দেবর ভাবীর পরকীয়ার বলি গৃহবধূ পলি…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

দেবর-ভাবীর অবৈধ সম্পর্ক ঠিক রাখতে যৌতুকের অজুহাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় গৃহবধূ পলিকে। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার চর সাংগর গ্রামে রাতে এঘটনা ঘটে।

সোমবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিএমএসএফ’র অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন নিহত পলির বাবা দিনমজুর আবুল কালাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পলির চাচা নজরুল ইসলাম, দুলাভাই আবুল বাশার ও ভাই মো. সোহরাব হোসেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পলি বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে জামাতা মিঠু, শ্বশুর হালিম, শ্বাশুরি আকলিমা ও ঝা লিপি বেগম। ২০১৬ সালের ঈদুল ফিতরের পরে আব্দুল হালিমের পুত্র মিঠু মৌলভীর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর ৩ থেকে ৪ মাস দাম্পত্য জীবন সুখ- শান্তিতেই কেটেছিল। কিন্তু আমার মেয়ের ভাসুরের বৌ লিপি বেগমের সাথে আমার মেয়ের জামাই মিঠু মৌলভীর অবৈধ সম্পর্ক থাকায় মাঝে মধ্যে পলি বেগমের সংসারে ঝগড়া লেগে থাকত। যা পলি তার বাবাকে জানাতো।

মিঠু ও তার শ্বশুর-শ্বাশুরী পলি বেগম’র পিতা’র কাছ থেকে একলাখ টাকা  যৌতুক বাবদ আনার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলো। পলির বাবা দিনমজুর হওয়ায় টাকা দিতে না পারায় পলি বেগমের স্বামী মিঠু পলিকে ডিভোর্স দিয়া যেতে বলেন।

স্বেচ্ছায় ডিভোর্স না দিলে, স্বামী’র বাড়ি থেকে একদিন  লাশ হয়ে যেতে হবে বলেও হুমকি দেয় মিঠু ও তার পিতা আব্দুল হালিম। পলির বাবা আবুল কালামের পক্ষে এত টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় পলি বেগমকে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস যাবৎ পিত্রালয়ে রাখা হয়েছিল।

মুঠোফোনে জানাতো যে দিন টাকা দিতে পারবি সেদিন স্বামীর বাড়িতে আসবি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কুমতলব করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার মেয়ে পলিকে হত্যার করার জন্য পিঠা খাওয়ানোর উদ্দেশ্য করে গত ৬ই জুন স্বামীর বাড়িতে নিয়া যায়। পরে ৭ই জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টা থেকে ২ টার মধ্যে পলি বেগম’র স্বামী মিঠু, শ্বশুর আব্দুল হালিম, শ্বাশুরী আকলিমা বেগম এবং ঝাঁ লিপি বেগম পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পরে তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য রাত ৩ টার সময় পলি’র বাবা আবুল কালামের কাছে পলির শ্বাশুড়ী আকলিমা মোবাইল (০১৮৩১৯২৮২৫৩) ফোনের মাধ্যমে জানায় যে, আপনার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আপনি টেম্পো নিয়ে এসে আপনার মেয়ে পলিকে নিয়ে যান। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় সকাল ৫ টায় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে উপস্থিত হইয়া দেখতে পায় তার মেয়ের মৃত দেহ খাটের উপর শোয়ানো আছে।

এ অবস্থা দেখে আবুল কালাম অসুস্থ হয়ে পড়ে আর  মেয়ের শ্বশুর বাড়ির পক্ষ জানায় যে, মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার মেয়ে আত্মহত্যা করার মত মন মানসিকতা কখনও  ছিল না।

নিহত পলি বেগমের বাবা আবুল কালামের ধারণা মিঠুর বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে মিঠুর অবৈধ সম্পর্ক থাকার কারনে পথের কাটা হিসাবে ছিল তার মেয়ে। তাই পলি বেগমকে দুনিয়া থেকে সরানোর জন্যই  পলি’র স্বামী মিঠু ও তার স্বপরিবারে মিলিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচার করিয়া বেড়াইতেছে।

এদিকে গত ৮ ই জুন পলি বেগম’র শ্বাশুরি আকলিমা বেগমকে রাজাপুর থানায় ধরে এনে কিছুক্ষন পর পুলিশ রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করে সন্তান শোকে কাতর আবুল কালাম।’’

ম-জা ১৩-০-১৭-০০-৪০