‘থোড় আসা’ শুরু, কৃষক শেষ….

অপূর্ব হাসান, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

সুনামগঞ্জসহ ভাটি অঞ্চলের হাওরপাড়ের কৃষকদের একমাত্র ফসল বোরো ধান। বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে ধান পাকা ও কাটা শুরু হয়। গোলা ভরে ওঠে সোনালী ধানে।

এবার এখনো বৈশাখ আসেনি। চৈত্রের শেষ পর্যায়। গাছগুলোতে ধান মাত্র বের হচ্ছে। স্থানীয়রা যাকে বলে ‘থোড় আসা।’ অর্থাৎ মাত্র থোড় আসছে। আর এর মধ্যেই হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। সর্বস্বান্ত হলো কৃষক। প্রতিটা গৃহস্থ পরিবার হলো একবারে নিঃস্ব।

বছরের ৬ মাস তলিয়ে থাকে হাওরের জনপদ। বাকি ৬ মাস ফসল বলতে এই বোরো ধান,। যা হয় তা দিয়ে চলে খাওয়াদাওয়াসহ সংসারের যাবতীয় কাজ।

কিন্তু এবার এক ছটাক ধানও গৃহস্তের ঘরে উঠবে না। সব তলিয়ে গেছে।

তাহলে সারা বছর এখানকার মানুষ খাবে কি,বাঁচবে কিভাবে?

কৃষির বিকল্প যাদের আছে তারা হয়তো বেঁচে যাবে। কিন্তু যারা শুধু এক ফসলের ওপর নির্ভরশীল তাদের বেঁচে থাকার পথ কি? আজকের উনুন চড়ানোর মতো পরিস্থিতিও তো নেই। ধান-চাল কিনতেও তো পাওয়া যাবে না।

আমরা স্পষ্ট জানি হাওর পারের কৃষকদের এই পরিণতির জন্য কারা দায়ী।। জন্ম অবধি দেখে আসছি অকাল বন্যায় হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়া আর কৃষকের আহাজারি।

কিন্তু স্বাধীনতার এই ৪৫ বছর পরও তা চলবে কেনো? হাওরের বাঁধ সময়মতো দেয়া হয় না কেনো? স্থায়ী বাঁধই বা হয় না কেনো? বাঁধ নির্মাণের নামে জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার চুরি লুটপামাণে, তার বিচার হয় না কেনো?

এর জবাব কে দেবে? কার কাছে পাবো?

এই হাওর জনপদের মানুষ আজ রাষ্ট্রপ্রধান। মহামান্য রাষ্ট্রপতির এলাকার হাওরও ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে ফসল।
এবার দেখতে চাই হাওরের কৃতি পুরুষ মহামান্য রাষ্ট্রপতি হাওরের কৃষকদের জন্য কি ভূমিকা নেন।

হাওর পারের মানুষের শুধু বেঁচে থাকার জন্য এখন সাহায্য-সহায়তা দরকার। কিন্তু এ দাবি আমার দ্বিতীয় দফা। এর আগে, প্রথম দফায় বিচার চাই সেই জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদারদের,যারা কৃষকের স্বপ্ন লুট করেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রিও হাওর জনপদের মানুষ। তাঁর কাছেও দাবি তিনি যেনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেন সেই দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার,পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ চাকরদের বিরুদ্ধে।

পরতিবছর বাঁধ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা আসে। সেই টাকা কার কার পকেটে কিভাবে যায়, তা খুঁজে বের করুক দুর্নীতি দমন কমিশন। আর হাওর জনপদের মানুষ অবাঞ্ছিত ঘোষণা করুক সেই দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধিকে,যে কৃষকের রক্ত শুষে খায়।

এবার একটা বিহিত হোক। জেগে উঠুক হাওরপাড়ের মানুষ।

১০/৪/২০১৭/১৯০/অ/হা/