পারি না ক্রেতাদের, আবার তারাই সিন্ডিকেট করে আলুর দাম উঠানামা করান। এতে করে স্থানীয় চাষিরা শেষ পর্যায়ে আলু নিয়ে পড়েছেন মহা বিপাকে। যদি স্থানীয় চাষিদের আলুগুলো কোনো কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় করে বিদেশে রফতানি হতো তাহলে স্থানীয় ক্ষুদ্র, মাঝারি চাষিদের লোকশান গুনতে হতো না। এগ্রিকনশন কোম্পানির এমডি জানান, তানোরে সব কিছুই ভালো আছে ভবিষ্যতে কৃষিতে ব্যাপক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। যেহেতু আমরাই প্রথমবারের মতো আলু বিদেশে রফতানি করছি। আলু ছাড়া তানোরে অন্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে ইচ্ছা রয়েছে। কারণ তানোরে কৃষিই প্রধানতম চাষাবাদ। এখানে সবজিসহ আরো অনেক পণ্য উৎপাদন করে বিদেশে রফতানি করা যাবে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে তানোরের প্রান্তিক ক্ষুদ্র-মাঝারি কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো যাবে। তিনি আরো জানান, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ চায় না ভারত পাকিস্তানের চেয়ে আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। আর উত্তর বঙ্গের মধ্যে তানোরেই আলুর চাষাবাদ হয়েছে ব্যাপক হারে। ব্যাপক হারে চাষ হলেও তাদের আলু বিদেশে রফতানি করা যায় না। এমডি ড. শেখ আব্দুল কাদের কৃষিতে ২০১৩ সালে রোপ্য এবং সিআইপি অর্জন করেন। ২০১২ সালে স্বর্ণ ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট এবং ০১ জানুয়ারি ২০১৭ রফতানিতে দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তিনি। এ নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলামের কাছে এসব ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি বলেন এসব আমার অজানা।

 

৬/৪/২০১৭/৯০/তৌ/আ/