বন্ধ্যত্ব নিয়ে নারী ও পুরুষের যে ভুল ধারণা…

ডা. নূরজাহান নীরা, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

সন্তান না হওয়ার কারণ অজ্ঞতার কারণে অনেকেই সন্তান না হওয়ার জন্য নারীকেই বেশি দোষারোপ করেন। সত্য হলো, পুরুষদের বন্ধ্যত্বের কারণেও অনেক সময় সন্তান ধারণে সমস্যা হয়। তবে পুরুষদের বন্ধ্যত্ব নিয়ে কিছু ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত রয়েছে। এসব ভুল ধারণার কারণে সঠিক চিকিৎসা থেকে দূরে থাকেন পুরুষরা। পুরুষদের বন্ধ্যত্বের ১২টি ভুল ধারণার কথা। সন্তান না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে আসুন আমরা জানি সেই ১২টি ভুল ধারণা সম্পর্কে:

ভুল ধারণা: বন্ধ্যত্ব কেবল নারীদের সমস্যা।

বাস্তবতা: ১০০টি ঘটনার মধ্যে ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় বন্ধ্যত্বের সমস্যাটি পুরুষের থাকে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষরা কখনো কখনো একেবারই বীর্য উৎপাদন করতে পারছেন না।

ভুল ধারণা: মানসিক চাপের কারণে বন্ধ্যত্ব হয়।

বাস্তবতা: মানসিক চাপ যৌন মিলনের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তবে বীর্যের গুণগতমান খারাপ করে না। যদি যৌন মিলনে কোনো অসুবিধা না থাকে, তবুও সন্তান না হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

ভুল ধারণা: পুরুষদের জননকোষ ঠাণ্ডা থাকলে ভালো বীর্য উৎপন্ন হয়।

বাস্তবতা: এই ধারণাটি একদম সঠিক নয়। বরফের মতো ঠাণ্ডা জননকোষ কেবল ক্ষতিকরই নয়, অকার্যকরও বটে।

ভুল ধারণা: কেবল বয়স্ক পুরুষদের বন্ধ্যত্বের সমস্যা থাকে।

বাস্তবতা: অনেক তরুণ পুরুষদের ক্ষেত্রেও শুক্রাণুর গুণগত মান খারাপ থাকে। এমনকি ২০ বছর থেকে এই সমস্যা হতে পারে।

ভুল ধারণা: ধূমপান এবং মদ্যপান পুরুষের বন্ধ্যত্বের বড় কারণ।

বাস্তবতা: কথাটা কিছুটা সঠিক। ধূমপান এবং মদ্যপান কম করা শুক্রাণুর জন্য উপকারী।

ভুল ধারণা: পুষ্টি সংযোজন বা খাবারদাবার শুক্রাণুর গুণগত মান ভালো করে না।

বাস্তবতা: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, জিংক, সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার শুক্রাণুর গুণগত মান ভালো করে।

ভুল ধারণা: মোবাইল ফোন পকেটে রাখার কারণে নিঃসরিত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ শুক্রাণুর ক্ষতি করে।

বাস্তবতা: বিষয়টি প্রশ্নাতীতভাবে এখনো প্রমাণিত হয়নি। এটি প্রমাণের জন্য আরো বড় গবেষণা দরকার।

ভুল ধারণা: আপনার যদি আগে সন্তান থাকে তবে পরবর্তীকালে বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগবেন না।

বাস্তবতা: এটি সঠিক নয়। পুরুষ এবং নারী উভয়ের ক্ষেত্রে একটি সন্তান থাকার পর পরবর্তী সময়ে সন্তান হতে সমস্যা হতে পারে।

ভুল ধারণা: বাড়তি ওজন পুরুষদের বন্ধ্যত্বে কোনো ভূমিকা রাখে না।

বাস্তবতা: যাদের উচ্চতার তুলনায় ওজন বেশি থাকে অর্থাৎ যারা ওজনাধিক্য তাদের বন্ধ্যত্বের সমস্যা হয়। তাই যেসব পুরুষের ওজন বেশি এবং সন্তান হতে সমস্যা হচ্ছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভুল ধারণা: অতিরিক্ত সাইকেল চালনা শুক্রাণুর গুণগত মান ভালো করে।

বাস্তবতা: এটা ঠিক নয়। সাইকেল চালানো শুক্রাণুর পরিমাণ বাড়ায় না। সাইকেল শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে কোনো কাজ করে না।

ভুল ধারণা: বাইকচালকদের সব সময় তাদের সিটের ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত।

বাস্তবতা: বাজে সিট বসতে অসুবিধা করে, তবে শুক্রাণু তৈরিতে কোনো সমস্যা তৈরি করে না।

ভুল ধারণা:  প্রতিদিন যৌনমিলন উর্বরতা বাড়ায়।

বাস্তবতা: কথাটি সঠিক নয়। বরং এটি সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। নারীর ডিম্বাণু মাত্র ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকে। নারীর উর্বরকালে পুরুষের একদিন পরপর টানা এক সপ্তাহ মিলিত হতে হয়। এতে বীর্যের পরিমাণ পর্যাপ্ত থাকে।

০৭-০৬-১৭-০০-১০০