প্রেমের দায়ে এ কেমন শাস্তি প্রেমিককে….

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

ভারতের আহমেদাবাদের দরিয়াপুর এলাকার ঘটনা। গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে দেখা করায় প্রেমিককে বিটকেলে এক শাস্তি দেয় তার প্রিয়ার স্বজনরা। মর্যাদাহানির ক্রোধে অন্ধ মেয়েটির স্বজনরা তার মাথা কামিয়ে দেয়।

২৬ বছর বয়সী ওই যুবক যোধপুরের বাসিন্দা, কর্মক্ষেত্র রাজধানী দিল্লিতে। কাছাকাছি করঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জানায়, ওই প্রেমিক এমন ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকৃতি জানান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, আশপাশে ভীড় করা জনতা ওই যুবককে নানা প্রশ্ন করছে।

প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করার ‘অপরাধে’ রবিবারের ওই ঘটনায় বেশকিছু লোক যুবকটিকে ধরে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার মাথা কামিয়ে দেয়।

সোমবার নবভারতটাইমস.কম জানায়, ঘটনার শিকার যুবক যোধপুরের বাসিন্দা। তিনি পাশেই মির্জাপুর এলাকার এক গেস্ট হাউসে উঠেছিলেন। পাশের এলাকায় বসবাসকারী প্রেমিকাকে সাক্ষাতের জন্য ডাকেন গত শনিবার। কিন্তু ঘটনা জেনে যায় মেয়েটির পরিবার এবং পরদিন রবিবার ওই ‘অসুন্দর’ কাণ্ড ঘটায় তারা।

 

করঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর আরজে পান্ডর জানান, ছেলে-মেয়ে উভয়েই মূলগতভাবে যোধপুর এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে গত আড়াই বছর ধরে প্রেম চলছিল।

মেয়েটির পরিবার ছেলেটিকে আগেই হুঁশিয়ার করে দিয়েছিল। তবে তাদের প্রেম বাঁধভাঙা পর্যায়ে ছিল- সব বিধি-নিষেধ উপেক্ষা  করে দিল্লির কর্মস্থল ফেলে যুবক প্রিয়া দর্শনে এসেছিলেন- কিন্তু প্রিয়ার স্বজনরা যা করলো তা কারও কল্পেনাতেও ছিল না। তারা তাকে হত্যা বা মারধর করেনি- কিন্তু যেটা করেছে তা অসহহীয়।

 

একজন প্রেমিকের এভাবে অপদস্থ হওয়ার ঘটনায় মর্মাহত একজন মন্তব্য করেন- সাধারণত, চৌর্যবৃত্তির শাস্তি এভাবে দেওয়া হয়। বোঝা যায় ওই এলাকায় বা ওই পরিবারটির কারও অন্তরে প্রেম বা প্রেমিক-প্রেমিকার প্রতি বিন্দুমাত্র মর্যাদাবোধটাও নেই।

তবে ‘অপদস্থ-অপমানিত’ প্রেমিক এসবের প্রতিক্রিয়ায় দেখিয়েছেন অসাধারণ সংযম আর আত্মমর্যাদার স্বরূপ। তিনি তার ‘লাইলির’ স্বজনদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ জানাতে অস্বীকার করেন।