বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার স্বীকার খুলনাবাসী…

মাহামুদ হাসান তাহের, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

স্বাধীনতা প্রাপ্তির দশ বছর পূর্ব থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাসস্থানের প্রয়োজনে নগরীর পরিধি বেড়ে যায়। বসতি বাড়ার সাথে সাথে খাসজমি ও খাল দখলের প্রতিযোগিতা চলে সব সরকারের আমলে। প্রভাবশালীরা যেভাবে পেরেছে খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা ও সুবিধাবাদীরা তঞ্চকতরা মাধ্যমে নিজ নামে রেকর্ড করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। নগরীর ৫০ খালের মধ্যে ১১টির অস্তিত্ব নেই। আর যা আছে তার ৮০-৯০ শতাংশ অবৈধ দখলে গেছে।

এই দখল প্রক্রিয়ার সাথে ৮১ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। দখলদারদের উচ্ছেদ আন্দোলন দু’বছর স্তিমিত হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমের আষাঢ়-আশ্বিন মাস নগরীর একটি বড় অংশে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বর্ষার ঐ চার মাস ডুবে থাকে ২ লাখেরও বেশি নগরবাসী।

সিটি কর্পোরেশনের সূত্র জানায়, নগরীর ৫০ খালের মালিক জেলা প্রশাসন। কর্পোরেশন এগুলো তদারকি করে মাত্র। উল্লেখযোগ্য, খালগুলো হচ্ছে নিরালা, ময়ূর নদী, মন্দার, ক্ষেত্রখালী, মতিয়াখালী, লবণচরা, তালতলা, মিস্ত্রিপাড়া, নবীননগর, ছড়িছড়া, লবণচরা গোড়া, লবণচরা সুইচ গেট, সবুজবাগ, মিয়াপাড়া পাইপের মোড়, বাস টার্মিনালের পশ্চিম পাশ্র্বে, রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া, বাস্তুহারা, গল্লামারী নর্থ, দেয়ানা দক্ষিণপাড়া, বাটকেমারী, সাহেবখালী, হাজী তমিজ উদ্দীন, নারকেলবাড়িয়া, সুড়িমারি, ডুবি, বেতবুনিয়া, দেয়ানা, তেঁতুলতলা দশ গেট, হাতিয়া মাথাভাঙ্গা, মাষ্টারপাড়া, হরিনটানা, ক্ষুদে, মজুমদার, কাদের, চক মথুরাবাদ, নবপল্লী, ছোট বয়রা শ্মশানঘাট, রায়েরমহল, মোল্লাপাড়া, বিলপাবলা ইত্যাদি।

এলাকাবাসীদের সূত্র জানায়, বাস্তুহারা খাল, সুইজগেট খাল, গল্লামারী নর্থখাল, কাস্টমঘাট ইত্যাদি এলাকায় খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। লবণচরা খালের একাংশ ভরাট করে ওয়ার্ড অফিস ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। রুপসার সাহেখালী খালের ওপর সিটি কর্পোরেশন মার্কেট নির্মাণ ও কলেজিয়াট স্কুলের এক পার্শ্ব দখল করা হয়েছে। পিটিআই মোড়ে খালের মুখ বন্ধ করে ওয়ার্ড অফিস নির্মাণ, ২৮ নং ওয়ার্ডেও শেষ সীমানায় খালের ওপর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। সাবেক মেয়রের বাসভবনের পেছনের খালটি একজন ডেপুটি মেয়র প্রভাব খাটিয়ে স্থায়ী স্থাপনা করে। রেলওয়ে মার্কেট এলাকার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত খালটি হলুদ ও মরিচের আড়ৎ গড়ে উঠেছে। বয়রা শ্মশানঘাট খালের মুখ বন্ধ করে গড়ে উঠেছে ইসলামিয়া কলেজ। নগর ভবনের পেছনে ড্রেনের ওপর একজন আইনজীবী গ্যারেজ নির্মাণ করেছে।

একটি খালের মুখ বন্ধ সোনাডাঙ্গা মহিলা কমপ্লেঙ্ নির্মাণ, নবীনগর খাল বন্ধ করে কেডিএ বাসটার্মিনাল ও গল্লামারী বাইপাস সড়ক নির্মিত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৯৬০ সালে অধুনালুপ্ত পৌরসভা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের বর্তমান স্থানের মধ্যদিয়ে একটি খাল কাটে। পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ঐ খালের ওপর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা ও সিটি কর্পোরেশন ট্রাক টার্মিনাল গড়ে তুলেছে। এদিকে খালিশপুর হাউজিং এলাকায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্যুয়ারেজ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ জনবলের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

১৫/৪/২০১৭/৪০/