প্রাইমার কি ও প্রাইমার কেনো ব্যাবহার করবেন…

তৌহিদ আজিজ, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

মেকআপ প্রাইমার বর্তমান সময়ের অনেক জনপ্রিয় একটি নাম। আজকাল দেশী, বিদেশী প্রায় সব বিউটি ব্লগারদের দেখা যায় ফাউন্ডেশন ব্যাবহার করার পূর্বে একটি ভালো মানের প্রাইমার মুখে লাগিয়ে নেয়। আমরা প্রায় সব মেয়েরাই চাই আমাদের মেকআপটি দেখতে যেনো সুন্দর হয়,কিছুক্ষন পর  যেনো  নষ্ট হয়ে না যায়, ঘেমে না যায়, গলে না যায়, ফেটে না যায় বা দেখতে কেকি মনে না হয়। একটি ভালো মেকওভারের পূর্ব শর্ত হচ্ছে বেস মেকআপ। আর ভালো বেস মেকআপ করার  জন্য প্রাইমার এর কোন বিকল্প নেই।

প্রাইমারগুলো ব্যাবহার করতে গিয়ে আপনার কি কখনো জানতে ইচ্ছা হয়েছে প্রাইমারটি কি দ্বারা তৈরি হয়েছে  কিংবা এই প্রাইমারটি ইউজ করার উপকারিতা কি? হ্যাঁ, নিশ্চই হয়তো অনেকবার জানার প্রয়োজন হয়েছে বা জানতেও চেয়েছেন কিন্তু জানা হয়নি। তাই আজ আপনার জন্যই আমার এই লিখা। আজ আমরা জানবো প্রাইমার কি এবং কেনো ইউজ করবো   এছাড়াও প্রাইমারের কিছু গুণগত মান ও উপকারিতা।

প্রাইমার – গুণগত মান ও উপকারিতা

সত্যি বলতে আমি নিজেও যতদিন ব্যাবহার করিনি তখন বুঝতে পারিনি প্রাইমারটি কত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস পারফেক্ট মেকওভারের জন্য। কিছুদিন আগে যখন আমি আমার প্রাইমারটি কিছুদিনের জন্য ব্যাবহার করা বন্ধ রেখেছিলাম তখন আসলে আমি প্রাইমার ব্যাবহারের আগের এবং পরের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। মেকআপ প্রাইমার এমন একটি প্রোডাক্ট যেটি ব্যাবহার করলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন মেকআপকে লং লাস্টিং করার জন্য এটির  ভূমিকা কতটুকু।

প্রাইমারের উপকরণঃ

আসুন জেনে নেই কি কি উপকরণের সংমিশ্রণে তৈরি –

  • সিলিকনঃ সিলিকন ত্বকে প্রতিফলিত আলোকে নিয়ন্ত্রন করেঘ
  • রেটিনাল পালমিটেটঃ এটি ত্বকের ফেটে যাওয়া ভাব দূর করে এবং ত্বককে কোমল করে
  • প্রপিলেন গ্লিসলঃ ত্বককে প্রয়োজনীয় মইশ্চারাইজার সরবরাহ করে
  • ওয়াক্স এন্ড পলিমারঃ মেকআপকে লং লাস্টিং করতে সাহায্য করে। মেকআপ গলে যায় না, ফেটে যায় না বা কেকি ভাব মনে হয় না
  • সাইক্লোমেথিকনঃ এটি ত্বকের সিলিকন গ্রীজ বা চর্বি জাতীয় পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে
  • জিঙ্ক অক্সাইডঃ ত্বকের বাহিরের ইউভিএ বা ইউভিবি রশ্মি শোষণ করে নিয়ে ফুল কাভারেজ দিতে সহায়তা করে
  • টাইটেনিয়াম ডাইওক্সাইডঃ ত্বককে বাইরের ক্ষতিকর ইউভিএ বা ইউভিবি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে

 

মেকওভারের জন্য মুখে ফাউন্ডেশন দেয়ার পূর্বে প্রাইমার লাগানো হয়। এটি সাধারণত ব্যাবহার করা হয় স্কিনকে মেকআপের জন্য প্রস্তুত করে নিতে। অনেক সময় দেখা যায় মুখে ফাউন্ডেশন, ফেস পাউডার এসব ব্যাবহার করার পরে মনে হয়  মেকআপটি কেমন ভেসে আছে। তার প্রধান কারণ ফাউন্ডেশনটি স্কিনের সাথে ভালো ভাবে মিশে না যার ফলে এটিকে দেখতে  আলাদা একটি মাস্ক মনে হয়।এটি ফাউন্ডেশন সহ অন্যান্য উপকরণ গুলো কে স্কিনের সাথে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে।

প্রাইমারের উপকারী দিক

প্রাইমার ব্যাবহারের বেশ কয়েকটি উপকারী দিক রয়েছে। ইতোমধ্যে যে কয়েকটি কারণে প্রাইমার এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মেকআপ প্রেমীদের কাছে আসুন জেনে নি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম কয়েকটি কারণঃ

  • ত্বককে কোমল করে
  • নরম করে
  • ত্বকের পোরগুলোকে ছোট করে
  • মেক আপকে দেখতে নেচারাল মনে হয়
  • এন্টি এজিং
  • নন- কমেডোজেনিক, মানে ফেটে যায় না
  • ইজি টু এপ্লাই
  • লাইট ওয়েট
  • মেক আপ দীর্ঘ সময় স্টে করে
  • রিডিউস রেডনেস
  • ব্রণ গুলো কে হাইড করে

মেকআপ প্রাইমারের ব্যবহারে ত্বকের পোর গুলোকে ছোট করে দেয়, ত্বকের উপর একটি স্মুথ টেক্সচার তৈরি করে, ত্বকের অতিরিক্ত তেল গুলোকে শোষণ করে নেয়, ত্বককে দেখতে মসৃণ করে।সাধারণত ফাউন্ডেশন, লিপ্সটিক, মাশকারা, আইশেডো এমন কি নেইল পলিশ লাগানোর আগে প্রাইমার ব্যাবহার করা হয়।

তাই কিনার আগে অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ডের দেখে কিনবেন।এটি আপনার ত্বকে এন্টি এজিং হিসেবে কাজ করবে। অনেকের মুখে রেডনেস থাকে,তিল থাকে, অনেক রকম দাগ থাকে। প্রাইমার এই দাগ গুলোকে হাইড করতে সাহায্য করে। এছাড়া দেখা যায় ফাউন্ডেশন লাগানোর কিছুক্ষন পরে মেক আপ ফেটে যায় বা দেখতে কেকি ভাব হয়। প্রাইমারের মদ্ধে থাকে প্রয়োজনীয় এন্টি অক্সিডেন্ট এবং মিনারেল যা ত্বককে মইশ্চারাইজ করে, প্রয়োজনীয় নিউট্রিশন যোগায়। আপনি আপনার ত্বকের ধরণ বুঝে প্রাইমার নির্বাচন করতে পারেন। বাজারে এখন বিভিন্ন রকম প্রাইমার কিনতে পাওয়া যায়। যেমন, ওয়াটার বেজ প্রাইমার, মিনারেল বেজ , নেচারাল , অয়েল ফ্রি , সুগন্ধী-ফ্রি ইত্যাদি। ফুল কাভারেজ মেকআপের জন্য প্রাইমার এর কোন বিকল্প নেই।

২/৫/২০১৭/১৬০/