বন্দরনগরীর জলাধারগুলো যাচ্ছে হারিয়ে…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

আইন থাকার পরও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দখল, ভরাট ও দূষণে বিলুপ্ত হচ্ছে পুকুর ও জলাধারগুলো। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, এসব জলাধারের কোনোটিকে পরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে ভরাট করা হচ্ছে, আবার কোনোটিকে দিনদুপুরেই ভরাট করা হচ্ছে। কোথাও আবার চারপাশ থেকে ময়লা আবর্জনা ফেলে বিশাল জলাশয়কে ব্যবহার অনুপযোগী করে মজা (পরিত্যক্ত) পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। নগরীতে পানির সংকট থাকায় এই পানিও মানুষ ব্যবহার করছে।

সিডিএর নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারী বলেন, ‘ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে স্পষ্ট বলা রয়েছে শূন্য দশমিক ২৫ একর (১৫ কাঠা) আয়তনের বড় পুকুর বা জলাশয়ে কোনোভাবে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া যাবে না। অর্থাৎ এসব জলাশয় ভরাট না করার জন্যই এই আইন করা হয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘নগরীতে পুকুর ভরাট কার্যক্রম এখন আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। কোথাও পুকুর ভরাট হলেই লোকজন আমাদের অবহিত করছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ অর্থাৎ, নগরীর যেখানেই পুকুর ও দীঘি ভরাট হচ্ছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে কেউ না কেউ অভিযোগ করছে। তবে মাঝপথে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পুকুর বা জলাশয়গুলো মজা পুকুরে পরিণত হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন। নগরীর জলাশয়গুলোর পানির গুণগত মানমাত্রার অবস্থা প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণাগার পরিচালক মকবুল হোসেন বলেন, ‘নগরীর পুকুর ও জলাশয়গুলোর পানির মানমাত্রা খুবই খারাপ। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক অবস্থা আসকার দীঘির। এই দীঘির পাড়েও দুর্গন্ধ, তারপরও এসব পানি মানুষ ব্যবহার করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রধান জলাশয়গুলোর তালিকা করা হয়েছে। সেসব জলাশয়ের পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে শিগগিরই তা ব্যানার আকারে টাঙ্গিয়ে দেয়া হবে। এতে স্থানীয়রা নিজেই বুঝতে পারবে এই জলাশয়ের পানির অবস্থা কেমন।’

নগরীর মোহাম্মদপুরের বড় পুকুরটি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আরো তিন দফা অভিযোগ দেয়া হয়। ধারাবাহিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পুকুর ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করার উদ্যোগ নেয় এবং এখনো পুকুরটি অর্ধ ভরাট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই অর্ধ ভরাটের মাঝে প্রতিদিন পুকুরের চারপাশ থেকে বর্জ্য ফেলে পুকুরটি প্রায় ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

শুধু মোহাম্মদপুরের বড় পুকুরটি নয়, শুলকবহর মসজিদ পুকুর, ২৫ নম্বর মধ্যম রামপুরার ‘হাজার দীঘি’সহ অসংখ্য জলাশয় ভরাট করার উদ্দেশ্যে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করা হচ্ছে। একই প্রক্রিয়ায় ভরাট চলছে নগরীর আসকার দীঘি, রেলওয়ের জোড় ডেবা, ভেলুয়ার দীঘিসহ নগরীর অন্যতম প্রধান জলাধারগুলো।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নগরীতে পুকুর ও জলাশয় পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলে নগরীতে গরমের তীব্রতাও কম অনুভব হয়। বর্তমানে নগরগুলো হিট চেম্বারে পরিণত হওয়ার পেছনেও রয়েছে এভাবে পুকুর ও জলাশয়গুলো বিলীন হয়ে যাওয়া।

জলাশয় সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী পুকুর-দীঘি ভরাট নিষিদ্ধ। ভূমির রেকর্ডে (আরএস, বিএস) কোনো জলাশয় থাকলে তা কোনোভাবেই ভরাট করা যাবে না। অপরদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) পুকুর ভরাট বন্ধ করার জন্য একটি নির্দেশনা আছে। সে নির্দেশনায় ১৫ কাঠা আয়তনের কোনো বড় জলাশয় কোনোভাবেই ভরাট করা যাবে না বলা হয়েছে।

১৭/৫/২০১৭/০-২৩০-১৭/অ/হা/