তীব্র সংকটে সেন্টমার্টিনবাসী…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

ঘূর্ণিঝড় মোরা মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিক থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এটি কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দ্বীপের ১০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। সেখানেও খাবার ও বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থাই নেই। চরম দুর্ভোগে পড়েছে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষ।

সেন্টমার্টিন বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ ওয়াসিম বলেন, দ্বীপের একমাত্র সাইক্লোন সেন্টারটি জরাজীর্ণ। তাই ১০ শয্যার হাসপাতালে ১ হাজার ২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া দ্বীপের সেনচুর, অবকাশ, ব্লু মেরিন হোটেল, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ও আবহাওয়া অফিসে ৪-৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালটিতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আলী আকবর (৯০) বলেন, হঠাৎ করে ৭ নম্বর থেকে ১০ নম্বর মহা বিপৎসংকেত দেখা দেওয়ায় দ্বীপের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আমার এই বয়সে কোনো সময় আমি এমন পরিস্থিতির শিকার হইনি। এখন জীবনের মায়ায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি দ্বীপের জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে। পরিবার-পরিজন, এলাকাবাসীসহ প্রায় ৩০০ মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছি।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দ্বীপের চারদিকে কোনো ধরনের বেড়িবাঁধ না থাকায় মানুষ বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সোমবার সকাল থেকেই টেকনাফের সঙ্গে সেন্টমার্টিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই দ্বীপে বসবাসরত লোকজনের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানি টেকনাফ থেকে আনতে হয়। হঠাৎ করে সিগন্যাল (বিপৎসংকেত) হওয়ায় তা অনেকে মজুত করতে পারেননি। তাই এখানে খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

৩১-০৫-২০১৭-০০-১০-৩১-মনির জামান