বনানী থানার ওসি’র বিরুদ্ধে হয়রানির প্রমাণ মিলেছে…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে আটকে রেখে যে ২ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে বনানী থানার ওসির কর্তব্যকাজে গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ঐ ২ অভিযোগকারীকে থানায় বসিয়ে রেখে হয়রানিও করা হয়েছে। মামলা গ্রহণে গড়িমসি করে আসামিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। বনানীর ওসি ফরমান আলীর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল রোববার ডিএমপি কমিশনারের কাছে রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা ছিল। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়টি জানা সম্ভব হয়নি।

তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন এন্ড ক্রাইম) মিজানুর রহমান। ইতোমধ্যে কমিটি বনানী থানার ওসি ফরমান আলীকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই কমিটিও ইতোমধ্যে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এর মধ্যে ১টি কমিটি মামলা নিতে গড়িমসি, প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ পেয়ে বনানী থানার ওসিকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বনানী থানার ওসি অভিযোগের মৌখিক ও লিখিত জবাব দিয়েছে তদন্ত কমিটিকে।

তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, ওসি ৪ মে ও ৫ মে অভিযোগকারীদের মামলা গ্রহণ করেননি। ৬ মে বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অভিযোগকারী ২ ছাত্রীকে থানায় বসিয়ে রাখেন। রাত ৯টার পর গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ থানায় যান। কেন ১ জন অভিযোগকারীকে ২ দিন ধরে থানায় হয়রানি করা হচ্ছে- অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের এমন প্রশ্নের মুখে ওসি মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ঐদিন রাত ১০টায় ওসি থানায় মামলা গ্রহণ করেন বলে তদন্ত কমিটি তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা এ ব্যাপারে অনেকের বক্তব্য নিয়েছি। বিষয়টির বিভিন্ন দিক আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্তে এ ঘটনায় কারও গাফিলতির প্রমাণ মিললে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এই কমিটির অপর ২ সদস্য হলেন- ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

এছাড়াও ৪ সদস্যের একটি তদন্ত সহায়ক কমিটির প্রধান করা হয়েছে যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়কে। এই কমিটির সদস্যরা হলেন- ডিসি (ডিবি নর্থ) শেখ নাজমুল আলম, ডিসি (উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন) ফরিদা ইয়াসমিন, ডিসি (গুলশান) মুস্তাক আহমেদ।

গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ৬ মে বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের পুত্র সাফাত আহমেদ, ই-মেকার্স বাংলাদেশের মালিক নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম, রেগনাম গ্রুপের পরিচালক সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে আসামি করে ১ জন ছাত্রী মামলা করেন। ১১ মে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫ মে রাতে র‌্যাব এবং ডিবির পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয় গাড়ি চালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী। গত বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার হয় ধর্ষণ মামলার ২ নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম।

২২-০৪-২০১৭-০০-২১০-২২ ম/জা/