বাংলাদেশের ইলিশ, ভারতের আম না পেয়ে ক্ষুব্ধ মমতা…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

বহুল আলোচিত অভিন্ন নদী তিস্তার পানিচুক্তি নিয়ে সেই কবে বেঁকে বসেছিলেন মমতা। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফর করেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ঐ সফরে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি প্রায় ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সফর বাতিল করেন। সেই থেকে নানা সময়ে নানা কারণে আজো আলোর মুখ দেখেনি ইস্যুটি।

যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বরাবরই আশ্বাস দিয়ে আসছে। বিষয়টি এখনো মোদি-মমতার আলোচনার মাঝে রয়েছে। কিন্তু মমতা তার সবশেষ অবস্থানেই অটল রয়েছেন-তিস্তা নয়, তোর্সার পানি দিতে রাজি তিনি। তিস্তা চুক্তি এড়াতে মমতার নানা অজুহাত-ক্ষোভের মধ্যে এবার প্রকাশ হলো ইলিশ না পাওয়া এবং মালদহ-মুর্শিদাবাদের আম বাংলাদেশে বেচতে না পারার ক্ষোভ।

গত বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে জোরদার অভিযোগ জানিয়েছেন মমতা। তার অনুরোধ, দ্বিপাক্ষিক স্তরে এর সমাধান হোক।

মমতার ক্ষোভ, ইলিশ দেয়া তো বাংলাদেশ বন্ধ করেই দিয়েছে। মালদহ-মুর্শিদাবাদের আমও এখন ওখানে রফতানি করা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেকের মতে তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যৎ যে আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকছে, মমতার অভিযোগ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চাইছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক দ্বিপাক্ষিক বিষয় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। সেগুলোর আগে সমাধান হোক। তাই তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশ এবং মোদী সরকারের চাপকে তিনি কার্যত ফেরত পাঠিয়েছেন সুকৌশলে।

বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আত্রেয়ী, পুনর্ভবা, এবং টাঙন-এই তিনটি আন্তর্জাতিক নদীর স্রোত শুকিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে এসে। বাংলাদেশ এমনভাবে বাঁধ দিয়েছে যে দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রবল জলাভাব দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের মাথাভাঙা নদী নদিয়া দিয়ে বয়ে গিয়েছে চূর্ণী নামে। পশ্চিমবঙ্গের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ মেপে দেখেছে, ওপার থেকে এত বেশি বর্জ্য পদার্থ এই নদী বয়ে আনছে যে, এপারে তার জল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে।

২৭-০৫-২০১৭-০০-৪০-২৭-মনির জামান