এপ্রিল 06

নষ্ট হচ্ছে সোনার ফসল, কাটছে আধা পাকা ধান…

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওড় জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওড়ের তিনটি বেড়িবাঁধ ভেঙে হাওড়ে পানি প্রবেশ করছে। ফলে হাওড়ের ১২ হাজার হেক্টরের ফসল পানিতে ডুবে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। হাওড় পাড়ের কৃষকরা জানান, গত শনিবার ভোর রাতে উপজেলার প্রধান নলুয়া হাওড়ের ডুমাখালি, শালিকা ও মাচ্ছুয়াখালি বেড়িবাঁধ ভেঙে হাওড়ে পানি ঢুকে হাওড়ের কাঁচা, আধা পাকা ফসল তলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গত দুদিন ধরে কৃষকরা প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি তাদের কষ্টার্জিত ফসল।

চোখের সামনে কষ্টার্জিত সোনালি ফসল তলিয়ে যাওয়ার করুণ দৃশ্য দেখতে হচ্ছে কৃষকদের। সরেজমিন হাওড় পরির্দশনকালে স্থানীয় কৃষকরা গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট অভিযোগ করে বলেন, এবার হাওড় রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণে পাউবোর কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এবং বাঁধে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় কৃষকের সোনার ফসল পাকার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া হাওড়ের অনেক ঝুঁকিপূর্ণ স্পটে মাটি ফেলা হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থের সিকিভাগ কাজ না হওয়ায় অকাল বন্যার আগেই তলিয়ে গেল হাওড়ের ফসল।

যে সব এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে হাওড়ে পানি ঢুকেছে সেই পিআইসি কমিটির সভাপতি সুজাত মিয়া মেম্বারের বিরদ্ধেও কৃষকদের বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেছেন।

হাওড় পাড়ের কৃষক ভূরাখালি গ্রামের সাইদুর রহমান জানান, আমরা গত বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার সকাল পর্যন্ত নলুয়া হাওড়ের ফসল রক্ষার জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কাজ করেছে। হাওড়ে বাঁধ ভাঙন দেখা নিলে সিআইসি কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সুজাত মিয়াকে আর দেখা যায়নি। তিনি বলেন, নলুয়া হাওড়ে এবছর তিনি ১২ কেদার জমিনে চাষাবাদ করেছেন। ফসল পাকার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে। গত বছরও ফসল পাইনি। কী কররো এখন চোখে পথ দেখছি না। আরেক কৃষক ছায়াদ মিয়া জানান, এবছর তিনি নলুয়া হাওড়ে ৪ হাল জমিতে আবাদ করেন। এখনো জমিনের ফসল পাকেনি। আধা কাঁচা রয়েছে। ধান পাকার আগেই বাঁধ ভেঙে খেতের সব সফল তলিয়ে গেছে। গত বছর শিলাবৃষ্টিতে ফসল ঘরে তুলতে পারিনি।

সারাবছরের সংসারের যোগান কী করে যোগাব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া নলুয়ার হাওড় তলিয়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাওড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার ও কান্না দেখা দিয়েছে। গত বছরও হাওড় রক্ষা করা যায়নি। তিনি যে স্পর্টে পানি প্রবেশ করেছে সেই স্পর্টের বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার ও একটি পিআইসির কাজের গাফলাতির কথা স্বীকার করেন। জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা স্বীকার করে বলেন, শত চেষ্টা করেও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো রক্ষা করা গেল না। বাঁধ ভেঙে হাওড়ের ফসলহানি ঘটেছে।

তিনি বলেন, পিআইসির লোকজনদের পাওয়া গেলেও ঠিকাদারদের কোনো হদিস মিলেনি। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পিআইসি ও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার জানান, এবছর নলুয়া হাওড়সহ উপজেলার ছোটবড় ১৫টি হাওড়ে ২৫ হাজার হেক্টর ফসলের চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে নলুয়া হাওড়ে ১০ হাজার হেক্টর ফসলের আবাদ করা হয়েছে।

 

৬/৪/২০১৭/১১০/তৌ/আ/