জব্দকৃত সোনা নিলামে বিক্রি…

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি পূরণ ও সোনার বৈধ উৎসের সরবরাহ বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে জব্দকৃত সোনা নিলামে বিক্রি করতে উদ্যোগ নিচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ওই অনুরোধ করার পাশাপাশি আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ এর অনুচ্ছেদ ২৬ (২২) অনুযায়ী বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সোনা  আমদানির সুযোগ সৃষ্টিতে অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিএফআইইউ) ডেপুটি গভর্নর বরাবর পাঠানো চিঠি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের (বাজুস) পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বৈধভাবে সোনা সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাজুসের নেতারা এনবিআরের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক আলোচনা করেছেন। সোনা চোরাচালানবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাগেজ রুলের আওতায় শুল্ককরাদি পরিশোধ সাপেক্ষে ২৩৪ গ্রাম বা প্রায় ২০ ভরি সোনা আনার সুযোগ রয়েছে। এভাবে প্রতি ভরিতে ৩০০০ টাকা শুল্ক দিয়ে সোনা আনছেন যাত্রীরা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক চোরাচালানের দায়ে আটক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাকৃত এবং পরবর্তীতে বাজেয়াপ্ত সোনা নিলামে বিক্রয় করার বিধান রয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্তকৃত সোনার নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে এ সব সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে জমা পড়ে রয়েছে। সোনা ব্যবসায়ীদের দাবি দেশের ভিতরের কোন উৎস হতে বৈধ সোনা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তারা ব্যবসায় ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছে।

 

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সোনা নিষিদ্ধ কোনো পণ্য নয়। আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ এর অনুচ্ছেদ ২৬ (২২) অনুযায়ী বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সোনা আমদানির স্পষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে ওই আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী এ ধরনের অনুমতি সহসা পাওয়া যাচ্ছে না এবং তারা বিভিন্ন প্রশ্নের সন্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়ে আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈধ ও অবাধে সোনা সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে শুল্ক গোয়েন্দা এবং অন্যান্য সংস্থা কতৃক বাজেয়াপ্তকৃত সোনা দ্রুত ও নিয়মিতভাবে নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আমদানি নীতি অনুযায়ী বাণিজ্যিভাবে আমদানির অনুমতির আবেদন ইতিবাচকভাবে দেখে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হলে সোনা ব্যবসায়ে অসাধুতা রোধ হবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে মহাপরিচালক মইনুল খান  বলেন, চোরাচালান বন্ধের জন্য আমরা আটক করা সোনার নিলাম করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে উদ্যোগ নিতে বলেছি। এ ছাড়া সোনা আমদানিতে ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে অনুমোদন পান, সেটি নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশ ব্যাংককে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে আরো জানা যায়, গত প্রায় ৪ বছরে (৪৬ মাসে) দেশের প্রধান দুই বিমানবন্দর চট্টগ্রাম হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ১০১ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। সেই সঙ্গে সোনাসহ ১৪৪ জন চোরাচালানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব সোনার দাম প্রায় ৫২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
তথ্যানুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে দেশে অবৈধ পথে সোনা আমদানির পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। মিথ্যা ঘোষণায় অবৈধ পথে সোনা আমদানির ব্যাপকতা ঠেকাতে তৎপর হয়ে উঠে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

৪৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় চালান ও বেশি সোনা জব্দ হয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে। এ অর্থবছরে প্রায় ৫৬৫ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। এ সব সোনার মূল্য প্রায় ২৫৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৩৬৪ কেজি সোনা জব্দ হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জব্দ করা হয় প্রায় ১২১ কেজি সোনা। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-১৬ থেকে এপ্রিল-১৭) প্রায় ৫০ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দারা। জব্দকৃত সোনার দাম ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে প্রায় ১১৫ মণ সোনা জমা আছে। এর অর্ধেকেরই মালিকানা কেউ দাবি করেনি। বাকি কিছু অংশের মালিকানা নিয়ে মামলা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশেষ ২০০৮ সালে নিলামের মাধ্যমে আটক করা সোনা বিক্রি করেছিল।

জুয়েলার্স সমিতি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জুয়েলার্স সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০০। এর বাইরে হাজার দশেক জুয়েলার্স আছে সারা দেশে। ব্যবসায়ীদের সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে ডিলিং লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করার বিধান আছে। শুধু তাঁতীবাজারে দুই’শর বেশি পোদ্দার রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার ভরি সোনা কেনাবেচা হয়। এ সোনার একটি অংশের জোগান আসে পুরোনো অলঙ্কার গলিয়ে ও ব্যাগেজ রুলসের অধীনে। তবে বড় অংশই আসে অবৈধ পথে।

১৮/৫/২০১৭/০-৮০-১৭/ম/জা/