পরিবেশবান্ধব পাটের পলিব্যাগ আসছে বাজারে…

মাহামুদ তাহের, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

পলিথিনের ব্যবহার ঠেকাতে পাট দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাতলা পলিব্যাগ। যা দেখতে বাজারে প্রচলিত পলিথিনের ব্যাগের মতো। এগুলো ব্যবহারের পর ফেলে দিলে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে এবং পানিতে ফেললে পচে যাবে। পুড়িয়ে ফেললে ছাই হয়ে হবে।
পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাটের পলিব্যাগ উৎপাদন শুরু হবে। দুই-তিন মাসের মধ্যে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আনা হবে।

তিনি আরো বলেন, বাজারে যে পলিথিন ব্যাগ আছে তার চেয়ে পাটের পলিব্যাগ দেড় গুণ বেশি টেকসই। ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ পাওয়া যাবে পাটের ব্যাগে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) তত্ত্বাবধানে পথিলিনের বিকল্প পাটের তৈরি পলিব্যাগ উদ্ভাবন করেছে বিজেএমসির প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. মোবারক আহমেদের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী।
পলিথিনের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন মোড়ক তৈরিতে ব্যবহৃত হবে। তারা বর্তমানে এই ব্যাগ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তৈরি করেছেন। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আসার পর বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা হবে।
পাটের তৈরি পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ বাজারে এলে এই ক্ষতিকর প্রচলিত পলিথিনের ব্যবহার কমবে বলে ধারণা করছে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পাটের তৈরি পলিব্যাগ মাটিতে ফেললে তা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। দূষিত হবে না পরিবেশ। পাটের ব্যাগ দামে সাশ্রয়ী হবে। পাটের ব্যবহার বাড়লে ন্যায্য দাম পাবেন কৃষক। বিগত দিনের মতোই পাট দিয়েই বিশ্বে সুপরিচিত হবে বাংলাদেশ।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, বর্তমান সরকার কাঁচা পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বড়ানো এবং পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন বর্জনের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

১২-০৬-১৭-০০-১১০